১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, মঙ্গলবার, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তান ম্যাচের আগে বাবা তৌসিফকে স্মরণ শামির

পুবের কলম প্রতিবেদক: বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৬ উইকেটে জিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির নবম সংস্করণে নিজেদের অভিযান শুরু করল ভারত। আর দুবাইয়ে এই ম্যাচে পাঁচটি উইকেট নিয়ে একাধিক বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন মুহাম্মদ শামি। প্রায় ১৪ মাস পরে আইসিসি ইভেন্টে খেলছেন তিনি। আর প্রথম ম্যাচেই বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি কতখানি ফিট এবং কতটা আগুনে পারফরম্যান্স করতে পারেন। বয়স ৩৪। গৌতম গম্ভীরের গুডবুকে ইদানিং খুব একটা নেই শামি। বুমরাহ না থাকায় ইচ্ছে না থাকলেও কার্যত বাধ্য হয়েই শামিকে এক নম্বর বোলার হিসেবে বেছে নিতে হয়েছে গৌতম গম্ভীরকে। কারণ এই জায়গায় তিনি শামিকে বাদ দিয়ে দল নির্বাচন করলে ঘরে বাইরে সমালোচনার ঝড় তো বইতই, গৌতির চাকরিটা থাকত কিনা সন্দেহ আছে। কিন্তু গম্ভীরের অপছন্দের সেই শামিই বোঝাচ্ছেন আইসিসি ইভেন্টে তিনি কেন অনবদ্য।

আগের দিন পাঁচটি উইকেট নিয়ে শামি চুম্বন ছুড়েছিলেন। অনেকেই বুঝতে পারেননি, এটি তিনি কার উদ্দেশ্যে ছুড়লেন। পরে শামি নিজেই জানিয়েছেন, তাঁর মরহুম পিতার উদ্দেশ্যে ভালোবাসার এই অকৃত্রিম নিদর্শন। ২০১৭ সালে হঠাৎ করেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় শামির পিতা তৌসিফ আলির। শামি ক্রিকেট খেলবেন, বিশ্বের বুকে নিজের নাম উজ্জ্বল করবেন, এটাই ছিল শামির পিতা তৌসিফের স্বপ্ন।

 

শামি তাঁর পিতার স্বপ্ন পূরণ করেছেন। গোটা বিশ্ব তাঁর বোলিংয়ে মুগ্ধ। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও আইসিসি ট্রফি তাঁর ঝুলিতে ঢোকেনি। গতবার আহমেদাবাদ স্টেডিয়ামে হাতের তালু থেকে বেরিয়ে গিয়েছে একদিনের বিশ্বকাপ। এবার তাই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিটা হাতে তুলতে মরিয়া শামি। প্রতিটা ক্ষণে তিনি বাবাকে খুব মিস করেন। তাই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পাঁচটি উইকেট নেওয়ার পর আর নিজের আবেগ লুকিয়ে রাখতে পারেননি। বললেন, ‘বাবা আমার আদর্শ। তাঁর জন্যেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিটা জিততে চাই।’

শনিবারের রাত পেরোলেই রবিবাসরীয় দুপুরে ভারত খেলতে নামবে বিশ্বের সবচেয়ে হাই ভোল্টেজ ম্যাচে। আর ভারত-পাক মহারণের আগে এতটুকুও চাপে নেই মুহাম্মদ শামি। বলছেন, ‘আইসিসি প্রতিযোগিতায় একজন বোলারের কাছ থেকে রান যাবে, এটা স্বাভাবিক। তার মধ্যেই চেষ্টা করি ধারাবাহিক ছন্দে বোলিং করে উইকেট তোলার। জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে  প্রতিদিন আট ঘন্টা করে অনুশীলন করে গিয়েছি।’

 

কিন্তু সামনে পাকিস্তান ম্যাচ। শামি কি ভাবছেন? ভারতী স্পিড স্টারের উত্তর, ‘একটা ম্যাচ জেতার পর বাকি ম্যাচগুলো আলাদা হয়ে যায় না। মানসিকতা একই রেখে খেলে যাওয়ার চেষ্টা করি। পাকিস্তান ম্যাচ আমাদের কাছে আলাদা কোনও ম্যাচ নয়। এটা মাথায় রাখতে হবে, আমরা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মতো একটি আইসিসি ট্রফির দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে যাচ্ছি। জিতলে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করতে পারব। ব্যাস, এটাই আমার মনে রয়েছে।’

ট্যাগ :
প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.
সর্বধিক পাঠিত

শিক্ষিত বেকারে ছেয়ে যাচ্ছে ভারত, বছরের শুরুতেই বেকারত্বের হার বেড়ে ৫ শতাংশে

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

পাকিস্তান ম্যাচের আগে বাবা তৌসিফকে স্মরণ শামির

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, শুক্রবার

পুবের কলম প্রতিবেদক: বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৬ উইকেটে জিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির নবম সংস্করণে নিজেদের অভিযান শুরু করল ভারত। আর দুবাইয়ে এই ম্যাচে পাঁচটি উইকেট নিয়ে একাধিক বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন মুহাম্মদ শামি। প্রায় ১৪ মাস পরে আইসিসি ইভেন্টে খেলছেন তিনি। আর প্রথম ম্যাচেই বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি কতখানি ফিট এবং কতটা আগুনে পারফরম্যান্স করতে পারেন। বয়স ৩৪। গৌতম গম্ভীরের গুডবুকে ইদানিং খুব একটা নেই শামি। বুমরাহ না থাকায় ইচ্ছে না থাকলেও কার্যত বাধ্য হয়েই শামিকে এক নম্বর বোলার হিসেবে বেছে নিতে হয়েছে গৌতম গম্ভীরকে। কারণ এই জায়গায় তিনি শামিকে বাদ দিয়ে দল নির্বাচন করলে ঘরে বাইরে সমালোচনার ঝড় তো বইতই, গৌতির চাকরিটা থাকত কিনা সন্দেহ আছে। কিন্তু গম্ভীরের অপছন্দের সেই শামিই বোঝাচ্ছেন আইসিসি ইভেন্টে তিনি কেন অনবদ্য।

আগের দিন পাঁচটি উইকেট নিয়ে শামি চুম্বন ছুড়েছিলেন। অনেকেই বুঝতে পারেননি, এটি তিনি কার উদ্দেশ্যে ছুড়লেন। পরে শামি নিজেই জানিয়েছেন, তাঁর মরহুম পিতার উদ্দেশ্যে ভালোবাসার এই অকৃত্রিম নিদর্শন। ২০১৭ সালে হঠাৎ করেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় শামির পিতা তৌসিফ আলির। শামি ক্রিকেট খেলবেন, বিশ্বের বুকে নিজের নাম উজ্জ্বল করবেন, এটাই ছিল শামির পিতা তৌসিফের স্বপ্ন।

 

শামি তাঁর পিতার স্বপ্ন পূরণ করেছেন। গোটা বিশ্ব তাঁর বোলিংয়ে মুগ্ধ। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও আইসিসি ট্রফি তাঁর ঝুলিতে ঢোকেনি। গতবার আহমেদাবাদ স্টেডিয়ামে হাতের তালু থেকে বেরিয়ে গিয়েছে একদিনের বিশ্বকাপ। এবার তাই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিটা হাতে তুলতে মরিয়া শামি। প্রতিটা ক্ষণে তিনি বাবাকে খুব মিস করেন। তাই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পাঁচটি উইকেট নেওয়ার পর আর নিজের আবেগ লুকিয়ে রাখতে পারেননি। বললেন, ‘বাবা আমার আদর্শ। তাঁর জন্যেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিটা জিততে চাই।’

শনিবারের রাত পেরোলেই রবিবাসরীয় দুপুরে ভারত খেলতে নামবে বিশ্বের সবচেয়ে হাই ভোল্টেজ ম্যাচে। আর ভারত-পাক মহারণের আগে এতটুকুও চাপে নেই মুহাম্মদ শামি। বলছেন, ‘আইসিসি প্রতিযোগিতায় একজন বোলারের কাছ থেকে রান যাবে, এটা স্বাভাবিক। তার মধ্যেই চেষ্টা করি ধারাবাহিক ছন্দে বোলিং করে উইকেট তোলার। জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে  প্রতিদিন আট ঘন্টা করে অনুশীলন করে গিয়েছি।’

 

কিন্তু সামনে পাকিস্তান ম্যাচ। শামি কি ভাবছেন? ভারতী স্পিড স্টারের উত্তর, ‘একটা ম্যাচ জেতার পর বাকি ম্যাচগুলো আলাদা হয়ে যায় না। মানসিকতা একই রেখে খেলে যাওয়ার চেষ্টা করি। পাকিস্তান ম্যাচ আমাদের কাছে আলাদা কোনও ম্যাচ নয়। এটা মাথায় রাখতে হবে, আমরা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মতো একটি আইসিসি ট্রফির দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে যাচ্ছি। জিতলে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করতে পারব। ব্যাস, এটাই আমার মনে রয়েছে।’