১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, মঙ্গলবার, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এসআইআর শুনানিতে ডাক পেয়ে জমির সার্টিফায়েড কপির হিড়িক বাংলাজুড়ে

 

এসআইআর (Special Intensive Revision) শুনানিতে ডাক পেয়ে চরম সমস্যায় পড়ছেন হাজার হাজার ভোটার। সামান্য নামের গরমিল, পারিবারিক নথির অভাব কিংবা সম্পর্ক প্রমাণের জটিলতায় বহু মানুষ এখন ‘সন্দেহজনক ভোটার’-এর তালিকায় উঠে আসছেন। ফলস্বরূপ, ভোটাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে নথির খোঁজে ছুটতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
সম্প্রতি এমনই এক ঘটনা সামনে এসেছে—এক যুবক এসআইআর শুনানিতে নোটিস পান, কারণ তাঁর বাবা বহু বছর আগে মারা গিয়েছেন এবং মা বিয়ের পর নিজের পদবি পরিবর্তন করেননি। ফলে তাঁকে ‘সন্দেহজনক ভোটার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এখন প্রমাণ করতে হবে, তিনিই তাঁর মায়ের সন্তান। অথচ প্রায় ৪০ বছর আগে জন্ম হওয়ায় তাঁর কাছে নেই জন্ম শংসাপত্র। বাড়ির জমির দলিলে মায়ের সঙ্গে তাঁর নাম থাকার কথা জানা গেলেও সেই নথি আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত একমাত্র ভরসা—জমির দলিলের সার্টিফায়েড কপি।
এই ঘটনা একা নয়। রাজ্য জুড়ে হাজার হাজার ভোটার এখন নিজেদের নাগরিকত্ব ও পারিবারিক সম্পর্ক প্রমাণ করতে দলিলের সার্টিফায়েড কপির উপর নির্ভর করছেন। যার জেরে গত তিন মাসে সার্টিফায়েড কপি তোলার হিড়িক পড়ে গিয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, নভেম্বর, ডিসেম্বর এবং জানুয়ারি—এই তিন মাসে প্রায় আড়াই লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। সাধারণত প্রতি মাসে যেখানে ৪০ থেকে ৫০ হাজার আবেদন আসে, সেখানে এই সময়ে গড়ে প্রায় ৮০ হাজার আবেদন জমা পড়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, অক্টোবর মাসে যেখানে আবেদন ছিল ৫৩,৬২৯টি, সেখানে নভেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৯,৬৮১। ডিসেম্বর মাসে ৮৬,৯৭২ এবং জানুয়ারিতে প্রায় ৭০ হাজার আবেদন জমা পড়ে। প্রশাসনের মতে, জমি ক্রয়-বিক্রয় ছাড়াও অন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণেই এত বিপুল সংখ্যক মানুষ সার্টিফায়েড কপি তুলছেন—যার অন্যতম কারণ এসআইআর শুনানি।
নামের বানানে সামান্য অমিল থাকলেই ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’-র তালিকায় নাম উঠে যাচ্ছে, যা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের এক আধিকারিকের কথায়, এই পরিস্থিতিতে মানুষ কার্যত দিশেহারা। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নথির তালিকায় থাকুক বা না থাকুক, শুনানিতে ডাক পেলে যে কোনও নথি জোগাড় করতে মরিয়া হয়ে উঠছেন ভোটাররা।

মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড, রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট, ডোমিসাইল সার্টিফিকেট—একাধিক নথি নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই দলিলের সার্টিফায়েড কপি হাতে পেয়ে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন মানুষ। এই নথির মাধ্যমেই তাঁরা বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক প্রমাণ করে ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই চালাচ্ছেন।
চাইলে এটিকে আরও সংক্ষিপ্ত নিউজ ভার্সন, হেডলাইন-ফোকাসড কাটডাউন, বা ডিজিটাল পোর্টালের জন্য SEO-ফ্রেন্ডলি ফরম্যাটে সাজিয়ে দিতে পারি।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

বাংলাদেশে ইতিহাসের প্রথম ‘জেন-জি প্রভাবিত’ নির্বাচন! তরুণ ভোটেই নির্ধারিত হতে পারে ক্ষমতার সমীকরণ: রয়টার্স

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

এসআইআর শুনানিতে ডাক পেয়ে জমির সার্টিফায়েড কপির হিড়িক বাংলাজুড়ে

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, মঙ্গলবার

 

এসআইআর (Special Intensive Revision) শুনানিতে ডাক পেয়ে চরম সমস্যায় পড়ছেন হাজার হাজার ভোটার। সামান্য নামের গরমিল, পারিবারিক নথির অভাব কিংবা সম্পর্ক প্রমাণের জটিলতায় বহু মানুষ এখন ‘সন্দেহজনক ভোটার’-এর তালিকায় উঠে আসছেন। ফলস্বরূপ, ভোটাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে নথির খোঁজে ছুটতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
সম্প্রতি এমনই এক ঘটনা সামনে এসেছে—এক যুবক এসআইআর শুনানিতে নোটিস পান, কারণ তাঁর বাবা বহু বছর আগে মারা গিয়েছেন এবং মা বিয়ের পর নিজের পদবি পরিবর্তন করেননি। ফলে তাঁকে ‘সন্দেহজনক ভোটার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এখন প্রমাণ করতে হবে, তিনিই তাঁর মায়ের সন্তান। অথচ প্রায় ৪০ বছর আগে জন্ম হওয়ায় তাঁর কাছে নেই জন্ম শংসাপত্র। বাড়ির জমির দলিলে মায়ের সঙ্গে তাঁর নাম থাকার কথা জানা গেলেও সেই নথি আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত একমাত্র ভরসা—জমির দলিলের সার্টিফায়েড কপি।
এই ঘটনা একা নয়। রাজ্য জুড়ে হাজার হাজার ভোটার এখন নিজেদের নাগরিকত্ব ও পারিবারিক সম্পর্ক প্রমাণ করতে দলিলের সার্টিফায়েড কপির উপর নির্ভর করছেন। যার জেরে গত তিন মাসে সার্টিফায়েড কপি তোলার হিড়িক পড়ে গিয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, নভেম্বর, ডিসেম্বর এবং জানুয়ারি—এই তিন মাসে প্রায় আড়াই লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। সাধারণত প্রতি মাসে যেখানে ৪০ থেকে ৫০ হাজার আবেদন আসে, সেখানে এই সময়ে গড়ে প্রায় ৮০ হাজার আবেদন জমা পড়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, অক্টোবর মাসে যেখানে আবেদন ছিল ৫৩,৬২৯টি, সেখানে নভেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৯,৬৮১। ডিসেম্বর মাসে ৮৬,৯৭২ এবং জানুয়ারিতে প্রায় ৭০ হাজার আবেদন জমা পড়ে। প্রশাসনের মতে, জমি ক্রয়-বিক্রয় ছাড়াও অন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণেই এত বিপুল সংখ্যক মানুষ সার্টিফায়েড কপি তুলছেন—যার অন্যতম কারণ এসআইআর শুনানি।
নামের বানানে সামান্য অমিল থাকলেই ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’-র তালিকায় নাম উঠে যাচ্ছে, যা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের এক আধিকারিকের কথায়, এই পরিস্থিতিতে মানুষ কার্যত দিশেহারা। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নথির তালিকায় থাকুক বা না থাকুক, শুনানিতে ডাক পেলে যে কোনও নথি জোগাড় করতে মরিয়া হয়ে উঠছেন ভোটাররা।

মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড, রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট, ডোমিসাইল সার্টিফিকেট—একাধিক নথি নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই দলিলের সার্টিফায়েড কপি হাতে পেয়ে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন মানুষ। এই নথির মাধ্যমেই তাঁরা বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক প্রমাণ করে ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই চালাচ্ছেন।
চাইলে এটিকে আরও সংক্ষিপ্ত নিউজ ভার্সন, হেডলাইন-ফোকাসড কাটডাউন, বা ডিজিটাল পোর্টালের জন্য SEO-ফ্রেন্ডলি ফরম্যাটে সাজিয়ে দিতে পারি।