পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর রাজ্যজুড়ে শুনানি প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রস্তুতি জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার ভোটারদের নোটিশ পাঠানোর কথা থাকলেও প্রক্রিয়াগত জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি। কমিশন সূত্রে খবর, শুক্রবার থেকেই নোটিশ বিলি শুরু হবে। এর মধ্যেই ভোটারদের জন্য এসেছে কিছুটা স্বস্তির বার্তা—প্রথম শুনানিতেই কারও নাম তালিকা থেকে বাদ যাবে না।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, শুনানিতে পেশ করা নথি নিয়ে সন্দেহ থাকলেও ইআরও তাৎক্ষণিকভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দিতে পারবেন না। সংশ্লিষ্ট ভোটারকে ভারতীয় নাগরিক ও ভোটার হিসেবে নিজেকে প্রমাণের দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়া হবে। এই মর্মে রাজ্যের সব জেলাশাসক তথা ডিইওদের নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।
খসড়া তালিকা প্রকাশের পর যেসব ভোটারের নিজের বা আত্মীয়ের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই এবং সেই অনুযায়ী তাঁরা ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করেছেন, তাঁদের শুনানির নোটিশ পাঠানো হবে। পাশাপাশি, ইনিউমারেশন ফর্মে উল্লিখিত আত্মীয়ের তথ্য নিয়ে কমিশনের সংশয় থাকলেও সংশ্লিষ্ট ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হবে। নোটিশ পাওয়ার পর নির্ধারিত গ্রহণযোগ্য নথি পেশ করে নিজেকে ভোটার হিসেবে প্রমাণ করতে হবে।
নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে, সংবিধানের ৩২৬ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১৬ ও ১৯ নম্বর ধারার আলোকে নথির গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করবেন ইআরওরা। নথি সন্দেহজনক মনে হলে ইআরওদের স্বতঃপ্রণোদিত তদন্ত করতে হবে—প্রয়োজনে প্রতিবেশীদের সঙ্গেও কথা বলে যাচাই সম্পন্ন করতে হবে। তাতেও সন্দেহ কাটলে না গেলে দ্বিতীয় একটি ‘শোকজ’ নোটিশ দিতে হবে, যেখানে জানতে চাওয়া হবে কেন চূড়ান্ত তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হবে না। এই দ্বিতীয় নোটিশের পরও প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলেই কেবল নাম বাদ দেওয়া যাবে।
কমিশনের এক আধিকারিক জানান, কোনও যোগ্য ভোটার যাতে অকারণে বাদ না পড়েন, সেজন্যই এই সতর্ক প্রক্রিয়া। এদিন বিধানসভা ভিত্তিক এইআরও নিয়োগেও ছাড়পত্র দিয়েছে কমিশন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিহার এসআইআর অভিজ্ঞতা এবং সুপ্রিমকোর্টের নজরদারির প্রেক্ষিতেই কমিশন ঝুঁকি এড়িয়ে চলতে চাইছে।
এদিকে, আঞ্চলিক ভাষায় নোটিশ ছাপার কাজ শেষ না হওয়ায় বৃহস্পতিবার বিলি শুরু করা যায়নি। শুক্রবার থেকেই তা শুরু হবে। একই সঙ্গে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিকের দপ্তর স্থানান্তরের কাজও শুরু হচ্ছে—১৩ নম্বর স্ট্র্যান্ড রোডের শিপিং হাউসের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় সিইও অফিস সরানো হবে। নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।





























