০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, সোমবার, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কলকাতায় বাদ পড়ায় শীর্ষে ‘দাস’ পদবি, খসড়া ভোটার তালিকা খুঁটিয়ে দেখে গবেষণা সংস্থার পর্যবেক্ষণ

 

বাংলায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘সার’ ঘিরে আগে থেকেই নানা আশঙ্কা ও রাজনৈতিক প্রচার চলছিল। মঙ্গলবার প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা খুঁটিয়ে দেখে এখন একেবারেই ভিন্ন ছবি উঠে এসেছে। গবেষণা সংস্থা সবার ইনস্টিটিউট–এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কলকাতা ও শহরতলিতে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের বড় অংশের সঙ্গে রোহিঙ্গা বা সংখ্যালঘু পরিচয়ের কোনও সরাসরি যোগ নেই। বরং পদবির নিরিখে সবচেয়ে বেশি বাদ পড়েছে ‘দাস’ পদবিধারীদের নাম।
সংস্থার তথ্য বলছে, কলকাতা শহরে বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে ১৬.৭৩ শতাংশের পদবি ‘দাস’। তার পরেই রয়েছে ‘সিং’ (১২.১১ শতাংশ) এবং ‘সাউ’ (৭.৮২ শতাংশ)। তালিকায় এর পরে আছে ‘রায়’, ‘খাতুন’, ‘যাদব’ ও ‘বেগম’। গবেষকদের মতে, এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে, বাদ পড়া নামের বড় অংশই অবাঙালি ও পরিযায়ী শ্রমিকদের।
সাবার ইনস্টিটিউটের সমাজকর্মী সাবির আহমেদের বক্তব্য, ‘দাস পদবিধারীদের বড় অংশই বিহার, উত্তরপ্রদেশ বা ওডিশা থেকে আসা খেটে খাওয়া মানুষ। অনেকেরই আদি ভোটার তালিকাভুক্তি ভিন রাজ্যে।’ একই ছবি মিলেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কেন্দ্র ভবানীপুরেও, যেখানে বাদ পড়া ভোটারদের ১৮.৮১ শতাংশের পদবি ‘দাস’।
রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়-এর সাবেক উপাচার্য সব্যসাচী বসুরায়চৌধুরী মনে করেন, ‘খসড়া তালিকা দেখিয়ে দিয়েছে যে, ধর্ম বা অনুপ্রবেশের তত্ত্ব বাস্তবে মিলছে না।’ একই সুরে ইনস্টিটিউট অফ ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ়, কলকাতা-র অধ্যাপক শাশ্বত ঘোষের বক্তব্য, বহু পরিযায়ী কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে বাংলায় ভোটার তালিকায় নাম তুলেছিলেন, ‘সার’-এর পরে সেই নামগুলিই বেশি বাদ পড়েছে।
সব মিলিয়ে খসড়া তালিকার এই বিশ্লেষণ নতুন করে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক দাবিদাওয়ার বাস্তব চিত্র সামনে এনে দিয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

ভুয়ো ভোটারে ছেয়েছে মোদির বারাণসী! ৯২০০ জনের তালিকা প্রকাশ করে এবার SIR নিয়ে তোপ বিজেপি মন্ত্রীরই

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

কলকাতায় বাদ পড়ায় শীর্ষে ‘দাস’ পদবি, খসড়া ভোটার তালিকা খুঁটিয়ে দেখে গবেষণা সংস্থার পর্যবেক্ষণ

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, রবিবার

 

বাংলায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘সার’ ঘিরে আগে থেকেই নানা আশঙ্কা ও রাজনৈতিক প্রচার চলছিল। মঙ্গলবার প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা খুঁটিয়ে দেখে এখন একেবারেই ভিন্ন ছবি উঠে এসেছে। গবেষণা সংস্থা সবার ইনস্টিটিউট–এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কলকাতা ও শহরতলিতে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের বড় অংশের সঙ্গে রোহিঙ্গা বা সংখ্যালঘু পরিচয়ের কোনও সরাসরি যোগ নেই। বরং পদবির নিরিখে সবচেয়ে বেশি বাদ পড়েছে ‘দাস’ পদবিধারীদের নাম।
সংস্থার তথ্য বলছে, কলকাতা শহরে বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে ১৬.৭৩ শতাংশের পদবি ‘দাস’। তার পরেই রয়েছে ‘সিং’ (১২.১১ শতাংশ) এবং ‘সাউ’ (৭.৮২ শতাংশ)। তালিকায় এর পরে আছে ‘রায়’, ‘খাতুন’, ‘যাদব’ ও ‘বেগম’। গবেষকদের মতে, এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে, বাদ পড়া নামের বড় অংশই অবাঙালি ও পরিযায়ী শ্রমিকদের।
সাবার ইনস্টিটিউটের সমাজকর্মী সাবির আহমেদের বক্তব্য, ‘দাস পদবিধারীদের বড় অংশই বিহার, উত্তরপ্রদেশ বা ওডিশা থেকে আসা খেটে খাওয়া মানুষ। অনেকেরই আদি ভোটার তালিকাভুক্তি ভিন রাজ্যে।’ একই ছবি মিলেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কেন্দ্র ভবানীপুরেও, যেখানে বাদ পড়া ভোটারদের ১৮.৮১ শতাংশের পদবি ‘দাস’।
রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়-এর সাবেক উপাচার্য সব্যসাচী বসুরায়চৌধুরী মনে করেন, ‘খসড়া তালিকা দেখিয়ে দিয়েছে যে, ধর্ম বা অনুপ্রবেশের তত্ত্ব বাস্তবে মিলছে না।’ একই সুরে ইনস্টিটিউট অফ ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ়, কলকাতা-র অধ্যাপক শাশ্বত ঘোষের বক্তব্য, বহু পরিযায়ী কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে বাংলায় ভোটার তালিকায় নাম তুলেছিলেন, ‘সার’-এর পরে সেই নামগুলিই বেশি বাদ পড়েছে।
সব মিলিয়ে খসড়া তালিকার এই বিশ্লেষণ নতুন করে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক দাবিদাওয়ার বাস্তব চিত্র সামনে এনে দিয়েছে।