০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, মঙ্গলবার, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংসারের টানে পাঠশালা ছাড়ছে ভবিষ্যৎ: দেশে স্কুলছুট ৪৪% শিশু-কিশোর, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে সমীক্ষা

দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আজ কঠিন বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে। সংসারের চাপ, মূল্যবৃদ্ধির বোঝা আর জীবিকার তাগিদে স্কুল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে বিপুল সংখ্যক শিশু-কিশোর। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সংসদে পেশ করা ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষের আর্থিক সমীক্ষা জানাচ্ছে, ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সি শিশু-কিশোরদের মধ্যে প্রায় ৪৪ শতাংশই সংসার টানতে গিয়ে স্কুলছুট। পাশাপাশি, উদ্বেগজনক ভাবে ৮ শতাংশ কিশোর-কিশোরী মনে করছে—শিক্ষার আর কোনও প্রয়োজনই নেই।
সমীক্ষায় বলা হয়েছে, স্কুলছুটের প্রধান কারণ পরিবারের জন্য অতিরিক্ত আয়ের প্রয়োজন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে গৃহকর্মে সহায়তা করা—এই কারণে ২৮ শতাংশ শিশু-কিশোর পড়াশোনা ছেড়েছে। দারিদ্র্য, মূল্যবৃদ্ধি এবং কাজের চাপ মিলিয়ে শিক্ষাজীবন থমকে যাচ্ছে লক্ষ লক্ষ তরুণের।

এই পরিস্থিতি সামাল দিতে আর্থিক সমীক্ষায় জোর দেওয়া হয়েছে স্কুলশিক্ষায় পেশামুখী ও দক্ষতা-বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ চালুর ওপর। কিন্তু বাস্তব চিত্র হতাশাজনক—বর্তমানে মাত্র ০.৯৭ শতাংশ পড়ুয়া এই ধরনের প্রশিক্ষণ পাচ্ছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে এখনই শিক্ষা ব্যবস্থায় বাস্তবমুখী পরিবর্তন জরুরি। নচেৎ দারিদ্র্যের চক্রে আটকে যাবে দেশের অগণিত সম্ভাবনাময় জীবন।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

এপস্টেইন কাণ্ডে কংগ্রেসের সামনে হাজির হচ্ছেন বিল ও হিলারি ক্লিনটন

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

সংসারের টানে পাঠশালা ছাড়ছে ভবিষ্যৎ: দেশে স্কুলছুট ৪৪% শিশু-কিশোর, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে সমীক্ষা

আপডেট : ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, শুক্রবার

দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আজ কঠিন বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে। সংসারের চাপ, মূল্যবৃদ্ধির বোঝা আর জীবিকার তাগিদে স্কুল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে বিপুল সংখ্যক শিশু-কিশোর। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সংসদে পেশ করা ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষের আর্থিক সমীক্ষা জানাচ্ছে, ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সি শিশু-কিশোরদের মধ্যে প্রায় ৪৪ শতাংশই সংসার টানতে গিয়ে স্কুলছুট। পাশাপাশি, উদ্বেগজনক ভাবে ৮ শতাংশ কিশোর-কিশোরী মনে করছে—শিক্ষার আর কোনও প্রয়োজনই নেই।
সমীক্ষায় বলা হয়েছে, স্কুলছুটের প্রধান কারণ পরিবারের জন্য অতিরিক্ত আয়ের প্রয়োজন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে গৃহকর্মে সহায়তা করা—এই কারণে ২৮ শতাংশ শিশু-কিশোর পড়াশোনা ছেড়েছে। দারিদ্র্য, মূল্যবৃদ্ধি এবং কাজের চাপ মিলিয়ে শিক্ষাজীবন থমকে যাচ্ছে লক্ষ লক্ষ তরুণের।

এই পরিস্থিতি সামাল দিতে আর্থিক সমীক্ষায় জোর দেওয়া হয়েছে স্কুলশিক্ষায় পেশামুখী ও দক্ষতা-বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ চালুর ওপর। কিন্তু বাস্তব চিত্র হতাশাজনক—বর্তমানে মাত্র ০.৯৭ শতাংশ পড়ুয়া এই ধরনের প্রশিক্ষণ পাচ্ছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে এখনই শিক্ষা ব্যবস্থায় বাস্তবমুখী পরিবর্তন জরুরি। নচেৎ দারিদ্র্যের চক্রে আটকে যাবে দেশের অগণিত সম্ভাবনাময় জীবন।