২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, শনিবার, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘আই লাভ মুহাম্মদ’ বিতর্কে উত্তেজনা, গ্রেফতার ইত্তেহাদ-ই-মিল্লাত কাউন্সিল প্রধান মৌলানা তৌকির রাজা 

পুবের কলম, ওয়েব ডেস্ক: ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ – প্রচারাভিযানকে কেন্দ্র করে ক্রমশই উত্তপ্ত হচ্ছে পরিস্থিতি। এবার যোগী পুলিশের হাতে গ্রেফতার প্রভাবশালী ইসলামি ধর্মীয় নেতা ও ইত্তেহাদ-ই-মিল্লাত কাউন্সিল প্রধান মৌলানা তৌকির রাজা খান। তার বিরুদ্ধে উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে এবং পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে এনডিটিভি সূত্রে জানা গেছে।

শুক্রবার নবী সা.- সানে জুম্মা বাদ একটি শান্তিপূর্ন মিছিলের ডাক দেন তৌকির। জানান অনুমতি না মিললেও উক্ত মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। তবে শেষ মুহূর্তে প্রোগ্রাম বাতিল করে দেন তিনি। তবে তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রচারাভিযানের সমর্থনে বিপুল সংখ্যক নবী প্রেমী তাঁর বাড়ির সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন। যা চক্ষুশূল হয়ে দাঁড়ায় যোগী পুলিশের।

শান্তিপূর্ণ একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে গাজোয়ারি শুরু করে তারা। মিছিল রুখতে নানাভাবে প্রয়াস চালাতে থাকে ।একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে জনতা। একদিকে তৌকিরের ওপর ক্ষোভ অন্যদিকে যোগী পুলিশের স্বেচ্ছাচারে অতিষ্ট হয়ে ওঠে স্থানীয় মুসলিমরা। মিছিলটি শান্তিপূর্ন ভাবেই শুরু হয়েছিল। তবে সেই মিছিল রুখতে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ লাঠি চালায়, কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটায়। এখানেই ক্ষান্ত হননি তারা। আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি পর্যন্ত চালানোর অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।

তারপরেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। মূলত ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ ব্যনারকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিশেষ করে গেরুয়া শাসিত রাজ্য গুলোতে ধরপাকড় শুরু করেছে পুলিশরা। তারই প্রতিবাদে শুক্রবার বারৈলিতে জুম্মার নামাযের পর জেলা শাসকের কাছে উক্ত বিষয়ে স্মারকলিপি জমা দিতে যাচ্ছিলেন স্থানীয়রা। যদিও উত্তেজনার একদিন পরে তৌকিরকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় অন্তত আরও আটজনকে গ্রেফতার এবং ৫০ জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের কাজে বাধা, দাঙ্গা ও হামলার অভিযোগে প্রায় ১ হাজার ৭০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

এদিকে পুরো বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের অফিস থেকে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী পরিস্থিতি কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দিয়েছেন। ঘোষণা করেছেন, অপরাধ করে কেউ ছাড় পাবে না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দশেরা আসছে। দুষ্টের দমনই দশেরার আসল বার্তা। উত্তেজনা শুধু বেরেলিতেই সীমাবদ্ধ নয়। উত্তর প্রদেশের মৌ জেলা, উনাও, মহারাজগঞ্জ, লক্ষ্ণৌ ও কোসাম্বি ছাড়াও গুজরাটের গান্ধীনগর এবং কর্ণাটকের দাভাঙ্গেরেতেও একই ধরনের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

চলতি মাসের শুরুতে ইদ মিলাদ-উন-নবি উপলক্ষে ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ লেখা পোস্টার ও ব্যানার লাগানো নিয়ে এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। ওই ঘটনার পরে কানপুর পুলিশ বেশ কয়েকজনের নামে এবং কিছু অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল। এর পরে লখনৌও এবং ভোপাল-সহ বেশ কয়েকটি শহরে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

 

ট্যাগ :
প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.
সর্বধিক পাঠিত

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ: ইরান ছাড়ার জরুরি নির্দেশিকা জারি করল আমেরিকা ও ইউরোপসহ ১৮টি দেশ

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

‘আই লাভ মুহাম্মদ’ বিতর্কে উত্তেজনা, গ্রেফতার ইত্তেহাদ-ই-মিল্লাত কাউন্সিল প্রধান মৌলানা তৌকির রাজা 

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, শনিবার

পুবের কলম, ওয়েব ডেস্ক: ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ – প্রচারাভিযানকে কেন্দ্র করে ক্রমশই উত্তপ্ত হচ্ছে পরিস্থিতি। এবার যোগী পুলিশের হাতে গ্রেফতার প্রভাবশালী ইসলামি ধর্মীয় নেতা ও ইত্তেহাদ-ই-মিল্লাত কাউন্সিল প্রধান মৌলানা তৌকির রাজা খান। তার বিরুদ্ধে উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে এবং পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে এনডিটিভি সূত্রে জানা গেছে।

শুক্রবার নবী সা.- সানে জুম্মা বাদ একটি শান্তিপূর্ন মিছিলের ডাক দেন তৌকির। জানান অনুমতি না মিললেও উক্ত মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। তবে শেষ মুহূর্তে প্রোগ্রাম বাতিল করে দেন তিনি। তবে তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রচারাভিযানের সমর্থনে বিপুল সংখ্যক নবী প্রেমী তাঁর বাড়ির সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন। যা চক্ষুশূল হয়ে দাঁড়ায় যোগী পুলিশের।

শান্তিপূর্ণ একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে গাজোয়ারি শুরু করে তারা। মিছিল রুখতে নানাভাবে প্রয়াস চালাতে থাকে ।একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে জনতা। একদিকে তৌকিরের ওপর ক্ষোভ অন্যদিকে যোগী পুলিশের স্বেচ্ছাচারে অতিষ্ট হয়ে ওঠে স্থানীয় মুসলিমরা। মিছিলটি শান্তিপূর্ন ভাবেই শুরু হয়েছিল। তবে সেই মিছিল রুখতে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ লাঠি চালায়, কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটায়। এখানেই ক্ষান্ত হননি তারা। আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি পর্যন্ত চালানোর অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।

তারপরেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। মূলত ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ ব্যনারকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিশেষ করে গেরুয়া শাসিত রাজ্য গুলোতে ধরপাকড় শুরু করেছে পুলিশরা। তারই প্রতিবাদে শুক্রবার বারৈলিতে জুম্মার নামাযের পর জেলা শাসকের কাছে উক্ত বিষয়ে স্মারকলিপি জমা দিতে যাচ্ছিলেন স্থানীয়রা। যদিও উত্তেজনার একদিন পরে তৌকিরকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় অন্তত আরও আটজনকে গ্রেফতার এবং ৫০ জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের কাজে বাধা, দাঙ্গা ও হামলার অভিযোগে প্রায় ১ হাজার ৭০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

এদিকে পুরো বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের অফিস থেকে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী পরিস্থিতি কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দিয়েছেন। ঘোষণা করেছেন, অপরাধ করে কেউ ছাড় পাবে না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দশেরা আসছে। দুষ্টের দমনই দশেরার আসল বার্তা। উত্তেজনা শুধু বেরেলিতেই সীমাবদ্ধ নয়। উত্তর প্রদেশের মৌ জেলা, উনাও, মহারাজগঞ্জ, লক্ষ্ণৌ ও কোসাম্বি ছাড়াও গুজরাটের গান্ধীনগর এবং কর্ণাটকের দাভাঙ্গেরেতেও একই ধরনের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

চলতি মাসের শুরুতে ইদ মিলাদ-উন-নবি উপলক্ষে ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ লেখা পোস্টার ও ব্যানার লাগানো নিয়ে এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। ওই ঘটনার পরে কানপুর পুলিশ বেশ কয়েকজনের নামে এবং কিছু অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল। এর পরে লখনৌও এবং ভোপাল-সহ বেশ কয়েকটি শহরে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।