পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাত এড়াতে আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত সামরিক হুমকিতে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইরান পরিস্থিতি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার রিপোর্ট অনুযায়ী, সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে তেহরান। দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে—আলোচনার চেয়ে এখন অগ্রাধিকার পাচ্ছে আত্মরক্ষা ও প্রতিরোধ।
এই টানটান পরিস্থিতির মধ্যেই শুক্রবার তুরস্ক সফরে গিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তুরস্কের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সহযোগিতা জোরদারের কথা তুলবেন বলে জানানো হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করেই তেহরান আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলা করতে চায়। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, এই বৈঠকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক অভিযান থেকে বিরত রাখতে তুরস্ক মধ্যস্থতার ভূমিকা নিতে পারে।
তবে উত্তেজনা আরও বেড়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে। তিনি জানান, বিশাল মার্কিন নৌবহর ইতিমধ্যেই ইরানের জলসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে এবং প্রয়োজনে সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে। এমনকি ইরানে সরকার পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দেন ট্রাম্প। জবাবে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ও সামরিক কর্মকর্তারা একের পর এক কঠোর বার্তা দিচ্ছেন। তেহরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা এখন অগ্রাধিকার নয়; বরং দেশ রক্ষায় ‘২০০ শতাংশ প্রস্তুত’ থাকাই মূল লক্ষ্য। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান ধারাবাহিক সামরিক মহড়া চালিয়েছে এবং বৃহস্পতিবার সশস্ত্র বাহিনীতে এক হাজার নতুন কৌশলগত ড্রোন যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে, যার মধ্যে আত্মঘাতী ড্রোনও রয়েছে।
ইরানের সেনাপ্রধান আমির হামাতি এক বিবৃতিতে বলেন, যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে দ্রুত ও সিদ্ধান্তমূলক প্রতিক্রিয়া জানাতে সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি দেশের ভেতরেও বেসামরিক প্রস্তুতি বাড়ানো হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোর গভর্নরদের খাদ্য ও জরুরি পণ্যের মজুত নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। সম্ভাব্য বিমান হামলার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য আশ্রয়স্থল প্রস্তুতের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও প্রবল প্রতিরোধের মনোভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আল জাজিরাকে এক তরুণী বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র আমাদের কিছু করতে পারবে না। যদি হামলা চালায়, ইরান তার কঠোর জবাব দেবে।” সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের আশঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কতটা সফল হবে, নাকি সংঘাতের পথেই এগোবে পরিস্থিতি—সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।
























