১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, মঙ্গলবার, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বেহাল দশা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ধুঁকছে ঐতিহ্যবাহী হগ মার্কেট

হগ মার্কেটের ছবি-রমিত বন্দ্যোপাধ্যায়

পুবের কলম প্রতিবেদকঃ কলকাতা তথা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহ্যবাহী পরিকল্পিত মার্কেট কমপ্লেক্সের পোশাকি নাম এস এস হগ মার্কেট। ব্রিটিশ শাসনামলে তদানীন্তন ভারতের রাজধানী কলকাতা শহরে প্রথম পরিকল্পিতভাবে নির্মিত হয়েছিল এই এস এস হক মার্কেট। কাগজে-কলমের পোশাকি নাম এসএস হগ মার্কেট হলেও, রাজ্যের পাশাপাশি উপমহাদেশের বৃহত্তর জনমানুষে এই হগ মার্কেট কলকাতা নিউমার্কেট নামেই অধিক পরিচিত।

কলকাতার ঐতিহ্যবাহী নিউ মার্কেট কমপ্লেক্সের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, অপরিচ্ছন্ন শৌচাগার, জলমগ্ন ঘিঞ্জি নর্দমা, যত্রতত্র পান গুটখার প্রলেপ, জমা জলে থই থই করা দূরবস্থার কথা তুলে ধরলেন কলকাতা নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যরা। ঐতিহ্যবাহী নিউমার্কেটের একাধিক ব্লক জুড়ে রয়েছে প্রায় ২০০০ দোকান। কিন্তু, নিউমার্কেটে বাজার করতে আসা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রেতারা অস্বস্তিকর পরিবেশে কেনাকাটা করতে এসে নাক সিঁটকোচ্ছেন। প্রয়োজনের তুলনায় কম সংখ্যক শৌচাগার, গাড়ি পার্কিংয়ের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকা, সামান্য বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হয়ে যাওয়া,  নিয়মিত সাফাই না হওয়া সহ একাধিক অভিযোগ উঠে এলো ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে। নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ক্ষোভের সঙ্গে জানান, নিউ মার্কেটের এই অব্যস্থার জন্য কলকাতা পুরসভার দিকেই আঙুল তুলেছেন। মার্কেটের এই দূরবস্থার কথা আগামী সপ্তাহে কলকাতা পুরসভার আধিকারিকদের সামনেভতুলে ধরার কথাও জানান।

আরও পড়ুন: সেজে উঠছে ঐতিহ্যের হগ মার্কেট, উদ্যোগী পুরসভা

বেহাল দশা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ধুঁকছে ঐতিহ্যবাহী হগ মার্কেট

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, মার্কেটের সামগ্রিক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তো কলকাতা পুরসভার। কিন্তু, এত বড় মার্কেট কমপ্লেক্সের ন্যূনতম নজরদারি এবং রক্ষণাবেক্ষণের ব্যাপারে কলকাতা পুরসভার উদাসীনতাকেই দায়ী করলেন তিনি। মার্কেটের অন্যন্য ব্যবসায়ী এবং দোকানদারেরাও জানান, বিশেষ করে মার্কেটের জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা দিন দিন রীতিমতো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। নিত্যদিনের ত্রেতা বিক্রেতার উপস্থিতিতে সরগরম এই মার্কেটের বিভিন্ন প্রান্তের নর্দমাগুলি বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে নিউ মার্কেটের ‘ডি’ ‘এফ’ ‘জি’ সহ বেশ কিছু ব্লকে জমা জলের কারণে বিপর্যস্ত হচ্ছে পরিষেবা। মার্কেট কমপ্লেক্সের বিভিন্ন প্রান্তে বিপজ্জনক ভাবে ঝুলে রয়েছে বিদ্যুতের তার।

অন্যদিকে, গত বছর রক্ষণাবেক্ষণের কিছু কিছু  কাজ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে। জানা গিয়েছে, কয়েক মাস পরেই ঐতিহ্যবাহী কলকাতায় ‘হেরিটেজ’ নিউ মার্কেট দেড়শো বছরে পদার্পণ করবে।

বেহাল দশা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ধুঁকছে ঐতিহ্যবাহী হগ মার্কেট

উল্লেখ্য, ১৮৭৪ সালের ১ জানুয়ারি কলকাতার প্রথম পৌর বাজার হিসেবে নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল নিউ মার্কেটকে। কলকাতা কর্পোরেশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান স্যার স্টুয়ার্ট হগ ‘নিউ মার্কেট’ নির্মাণে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাই পরবর্তী কালে অর্থাৎ ১৯০২ সালে  মার্কেট ভবনটির আনুষ্ঠানিকভাবে নামকরণ করা হয় স্যার স্টুয়ার্ট হগ মার্কেট। ব্রিটিশ শাসনামলে স্থাপিত হগ সাহেবের বাজার এই বাজার তথা নিউ মার্কেটের সঙ্গে বাঙালির আবেগ আজও অমলিন।

সর্বধিক পাঠিত

তেলেগু ইউটিউব চ্যানেল ‘খাদ্য জিহাদ’ দাবি করে মুসলিম বিক্রেতাদের টার্গেট করেছে , প্রতিবাদে অন্ধ্রপ্রদেশের মন্ত্রীরা

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

বেহাল দশা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ধুঁকছে ঐতিহ্যবাহী হগ মার্কেট

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৩, রবিবার

পুবের কলম প্রতিবেদকঃ কলকাতা তথা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহ্যবাহী পরিকল্পিত মার্কেট কমপ্লেক্সের পোশাকি নাম এস এস হগ মার্কেট। ব্রিটিশ শাসনামলে তদানীন্তন ভারতের রাজধানী কলকাতা শহরে প্রথম পরিকল্পিতভাবে নির্মিত হয়েছিল এই এস এস হক মার্কেট। কাগজে-কলমের পোশাকি নাম এসএস হগ মার্কেট হলেও, রাজ্যের পাশাপাশি উপমহাদেশের বৃহত্তর জনমানুষে এই হগ মার্কেট কলকাতা নিউমার্কেট নামেই অধিক পরিচিত।

কলকাতার ঐতিহ্যবাহী নিউ মার্কেট কমপ্লেক্সের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, অপরিচ্ছন্ন শৌচাগার, জলমগ্ন ঘিঞ্জি নর্দমা, যত্রতত্র পান গুটখার প্রলেপ, জমা জলে থই থই করা দূরবস্থার কথা তুলে ধরলেন কলকাতা নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যরা। ঐতিহ্যবাহী নিউমার্কেটের একাধিক ব্লক জুড়ে রয়েছে প্রায় ২০০০ দোকান। কিন্তু, নিউমার্কেটে বাজার করতে আসা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রেতারা অস্বস্তিকর পরিবেশে কেনাকাটা করতে এসে নাক সিঁটকোচ্ছেন। প্রয়োজনের তুলনায় কম সংখ্যক শৌচাগার, গাড়ি পার্কিংয়ের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকা, সামান্য বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হয়ে যাওয়া,  নিয়মিত সাফাই না হওয়া সহ একাধিক অভিযোগ উঠে এলো ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে। নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ক্ষোভের সঙ্গে জানান, নিউ মার্কেটের এই অব্যস্থার জন্য কলকাতা পুরসভার দিকেই আঙুল তুলেছেন। মার্কেটের এই দূরবস্থার কথা আগামী সপ্তাহে কলকাতা পুরসভার আধিকারিকদের সামনেভতুলে ধরার কথাও জানান।

আরও পড়ুন: সেজে উঠছে ঐতিহ্যের হগ মার্কেট, উদ্যোগী পুরসভা

বেহাল দশা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ধুঁকছে ঐতিহ্যবাহী হগ মার্কেট

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, মার্কেটের সামগ্রিক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তো কলকাতা পুরসভার। কিন্তু, এত বড় মার্কেট কমপ্লেক্সের ন্যূনতম নজরদারি এবং রক্ষণাবেক্ষণের ব্যাপারে কলকাতা পুরসভার উদাসীনতাকেই দায়ী করলেন তিনি। মার্কেটের অন্যন্য ব্যবসায়ী এবং দোকানদারেরাও জানান, বিশেষ করে মার্কেটের জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা দিন দিন রীতিমতো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। নিত্যদিনের ত্রেতা বিক্রেতার উপস্থিতিতে সরগরম এই মার্কেটের বিভিন্ন প্রান্তের নর্দমাগুলি বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে নিউ মার্কেটের ‘ডি’ ‘এফ’ ‘জি’ সহ বেশ কিছু ব্লকে জমা জলের কারণে বিপর্যস্ত হচ্ছে পরিষেবা। মার্কেট কমপ্লেক্সের বিভিন্ন প্রান্তে বিপজ্জনক ভাবে ঝুলে রয়েছে বিদ্যুতের তার।

অন্যদিকে, গত বছর রক্ষণাবেক্ষণের কিছু কিছু  কাজ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে। জানা গিয়েছে, কয়েক মাস পরেই ঐতিহ্যবাহী কলকাতায় ‘হেরিটেজ’ নিউ মার্কেট দেড়শো বছরে পদার্পণ করবে।

বেহাল দশা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ধুঁকছে ঐতিহ্যবাহী হগ মার্কেট

উল্লেখ্য, ১৮৭৪ সালের ১ জানুয়ারি কলকাতার প্রথম পৌর বাজার হিসেবে নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল নিউ মার্কেটকে। কলকাতা কর্পোরেশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান স্যার স্টুয়ার্ট হগ ‘নিউ মার্কেট’ নির্মাণে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাই পরবর্তী কালে অর্থাৎ ১৯০২ সালে  মার্কেট ভবনটির আনুষ্ঠানিকভাবে নামকরণ করা হয় স্যার স্টুয়ার্ট হগ মার্কেট। ব্রিটিশ শাসনামলে স্থাপিত হগ সাহেবের বাজার এই বাজার তথা নিউ মার্কেটের সঙ্গে বাঙালির আবেগ আজও অমলিন।