১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ট্রাফিক সার্জেন্টের মানবিক মুখ! ফুটপাতে এক খুদেকে পড়াচ্ছেন প্রকাশ ঘোষ

পুবের কলম প্রতিবেদকঃ পুলিশ মানেই আমদের সামনে ভেসে ওঠে এক ছবি, যা দখে বিরক্ত হয় অনেকে। কিন্তু কলকাতা পুলিশের এক ট্রাফিক সার্জেন্টের কাজ দেখে নেট দুনিয়ায় বেশ প্রশাংসা পেয়েছেন কলকাতা সাউথ-ইস্ট ট্রাফিক গার্ডের সার্জেন্ট প্রকাশ ঘোষ। কলকাতা পুলিশ ফেসবুকে একটি ছবি পোষ্ট করেছে সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে ট্রাফিক সার্জেন্ট পড়াচ্ছেন ফুটপাথের এক শিশুকে। দিন কয়েক আগে কলকাতা পুলিশ নিজেদের ফেসবুক পেজে এমনই এক অসাধারণ ক্লাসের ছবি পোস্ট করেছে। কলকাতা পুলিশ ওই ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছে, বালিগঞ্জ আইটিআইয়ের কাছে প্রায় প্রতিদিনই ডিউটি পড়ে কলকাতা পুলিশের সাউথ-ইস্ট ট্রাফিক গার্ডের সার্জেন্ট প্রকাশ ঘোষের। কাজের ফাঁকে ফাঁকেই চোখ পড়ত বছর আটের এক শিশুর দিকে। প্রতিদিনই ওই বাচ্চাটিকে এলাকার আশেপাশে রাস্তায়, ফুটপাথে খেলাধুলা করতে দেখতেন প্রকাশ। ওই অফিসার হঠাৎ এদিন নিজে থেকেই আলাপ করতে এগিয়ে এলে তিনি জানতে পারেন ওই শিশুটি তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ।

 

আরও পড়ুন: Closed Pak airspace বন্ধ পাক আকাশসীমা, বিপুল ক্ষতির মুখে এয়ার ইন্ডিয়া।

ওই শিশুর মা পাশেই রাস্তার ধারের একটি খাবারের দোকানে কাজ করেন। ফুটপাথেই জীবন মা ছেলের। আগামি দিনের কথা ভেবে বহু কষ্ট করে মা ছেলেকে পড়াশোনা করাচ্ছেন একটি সরকারি স্কুলে। ছেলেকে নিয়ে অনেক আশা মায়ের। কিন্তু এত কষ্ট করে পড়াশোনা শেখানোর পরেও কিছুদিন থেকে ছেলের পড়ায় মন বসছিল না । ওই খাবারের দোকানের কাছাকাছিই কাজ করায় ট্রাফিক সার্জেন্ট প্রকাশবাবুকে চিনতেন ওই শিশুর মা। জীবনের কষ্টের কথা একদিন কথায় কথায় তাঁর কাছে ব্যক্ত করে ফেলেন ওই শিশুর মা।

আরও পড়ুন: আইপিএল শুরু ২২ মার্চ, উদ্বোধনী ম্যাচে নাইট-বিরাটদের মহাদ্বৈরথ

 

আরও পড়ুন: রাজ্যসভায় তৃণমূলের নতুন মুখ সামিরুল! কে এই প্রার্থী

কলকাতা পুলিশ ওই পোস্টে আরও জানিয়েছে, গায়ে উর্দি এবং পায়ে গেটার্স থাকায় বসে পড়াতে বেশ অসুবিধে হয় প্রকাশের। তাই একটি গাছের সরু ডালের সাহায্যে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই পড়ান, ডালটিকেই পড়ানোর সামগ্রী হিসেবে ব্যবহার করেন এই শিক্ষক-পুলিশ। ওই খুদেকে পড়াশুনায় মন বসাতে সাজেন্ট প্রকাশ ঘোষ যে উদ্যোগ নিয়েছেন তাতে সকলেই প্রশাংসা করেছেন।

 

প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.
সর্বধিক পাঠিত

বাংলাদেশে আজ জাতীয় নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কারের গণভোট

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

ট্রাফিক সার্জেন্টের মানবিক মুখ! ফুটপাতে এক খুদেকে পড়াচ্ছেন প্রকাশ ঘোষ

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২২, শুক্রবার

পুবের কলম প্রতিবেদকঃ পুলিশ মানেই আমদের সামনে ভেসে ওঠে এক ছবি, যা দখে বিরক্ত হয় অনেকে। কিন্তু কলকাতা পুলিশের এক ট্রাফিক সার্জেন্টের কাজ দেখে নেট দুনিয়ায় বেশ প্রশাংসা পেয়েছেন কলকাতা সাউথ-ইস্ট ট্রাফিক গার্ডের সার্জেন্ট প্রকাশ ঘোষ। কলকাতা পুলিশ ফেসবুকে একটি ছবি পোষ্ট করেছে সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে ট্রাফিক সার্জেন্ট পড়াচ্ছেন ফুটপাথের এক শিশুকে। দিন কয়েক আগে কলকাতা পুলিশ নিজেদের ফেসবুক পেজে এমনই এক অসাধারণ ক্লাসের ছবি পোস্ট করেছে। কলকাতা পুলিশ ওই ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছে, বালিগঞ্জ আইটিআইয়ের কাছে প্রায় প্রতিদিনই ডিউটি পড়ে কলকাতা পুলিশের সাউথ-ইস্ট ট্রাফিক গার্ডের সার্জেন্ট প্রকাশ ঘোষের। কাজের ফাঁকে ফাঁকেই চোখ পড়ত বছর আটের এক শিশুর দিকে। প্রতিদিনই ওই বাচ্চাটিকে এলাকার আশেপাশে রাস্তায়, ফুটপাথে খেলাধুলা করতে দেখতেন প্রকাশ। ওই অফিসার হঠাৎ এদিন নিজে থেকেই আলাপ করতে এগিয়ে এলে তিনি জানতে পারেন ওই শিশুটি তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ।

 

আরও পড়ুন: Closed Pak airspace বন্ধ পাক আকাশসীমা, বিপুল ক্ষতির মুখে এয়ার ইন্ডিয়া।

ওই শিশুর মা পাশেই রাস্তার ধারের একটি খাবারের দোকানে কাজ করেন। ফুটপাথেই জীবন মা ছেলের। আগামি দিনের কথা ভেবে বহু কষ্ট করে মা ছেলেকে পড়াশোনা করাচ্ছেন একটি সরকারি স্কুলে। ছেলেকে নিয়ে অনেক আশা মায়ের। কিন্তু এত কষ্ট করে পড়াশোনা শেখানোর পরেও কিছুদিন থেকে ছেলের পড়ায় মন বসছিল না । ওই খাবারের দোকানের কাছাকাছিই কাজ করায় ট্রাফিক সার্জেন্ট প্রকাশবাবুকে চিনতেন ওই শিশুর মা। জীবনের কষ্টের কথা একদিন কথায় কথায় তাঁর কাছে ব্যক্ত করে ফেলেন ওই শিশুর মা।

আরও পড়ুন: আইপিএল শুরু ২২ মার্চ, উদ্বোধনী ম্যাচে নাইট-বিরাটদের মহাদ্বৈরথ

 

আরও পড়ুন: রাজ্যসভায় তৃণমূলের নতুন মুখ সামিরুল! কে এই প্রার্থী

কলকাতা পুলিশ ওই পোস্টে আরও জানিয়েছে, গায়ে উর্দি এবং পায়ে গেটার্স থাকায় বসে পড়াতে বেশ অসুবিধে হয় প্রকাশের। তাই একটি গাছের সরু ডালের সাহায্যে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই পড়ান, ডালটিকেই পড়ানোর সামগ্রী হিসেবে ব্যবহার করেন এই শিক্ষক-পুলিশ। ওই খুদেকে পড়াশুনায় মন বসাতে সাজেন্ট প্রকাশ ঘোষ যে উদ্যোগ নিয়েছেন তাতে সকলেই প্রশাংসা করেছেন।