১৩ জানুয়ারী ২০২৬, মঙ্গলবার, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্ত্রীকে তিন তালাক, নয়া আইনে মুসলিম বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর

পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ স্ত্রীকে তিন তালাক  দেওয়ার অভিযোগে বিজেপি কর্পোরেটর সেলিম নুর মুহাম্মদ ভোরার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের স্ত্রী’র। শ্বশুরবাড়ির লোকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলেই খবর।

 

আরও পড়ুন: ছত্রিশগড়ে পুরুলিয়ার আট বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিককে মারধর, মুসলিম হওয়ায় নিশানা বজরং দলের!

উল্লেখ্য, ২০০০ সালে সিদ্দিকীবেন ও  সেলিম নুর মুহাম্মদ ভোরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ২২ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের দু’টি  সন্তানও হয়, একটা ছেলে  ও একটা মেয়ে।  তাদের বড় মেয়ে এলসার এখন ২১ বছর বয়স,  তাদের ছোট ছেলে ৬ বছর আগেই মারা যান। ২২ বছরের দাম্পত্য জীবনে একাধিকবার  অভিযোগকারীর ভাইদের কাছ থেকে মোটা টাকা পণ হিসেবে নিয়েছেন তার স্বামী বলেও অভিযোগ।

আরও পড়ুন: আরএসএস কোনও আধা-সামরিক সংগঠন নয়, বিজেপিকে দেখে সংঘের বিচার করলে ভুল হবে: মোহন ভাগবত

 

আরও পড়ুন: উত্তরপ্রদেশে হাড়হিম খুন, প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে স্বামীর দেহ কুচি কুচি করলেন স্ত্রী

অভিযোগের ভিত্তিতে গুজরাতে মুসলিম মহিলা অধিকার  , বিবাহ সুরক্ষা আইন, যৌতুক  নিষেধাজ্ঞা আইন এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির অন্যান্য ধারার অধীনে কপোরেটরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা  হয়েছে। আরও উল্লেখ্য, এদিন মামলা দায়ের করার সময় সিদ্দিকীবেন জানান,  “এপ্রিল মাসে এবং সম্প্রতি জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর স্বামী তাঁকে মৌখিকভাবে তিন তালাক দেয়। এবং সমস্বরে বলে মোবাইলে রেকর্ড করে বাড়ির সকলের কাছে পাঠিয়ে দেয় সেটি।

 

এই তালাকের বিষয়টি নিশ্চিত করতে তার শ্বশুরবাড়ির লোকেরাও সহমত পোষণ করে। এবং তারা  দীর্ঘদিন ধরে সিদ্দিকীবেনকে  নির্যাতন করে যাতে সে তার স্বামীকে ছেড়ে চলে যায়। এদিন  সিদ্দিকীবেন আরও জানান , স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের একাধিকবার অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।

 

প্রসঙ্গত, সেলিম, মেহসানা নগর পালিকার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের একজন কর্পোরেটর। তিনি পেশায় একজন আইনজীবীও।  আহমেদাবাদের গ্রামীণ আদালতে আইন প্রাকটিস করেন। সেখানেই রেশমাবেন চৌহান নামে একজন সহকর্মীর সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পরে। তারপরেই দাম্পত্য কলহ শুরু হয়।

 

অভিযোগকারীর মতে, রেশমা একবার তাকে ফোনে হুমকিও দিয়েছিল। সিদ্দিকীবেন যদি সেলিম’কে না ছাড়ে তাহলে তাঁকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে জেল খাটাবে। যদি জেলে যেতে না চাই তাহলে সেলিমকে ছেড়ে যেন চলে যায়।

প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.
সর্বধিক পাঠিত

মানসিক অবসাদ থেকে চরম সিদ্ধান্ত, উত্তরপ্রদেশে ১১ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা যুবকের

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

স্ত্রীকে তিন তালাক, নয়া আইনে মুসলিম বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২২, শনিবার

পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ স্ত্রীকে তিন তালাক  দেওয়ার অভিযোগে বিজেপি কর্পোরেটর সেলিম নুর মুহাম্মদ ভোরার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের স্ত্রী’র। শ্বশুরবাড়ির লোকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলেই খবর।

 

আরও পড়ুন: ছত্রিশগড়ে পুরুলিয়ার আট বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিককে মারধর, মুসলিম হওয়ায় নিশানা বজরং দলের!

উল্লেখ্য, ২০০০ সালে সিদ্দিকীবেন ও  সেলিম নুর মুহাম্মদ ভোরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ২২ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের দু’টি  সন্তানও হয়, একটা ছেলে  ও একটা মেয়ে।  তাদের বড় মেয়ে এলসার এখন ২১ বছর বয়স,  তাদের ছোট ছেলে ৬ বছর আগেই মারা যান। ২২ বছরের দাম্পত্য জীবনে একাধিকবার  অভিযোগকারীর ভাইদের কাছ থেকে মোটা টাকা পণ হিসেবে নিয়েছেন তার স্বামী বলেও অভিযোগ।

আরও পড়ুন: আরএসএস কোনও আধা-সামরিক সংগঠন নয়, বিজেপিকে দেখে সংঘের বিচার করলে ভুল হবে: মোহন ভাগবত

 

আরও পড়ুন: উত্তরপ্রদেশে হাড়হিম খুন, প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে স্বামীর দেহ কুচি কুচি করলেন স্ত্রী

অভিযোগের ভিত্তিতে গুজরাতে মুসলিম মহিলা অধিকার  , বিবাহ সুরক্ষা আইন, যৌতুক  নিষেধাজ্ঞা আইন এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির অন্যান্য ধারার অধীনে কপোরেটরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা  হয়েছে। আরও উল্লেখ্য, এদিন মামলা দায়ের করার সময় সিদ্দিকীবেন জানান,  “এপ্রিল মাসে এবং সম্প্রতি জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর স্বামী তাঁকে মৌখিকভাবে তিন তালাক দেয়। এবং সমস্বরে বলে মোবাইলে রেকর্ড করে বাড়ির সকলের কাছে পাঠিয়ে দেয় সেটি।

 

এই তালাকের বিষয়টি নিশ্চিত করতে তার শ্বশুরবাড়ির লোকেরাও সহমত পোষণ করে। এবং তারা  দীর্ঘদিন ধরে সিদ্দিকীবেনকে  নির্যাতন করে যাতে সে তার স্বামীকে ছেড়ে চলে যায়। এদিন  সিদ্দিকীবেন আরও জানান , স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের একাধিকবার অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।

 

প্রসঙ্গত, সেলিম, মেহসানা নগর পালিকার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের একজন কর্পোরেটর। তিনি পেশায় একজন আইনজীবীও।  আহমেদাবাদের গ্রামীণ আদালতে আইন প্রাকটিস করেন। সেখানেই রেশমাবেন চৌহান নামে একজন সহকর্মীর সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পরে। তারপরেই দাম্পত্য কলহ শুরু হয়।

 

অভিযোগকারীর মতে, রেশমা একবার তাকে ফোনে হুমকিও দিয়েছিল। সিদ্দিকীবেন যদি সেলিম’কে না ছাড়ে তাহলে তাঁকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে জেল খাটাবে। যদি জেলে যেতে না চাই তাহলে সেলিমকে ছেড়ে যেন চলে যায়।