২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, শুক্রবার, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভুয়ো শংসাপত্র সম্পর্কে তদন্তে নামছে ইউনানি এক্সিকিউটিভ কমিটি

রাজ্য ইউনানি এক্সিকিউটিভ কমিটির বৈঠকে রয়েছেন আহমদ হাসান ইমরান, নির্মল মাজি, মানজার সাদেক– ডা. আবুল কাশেম

পুবের কলম প্রতিবেদকঃ চিকিৎসা ব্যবস্থায় বহু শতক ধরে নিজের স্থান করে নিয়েছে ইউনানি। শুক্রবার ছিল রাজ্য ইউনানি চিকিৎসা পর্ষদের এক্সিকিউটিভ কমিটির বৈঠক। এই বৈঠকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

যদিও সম্প্রতি টাকার বিনিময়ে ভুয়ো শংসাপত্র বিতরণের অভিযোগে বিতর্কের শিরোনামে ওঠে বিধাননগরে অবস্থিত রাজ্য ইউনানি কাউন্সিলের। ভুয়ো শংসাপত্র দেওয়ার বিষয়টি আদালতে পৌঁছয়। আদালত বলে– ৯৪৭ জনকে সম্প্রতি ভুয়ো শংসাপত্র বিক্রয় করার অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগের তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে হবে। এই বিতর্কে গণমাধ্যমে যে নামগুলি আসে, তার মধ্যে রয়েছেন তৃণমূলের চিকিৎসক নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী নির্মল মাজি।

আরও পড়ুন: স্কুলের প্রাইভেট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এবার তদন্তে নামছে শিক্ষা দফতর

ইউনানি কাউন্সিলের সমস্যা সমাধানে গঠিত হয় সাত সদস্যের এক্সিকিউটিভ কমিটি। ইউনানির গা থেকে পুরনো বিতর্ক ঝেড়ে ফেলতেই শুক্রবার ফের একবার বৈঠকে বসেন ওই সাত সদস্যের কমিটির সদস্যরা।

আরও পড়ুন: নির্বাচনী নথি জালিয়াতি মামলায় সিবিআই নয়,  পুলিশকে তদন্তভার ডিভিশন বেঞ্চের

এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতির অভিযোগে পদচ্যুত রেজিস্টার ইমতিয়াজ হুসেন-ও। আগের বৈঠকে ইমতিয়াজ হুসেন কোর্টের একটি কাগজ দেখিয়ে বলেছিলেন, আদালতের রায় হচ্ছে– তাঁকে যেভাবে পদচ্যুত করা হয়েছে সেই প্রক্রিয়া বৈধ নয়। সেইসময় নির্মল মাজির প্রস্তাব অনুযায়ী স্থির হয়– ইমতিয়াজ হুসেন সাময়িকভাবে কাউন্সিলের দৈনিন্দিন কাজ করবেন। স্থির হয়– অভিযোগ প্রমাণ হলে অভিযুক্তর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে ইউনানি কাউন্সিল। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নির্মল মাজি– আহমদ হাসান ইমরান– কমিটির চেয়ারম্যান ডা. আবুল কাশেম মোল্লা– মানজার সাদেক প্রমুখ।

আরও পড়ুন: ফায়জান কাণ্ডে আদালত অবমাননার মুখে মামলার তদন্তকারি পুলিশ অফিসার

ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালে। বিধাননগর উত্তর থানায় দ্য ক্যালকাটা ইউনানি মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের এক চিকিৎসক রাজ্য ইউনানি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার ইমতিয়াজ হুসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।

স্টেট কাউন্সিলের প্রাক্তন সদস্য ওই চিকিৎসক অভিযোগ তোলেন– ইমতিয়াজ হুসেন ইউনানি ভুয়ো চিকিৎসক ‘তৈরি’র Racket চালাচ্ছেন। সেই ভুয়ো পদ্ধতিতে সম্প্রতি ৯৪৭ জনকে নিয়োগ করেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে চলতি বছরের শুরুর দিকে জানুয়ারিতে গ্রেফতারও হন ইমতিয়াজ হুসেন। পরে জামিনে ছাড়া পান তিনি। আদালতের রায়ের অপেক্ষা না করেই ২৪ নভেম্বর ইমতিয়াজ হুসেনকে ফের কাজে বহাল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। তাঁকে কাজে পুনর্বহাল করেন স্টেস্ট কাউন্সিল অব ইউনানি মেডিসিন পর্যবেক্ষক নির্মল মাজি। এখান থেকেই শুরু হয় ফের বিতর্ক।

একদিকে যখন– ৪ হাজার ৯০৫ জন ইউনানি চিকিৎসকের নিয়োগ প্রশ্নসাপেক্ষ বলে মামলা চলছে আদালতে এবং সরাসরি অভিযোগ রেজিস্ট্রার ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে– সেক্ষেত্রে কিভাবে তাঁকে পুনর্বহাল করা হয় তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে ইমতিয়াজ হুসেনের দাবি, আদালত নাকি তাঁকে পদচ্যুত করার প্রক্রিয়াকে বৈধ নয় বলে রায় দিয়েছে।

শুক্রবার বৈঠকে এই প্রশ্ন তোলেন নয়া গঠিত সাত সদস্য কমিটির অনেকেই। সেই কমিটিতে রয়েছেন স্বয়ং নির্মল মাজিও।

এ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য– ইমতিয়াজকে নিয়োগ করা হয়েছে এ কথা ভুল। তাঁকে সাময়িকভাবে রাখা হয়েছে। তাঁর হাতে কোনওরকম ‘মানি পাওয়ার’ দেওয়া হয়নি। ‘তাহলে দুর্নীতি না করলে পুরোপুরি নিয়োগ– আর দুর্নীতি করলে সাময়িকভাবে নিয়োগ– এটাই কি বোঝাতে চাওয়া হচ্ছে বলে প্রশ্ন উঠেছে।’

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়– ৯৪৭ জনের নাম ভুয়ো বলে আদালতে পেশ করা হয়েছে– তাদের প্রত্যেকের সম্পর্কে এক্সিকিউটিভ কমিটি তদন্ত করবে। এ ছাড়া ইউনানি কাউন্সিল থেকে যাদের শংসাপত্র ইস্যু করা হয়েছিল– তাদের প্রত্যেককে তা পুর্ননবীকরণ করতে হবে। শীঘ্রই ইউনানি কাউন্সিল এই কাজ শুরু করবে।

সর্বধিক পাঠিত

‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণে নিষেধাজ্ঞার আর্জি খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

ভুয়ো শংসাপত্র সম্পর্কে তদন্তে নামছে ইউনানি এক্সিকিউটিভ কমিটি

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২১, শনিবার

পুবের কলম প্রতিবেদকঃ চিকিৎসা ব্যবস্থায় বহু শতক ধরে নিজের স্থান করে নিয়েছে ইউনানি। শুক্রবার ছিল রাজ্য ইউনানি চিকিৎসা পর্ষদের এক্সিকিউটিভ কমিটির বৈঠক। এই বৈঠকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

যদিও সম্প্রতি টাকার বিনিময়ে ভুয়ো শংসাপত্র বিতরণের অভিযোগে বিতর্কের শিরোনামে ওঠে বিধাননগরে অবস্থিত রাজ্য ইউনানি কাউন্সিলের। ভুয়ো শংসাপত্র দেওয়ার বিষয়টি আদালতে পৌঁছয়। আদালত বলে– ৯৪৭ জনকে সম্প্রতি ভুয়ো শংসাপত্র বিক্রয় করার অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগের তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে হবে। এই বিতর্কে গণমাধ্যমে যে নামগুলি আসে, তার মধ্যে রয়েছেন তৃণমূলের চিকিৎসক নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী নির্মল মাজি।

আরও পড়ুন: স্কুলের প্রাইভেট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এবার তদন্তে নামছে শিক্ষা দফতর

ইউনানি কাউন্সিলের সমস্যা সমাধানে গঠিত হয় সাত সদস্যের এক্সিকিউটিভ কমিটি। ইউনানির গা থেকে পুরনো বিতর্ক ঝেড়ে ফেলতেই শুক্রবার ফের একবার বৈঠকে বসেন ওই সাত সদস্যের কমিটির সদস্যরা।

আরও পড়ুন: নির্বাচনী নথি জালিয়াতি মামলায় সিবিআই নয়,  পুলিশকে তদন্তভার ডিভিশন বেঞ্চের

এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতির অভিযোগে পদচ্যুত রেজিস্টার ইমতিয়াজ হুসেন-ও। আগের বৈঠকে ইমতিয়াজ হুসেন কোর্টের একটি কাগজ দেখিয়ে বলেছিলেন, আদালতের রায় হচ্ছে– তাঁকে যেভাবে পদচ্যুত করা হয়েছে সেই প্রক্রিয়া বৈধ নয়। সেইসময় নির্মল মাজির প্রস্তাব অনুযায়ী স্থির হয়– ইমতিয়াজ হুসেন সাময়িকভাবে কাউন্সিলের দৈনিন্দিন কাজ করবেন। স্থির হয়– অভিযোগ প্রমাণ হলে অভিযুক্তর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে ইউনানি কাউন্সিল। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নির্মল মাজি– আহমদ হাসান ইমরান– কমিটির চেয়ারম্যান ডা. আবুল কাশেম মোল্লা– মানজার সাদেক প্রমুখ।

আরও পড়ুন: ফায়জান কাণ্ডে আদালত অবমাননার মুখে মামলার তদন্তকারি পুলিশ অফিসার

ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালে। বিধাননগর উত্তর থানায় দ্য ক্যালকাটা ইউনানি মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের এক চিকিৎসক রাজ্য ইউনানি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার ইমতিয়াজ হুসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।

স্টেট কাউন্সিলের প্রাক্তন সদস্য ওই চিকিৎসক অভিযোগ তোলেন– ইমতিয়াজ হুসেন ইউনানি ভুয়ো চিকিৎসক ‘তৈরি’র Racket চালাচ্ছেন। সেই ভুয়ো পদ্ধতিতে সম্প্রতি ৯৪৭ জনকে নিয়োগ করেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে চলতি বছরের শুরুর দিকে জানুয়ারিতে গ্রেফতারও হন ইমতিয়াজ হুসেন। পরে জামিনে ছাড়া পান তিনি। আদালতের রায়ের অপেক্ষা না করেই ২৪ নভেম্বর ইমতিয়াজ হুসেনকে ফের কাজে বহাল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। তাঁকে কাজে পুনর্বহাল করেন স্টেস্ট কাউন্সিল অব ইউনানি মেডিসিন পর্যবেক্ষক নির্মল মাজি। এখান থেকেই শুরু হয় ফের বিতর্ক।

একদিকে যখন– ৪ হাজার ৯০৫ জন ইউনানি চিকিৎসকের নিয়োগ প্রশ্নসাপেক্ষ বলে মামলা চলছে আদালতে এবং সরাসরি অভিযোগ রেজিস্ট্রার ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে– সেক্ষেত্রে কিভাবে তাঁকে পুনর্বহাল করা হয় তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে ইমতিয়াজ হুসেনের দাবি, আদালত নাকি তাঁকে পদচ্যুত করার প্রক্রিয়াকে বৈধ নয় বলে রায় দিয়েছে।

শুক্রবার বৈঠকে এই প্রশ্ন তোলেন নয়া গঠিত সাত সদস্য কমিটির অনেকেই। সেই কমিটিতে রয়েছেন স্বয়ং নির্মল মাজিও।

এ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য– ইমতিয়াজকে নিয়োগ করা হয়েছে এ কথা ভুল। তাঁকে সাময়িকভাবে রাখা হয়েছে। তাঁর হাতে কোনওরকম ‘মানি পাওয়ার’ দেওয়া হয়নি। ‘তাহলে দুর্নীতি না করলে পুরোপুরি নিয়োগ– আর দুর্নীতি করলে সাময়িকভাবে নিয়োগ– এটাই কি বোঝাতে চাওয়া হচ্ছে বলে প্রশ্ন উঠেছে।’

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়– ৯৪৭ জনের নাম ভুয়ো বলে আদালতে পেশ করা হয়েছে– তাদের প্রত্যেকের সম্পর্কে এক্সিকিউটিভ কমিটি তদন্ত করবে। এ ছাড়া ইউনানি কাউন্সিল থেকে যাদের শংসাপত্র ইস্যু করা হয়েছিল– তাদের প্রত্যেককে তা পুর্ননবীকরণ করতে হবে। শীঘ্রই ইউনানি কাউন্সিল এই কাজ শুরু করবে।