ভয়াবহ আর্থিক সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে জাতিসংঘ। সদস্যরাষ্ট্রগুলোর বিপুল অঙ্কের বকেয়া চাঁদা পরিশোধ না হওয়ায় সংস্থাটি ‘আসন্ন আর্থিক ধসের’ ঝুঁকিতে পড়েছে বলে কড়া সতর্কবার্তা দিলেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। পরিস্থিতিকে তিনি জাতিসংঘের ইতিহাসে অন্যতম গুরুতর সঙ্কট বলে উল্লেখ করেছেন।
সম্প্রতি সব সদস্যদেশকে পাঠানো এক চিঠিতে গুতেরেস স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আর্থিক বিধি সংস্কার অথবা নির্ধারিত সময়ে চাঁদা পরিশোধ— এই দুইয়ের অন্তত একটিতে অবিলম্বে সিদ্ধান্ত না নিলে জাতিসংঘ কার্যত আর্থিকভাবে অচল হয়ে পড়বে। দ্রুত বকেয়া মেটানোর জন্য সদস্যরাষ্ট্রগুলোর কাছে জরুরি আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে জাতিসংঘের মুখপাত্র ফারহান হক জানান,
“চাঁদা পরিশোধের ক্ষেত্রে আর সময় নেই। পরিস্থিতি এখন ‘এখনই না হলে কখনোই নয়’ পর্যায়ে পৌঁছেছে।”
তিনি আরও বলেন, আগের বছরগুলোর মতো স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ ও তারল্য এই মুহূর্তে জাতিসংঘের হাতে নেই।
যদিও গুতেরেস নির্দিষ্ট করে কোনও দেশের নাম করেননি, তবে তাঁর এই আহ্বান এমন এক সময়ে এল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলোর জন্য আমেরিকার অর্থসাহায্য কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি জাতিসংঘ সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, জাতিসংঘের মূল বাজেটে সবচেয়ে বেশি অবদান যুক্তরাষ্ট্রের—২২ শতাংশ। তার পরেই রয়েছে চীন, যার অবদান ২০ শতাংশ। গুতেরেস জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জাতিসংঘের মোট বকেয়া চাঁদার পরিমাণ পৌঁছেছে রেকর্ড ১.৫৭ বিলিয়ন ডলারে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে জাতিসংঘ ২০২৬ সালের জন্য ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলারের বাজেট অনুমোদন করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ কম। ব্যয় সংকোচনের একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও মহাসচিব সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই তহবিল পুরোপুরি ফুরিয়ে যেতে পারে।
চিঠিতে আরও জানানো হয়েছে, একটি পুরোনো নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবছর অব্যবহৃত অর্থ সদস্যদেশগুলিকে ফেরত দিতে হয়, যা এই আর্থিক সঙ্কটকে আরও জটিল করে তুলছে।
“বাস্তবে যে অর্থ আমাদের হাতে নেই, তা ফেরত দেওয়ার এক দুষ্টচক্রে আমরা আটকে পড়েছি,”—লিখেছেন গুতেরেস।
জাতিসংঘের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্রের মধ্যে মাত্র ৩৬টি দেশ ২০২৬ সালের সম্পূর্ণ চাঁদা পরিশোধ করেছে। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।




















