ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে। সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্রে দেখা গেছে, জর্ডান–এর মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত মুয়াফফাক সালতি সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র নজিরবিহীন মাত্রায় যুদ্ধ প্রস্তুতি জোরদার করেছে।
শুক্রবার ধারণ করা ছবিতে ঘাঁটিটিতে ৬০টিরও বেশি আক্রমণাত্মক যুদ্ধবিমান মোতায়েনের প্রমাণ মিলেছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় তিন গুণ। এই অস্বাভাবিক সামরিক উপস্থিতি ইরান–এর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মার্কিন অভিযানের প্রস্তুতি কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে।
দি নিউইয়র্ক টাইমস এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী গত রোববার থেকে অন্তত ৬৮টি কার্গো বিমান ঘাঁটিতে সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে অবতরণ করেছে। উপগ্রহচিত্রে উন্নত যুদ্ধবিমান, বিশেষ করে স্টেলথ সক্ষম এফ-৩৫ জেটের উপস্থিতি দেখা গেছে। পাশাপাশি ড্রোন ও সামরিক হেলিকপ্টারও শনাক্ত হয়েছে এবং রানওয়ের বাইরে বিশেষ ছাউনির নিচে আরও যুদ্ধবিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘাঁটির নিরাপত্তা জোরদার করতে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বসানো হয়েছে। জর্ডানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির অংশ হিসেবেই এসব মোতায়েন করা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল নিয়মিত মোতায়েন নয়—বরং ইরানকে কঠোর বার্তা দেওয়ার কৌশলও হতে পারে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জানিয়েছেন, ইরানকে নতুন চুক্তিতে আনতে তিনি ‘সীমিত সামরিক হামলা’সহ বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছেন। ফলে অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই তৎপরতা এবং ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা কূটনৈতিক সমাধানের পথ সংকুচিত করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। পরিস্থিতি অবনতি হলে এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে সরাসরি পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় বিশ্বনেতারা নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।




























