দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে যে নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা গড়ে উঠেছিল, তা এখন ভাঙনের মুখে—এমনই সতর্কবার্তা উঠে এসেছে মিউনিখ নিরাপত্তা প্রতিবেদন ২০২৬-এ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নেতৃত্বে বিশ্ব এক ধরনের ‘ধ্বংসাত্মক’ রাজনীতির যুগে প্রবেশ করেছে, যা গত আট দশকের আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে নজিরবিহীন চাপে ফেলছে।
এই প্রেক্ষাপটে বার্ষিক মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ বলেন, “বড় শক্তিগুলোর রাজনীতির এই যুগে আমাদের স্বাধীনতা আর সুরক্ষিত নয়।” পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউরোপীয় দেশগুলোকে বড় ধরনের ‘ত্যাগ’ স্বীকারের প্রস্তুতি নিতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, বিশ্ব আর আগের নিয়মভিত্তিক কাঠামোয় চলছে না।
মার্জ সরাসরি স্বীকার করেন, ইউরোপ ও দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গভীর বিভেদ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু নীতি সেই ফাটলকে আরও প্রশস্ত করেছে। বিশেষ করে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড-কে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ট্রাম্পের অনড় অবস্থানকে ইউরোপীয় সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন তিনি।
এ ছাড়া শুল্কযুদ্ধ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মার্জ। ইউরোপীয় পণ্যে উচ্চ শুল্ক আরোপের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমরা রক্ষণশীলতায় বিশ্বাস করি না, আমরা মুক্ত বাণিজ্যে বিশ্বাসী।”
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য আসে ইউরোপের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে। মার্জ জানান, ইউরোপের নিজস্ব পারমাণবিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে ইমানুয়েল মাখোঁ-এর সঙ্গে তাঁর ‘গোপন আলোচনা’ চলছে। বর্তমানে ইউরোপ মূলত যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সুরক্ষা ছাতার আওতায় থাকলেও ট্রাম্পের ন্যাটোবিরোধী অবস্থানের কারণে বিকল্প নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে ভাবছে ইউরোপ।
সম্মেলনে উপস্থিত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভূরাজনীতির এই পরিবর্তনকে ‘নতুন যুগ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর বক্তব্য, “বিশ্ব খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে। আমাদের সবাইকে নতুনভাবে ভাবতে হবে, আমাদের ভূমিকা কী হবে।”




























