পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: প্রাপ্তবয়স্ক দু’জনের মধ্যে দীর্ঘকালীন পারস্পরিক সম্মতির সম্পর্ক ভেঙে গেলে বা শেষ পর্যন্ত বিয়ে না হলে, তাকে ধর্ষণের মামলা হিসেবে গণ্য করা যায় না। এক যুবকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজ করে এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি চৈতালী চট্টোপাধ্যায় দাসের একক বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগে ‘সম্মতি’র অভাব প্রমাণ করতে হলে দেখাতে হবে যে, প্রতিশ্রুতিটি শুরু থেকেই মিথ্যা ছিল।
বিচারপতি তাঁর নির্দেশে জানান, কোনো সম্পর্কে বিচ্ছেদ হওয়া বা বিয়ে না হওয়া মানেই আগেকার সম্মতিমূলক সম্পর্ককে ফৌজদারি অপরাধ বা ক্রিমিনাল কেসে রূপান্তর করা যায় না। আদালতের মতে, প্রতিশ্রুতি পালন না হওয়া এবং শুরু থেকেই প্রতারণার উদ্দেশ্য থাকা—এই দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ৫ বছরের দীর্ঘ ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পর হুট করে ধর্ষণের অভিযোগ ধোপে টেঁকে না।
পশ্চিম মেদিনীপুরের এক তরুণী ২০১৭ সালে এক যুবকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যৌন নির্যাতন এবং জোরপূর্বক গর্ভপাতের অভিযোগ আনেন। তার দাবি ছিল, ২০১৮ সালে তাঁকে জোর করে মদ্যপান করিয়ে প্রথমবার যৌন নির্যাতন করা হয়। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দিঘা, গোয়া-সহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার সহবাস করা হয়। তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তাঁকে জোর করে গর্ভপাত করানো হয় এবং পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসেন ওই যুবক।
































