১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, রবিবার, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৪৭ বছর ধরে আমেরিকায় থাকা ইরানি নারীকে গ্রেফতার

 

নিউ অরলিন্সে নিজের বাড়ির সামনে বাগানে কাজ করার সময় ৬৪ বছর বয়সি এক ইরানি নারী, মাদোনা ডোনা কাশানিয়ানকে ধরে নিয়ে যায় আমেরিকার অভিবাসন পুলিশ । তিনি প্রায় ৪৭ বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।

আরও পড়ুন: শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের, পাল্টা বার্তায় আমেরিকাকে সতর্ক করলেন খামেনি

১৯৭৮ সালে তিনি ছাত্র ভিসায় আমেরিকায় এসেছিলেন। তখন ইরানে সমস্যা থাকায় তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। যদিও তা নাকচ হয়ে যায়, পরে তাকে শর্তসাপেক্ষে আমেরিকায় থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। তার পরিবার বলছে, তিনি অভিবাসনের সব নিয়ম ঠিকঠাক মানতেন।

আরও পড়ুন: ‘আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত-অভিযানের জন্য তৈরি’: ইরানের বিক্ষোভকে উস্কে ট্রাম্পের হুমকি

বাড়ির বাগানে কাজ করার সময় গত রবিবার সকালে সাদা পোশাকের কিছু অফিসার গাড়ি নিয়ে এসে তাকে হাতকড়া পরিয়ে প্রথমে মিসিসিপির এক জেলে নিয়ে যান, পরে লুইজিয়ানার একটি অভিবাসন আটক কেন্দ্রে পাঠানো হয়। এই গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে এমন এক সময়, যখন আমেরিকা ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে। যদিও সরকার কাশানিয়ানের বিষয়ে আলাদা করে কিছু বলেনি, তারা জানিয়েছে ওই সপ্তাহে ১১ জন ইরানি নাগরিককে সারা দেশে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ক্ষমতা গ্রহণের পর ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা সর্বনিম্নে, ৫৮ শতাংশ আমেরিকানই অসন্তুষ্ট, বলছে সমীক্ষা রিপোর্ট

জানা গিয়েছে, কাশানিয়ান নিউ অরলিন্সে ছোটবেলায় চলে এসেছিলেন। এখানেই তিনি জীবন গড়ে তোলেন। পারস্য রান্না শেখানোর ভিডিয়ো ইউটিউবে দিতেন, মেয়ের ßুñলেও নিয়মিত সাহায্য করতেন। তার প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, তাকে মাত্র এক মিনিটের মধ্যে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।

গ্রেফতার হওয়ার পর তিনি খুব অল্প সময়ের জন্য ফোনে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। তারপর থেকে তার স্বামী ও মেয়ে তাকে মুক্ত করার জন্য আইনজীবী খুঁজছেন, কিন্তু লুইজিয়ানায় অভিবাসন আইনজীবী পাওয়া কঠিন। একই সপ্তাহে লুইজিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও দুই ইরানি ছাত্রকেও তাদের বাড়ি থেকে গ্রেফতারে করে ‘আইস’।

তথ্য বলছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে অপরাধ না করেও যেসব অভিবাসী আমেরিকায় থাকছেন, তাদের গ্রেফতার অনেক বেড়েছে। এই ঘটনার পর অভিবাসন নীতির মানবিক দিক এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

বিএনপির ঐতিহাসিক জয়: বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী কে এই তারেক রহমান?

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

৪৭ বছর ধরে আমেরিকায় থাকা ইরানি নারীকে গ্রেফতার

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৫, শনিবার

 

নিউ অরলিন্সে নিজের বাড়ির সামনে বাগানে কাজ করার সময় ৬৪ বছর বয়সি এক ইরানি নারী, মাদোনা ডোনা কাশানিয়ানকে ধরে নিয়ে যায় আমেরিকার অভিবাসন পুলিশ । তিনি প্রায় ৪৭ বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।

আরও পড়ুন: শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের, পাল্টা বার্তায় আমেরিকাকে সতর্ক করলেন খামেনি

১৯৭৮ সালে তিনি ছাত্র ভিসায় আমেরিকায় এসেছিলেন। তখন ইরানে সমস্যা থাকায় তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। যদিও তা নাকচ হয়ে যায়, পরে তাকে শর্তসাপেক্ষে আমেরিকায় থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। তার পরিবার বলছে, তিনি অভিবাসনের সব নিয়ম ঠিকঠাক মানতেন।

আরও পড়ুন: ‘আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত-অভিযানের জন্য তৈরি’: ইরানের বিক্ষোভকে উস্কে ট্রাম্পের হুমকি

বাড়ির বাগানে কাজ করার সময় গত রবিবার সকালে সাদা পোশাকের কিছু অফিসার গাড়ি নিয়ে এসে তাকে হাতকড়া পরিয়ে প্রথমে মিসিসিপির এক জেলে নিয়ে যান, পরে লুইজিয়ানার একটি অভিবাসন আটক কেন্দ্রে পাঠানো হয়। এই গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে এমন এক সময়, যখন আমেরিকা ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে। যদিও সরকার কাশানিয়ানের বিষয়ে আলাদা করে কিছু বলেনি, তারা জানিয়েছে ওই সপ্তাহে ১১ জন ইরানি নাগরিককে সারা দেশে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ক্ষমতা গ্রহণের পর ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা সর্বনিম্নে, ৫৮ শতাংশ আমেরিকানই অসন্তুষ্ট, বলছে সমীক্ষা রিপোর্ট

জানা গিয়েছে, কাশানিয়ান নিউ অরলিন্সে ছোটবেলায় চলে এসেছিলেন। এখানেই তিনি জীবন গড়ে তোলেন। পারস্য রান্না শেখানোর ভিডিয়ো ইউটিউবে দিতেন, মেয়ের ßুñলেও নিয়মিত সাহায্য করতেন। তার প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, তাকে মাত্র এক মিনিটের মধ্যে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।

গ্রেফতার হওয়ার পর তিনি খুব অল্প সময়ের জন্য ফোনে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। তারপর থেকে তার স্বামী ও মেয়ে তাকে মুক্ত করার জন্য আইনজীবী খুঁজছেন, কিন্তু লুইজিয়ানায় অভিবাসন আইনজীবী পাওয়া কঠিন। একই সপ্তাহে লুইজিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও দুই ইরানি ছাত্রকেও তাদের বাড়ি থেকে গ্রেফতারে করে ‘আইস’।

তথ্য বলছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে অপরাধ না করেও যেসব অভিবাসী আমেরিকায় থাকছেন, তাদের গ্রেফতার অনেক বেড়েছে। এই ঘটনার পর অভিবাসন নীতির মানবিক দিক এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।