পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: নতুন মাস শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলবে—এমন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়মে পরিবর্তন আসছে। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে FASTag, জমি ও সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন, ব্যাংকিং এবং যাচাই (ভেরিফিকেশন) ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন কার্যকর হবে। এর ফলে গাড়ির মালিক ও সম্পত্তি ক্রেতারা সরাসরি প্রভাবিত হবেন। সময়মতো এই নতুন নিয়মগুলি না জানলে ও না মানলে ভবিষ্যতে অসুবিধার মুখে পড়তে হতে পারে। কী কী বদল আসছে এবং কোন বিষয়গুলিতে তাৎক্ষণিক নজর দেওয়া দরকার, দেখে নেওয়া যাক।
ভারতের জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (NHAI) FASTag-এর সঙ্গে যুক্ত Know Your Vehicle (KYV) প্রক্রিয়া পুরোপুরি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে FASTag সক্রিয় করার পর আর অতিরিক্ত KYC যাচাইয়ের প্রয়োজন হবে না। এখন থেকে FASTag ইস্যু করার আগে গাড়ির সমস্ত তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে ব্যাংকের ওপর থাকবে।
যেসব গাড়িতে ইতিমধ্যেই FASTag লাগানো আছে, তাদের নিয়মিত KYC যাচাই করাতে হবে না। কোনও অভিযোগ দায়ের না হলে ব্যবহারকারীদের আর কোনও ধরনের যাচাই জমা দিতে হবে না। কেবল অপব্যবহার, ট্যাগ ঢিলা থাকা বা তথ্যের গরমিলের অভিযোগ উঠলে পুনরায় যাচাই করা হবে। নতুন ব্যবস্থায় ব্যাংকগুলি FASTag চালু করার আগে সম্পূর্ণভাবে গাড়ির তথ্য যাচাই করবে। প্রথমে সরকারি গাড়ি ডেটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। সেখানে তথ্য না থাকলে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। অনলাইনে কেনা FASTag-এর ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে ব্যবহারকারীদের কোনও হয়রানির সম্মুখীন হতে না হয়।
আগে বারবার KYC যাচাইয়ের কারণে ঘন ঘন নথি আপলোড, যাচাইয়ে দেরি এবং টোল প্লাজায় দীর্ঘ অপেক্ষার মতো সমস্যায় পড়তে হতো। নতুন এই ব্যবস্থার ফলে FASTag আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও সহজ হবে, যার ফলে টোল বুথে সময় বাঁচবে। এছাড়াও, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে জমি ও সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে আধার যাচাই বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এবার শুধু ক্রেতা ও বিক্রেতাই নয়, সাক্ষীদের ক্ষেত্রেও আধার প্রমাণীকরণ করতে হবে, এবং তা রেজিস্ট্রেশনের সময় সেখানেই করা হবে। সব সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে বায়োমেট্রিক মেশিন বসানো হয়েছে, যা UIDAI সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত। আঙুলের ছাপের মাধ্যমে সঙ্গে সঙ্গে পরিচয় যাচাই করা হবে এবং সফল যাচাইয়ের পরই রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এর ফলে ভুয়া আধার কার্ড ব্যবহার করে সম্পত্তি জালিয়াতি রোধ করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যেসব বয়স্ক ব্যক্তি বা শ্রমিকদের আঙুলের ছাপ মিলছে না, তাঁদের জন্য ফেস অথেনটিকেশন সুবিধা থাকবে। প্রয়োজনে আধার-সংযুক্ত মোবাইল নম্বরে পাঠানো OTP-এর মাধ্যমেও যাচাই করা যাবে। এই পদক্ষেপগুলির ফলে বেনামি সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন রোধ হবে, ভুয়া সাক্ষী শনাক্ত করা সহজ হবে এবং ভবিষ্যতের আইনি জটিলতা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি FASTag-এর নিয়ম বদলের ফলে গাড়ির মালিকরা বারবার যাচাইয়ের ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবেন।






















