১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, শনিবার, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল কেনার ছাড়পত্র আম্বানিকে!

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তিতে শেষ পর্যন্ত লাভবান হলেন মুকেশ আম্বানিই। কীভাবে? রাশিয়া থেকে তেল কিনলে ভারতের উপর বাড়তি শুল্ক চাপানো হবে বলে ভয় দেখিয়েছেন ট্রাম্প। এ দিকে, মাদুরোকে নাটকীয় কায়দায় ‘হাইজ্যাক’ করে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলের ভাণ্ডারের দখল নিয়েছে ওয়াশিংটন। সেই তেল বিক্রির জন্য বাজার দরকার আমেরিকার এবং ভারতের চেয়ে বড় ও অনুগত বাজার বিশ্বে আর কোথায়? ট্রাম্পের পুরনো বন্ধু মোদি এগিয়ে যে আসবেন তা বলাইবাহুল্য। আর মোদি কি তাঁর ঘনিষ্ঠ সঙ্গে আম্বানির স্বার্থ না দেখে পারেন? ফলত, ধনকুবের মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য লাইসেন্স দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি রিফাইনারি সংস্থাটি আবারও অনেক ছাড়ে ভালো মানের অপরিশোধিত তেল আমদানি শুরু করতে পারবে। গুজরাতের জামনগরে রিলায়েন্সের বিশাল রিফাইনারি সংস্থা রয়েছে। ফলে তাদের পরিশোধনের পরিমাণ অনেক গুণ বৃদ্ধি পাবে। বন্ধু আম্বানিকে বরাত পাইয়ে দিতে মোদি জরুরি ভূমিকা পালন করবেন, এটা স্বাভাবিক। যদিও অনেকে বলছেন, এভাবে একজন প্রেসিডেন্টকে অপহরণ করে তাঁর দেশের তৈল ভাণ্ডার দখল করা আমেরিকার ‘ফাঁদে’ হয়ত ভারতের মতো বৃহত্তর গণতন্ত্রের দেশ পা দেবে না বলে মনে করা হয়েছিল, কিন্তু তা হল না, উল্টে মোদি ঘনিষ্ঠ শিল্পপতি আম্বানিকে সেখান থেকে তেল কেনার বন্দোবস্ত করে দেওয়া হল।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গুজরাতের জামনগরে বিশ্বের বৃহত্তম একক-সাইট রিফাইনিং কমপ্লেক্স রয়েছে রিলায়েন্সের। একাধিক সূত্রের দাবি, জানুয়ারির শেষদিকে আন্তর্জাতিক আরও কয়েকটি সংস্থার সঙ্গে রিলায়েন্সও মার্কিন সরকারের কাছ থেকে সরাসরি ভেনেজুয়েলার তেল কেনার সাধারণ লাইসেন্স পেয়েছে। রিলায়েন্স এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

আরও পড়ুন: দশ ধনীর তালিকায় প্রথম আদানি, দ্বিতীয় আম্বানি, ষষ্ঠ সাবিত্রী জিন্দাল, নয়া মুখ ফাল্গুনী নাইয়ার

এতদিন মার্কিন সরকার ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু নতুন সাধারণ লাইসেন্স চালু করার ফলে এখন সরাসরি সেই সংস্থার কাছ থেকে তেল কেনা যাবে যারা ভূগর্ভ থেকে তেল উত্তোলন করেছে বা যার দখলে তেল রয়েছে। ২০১৯-২০ সালে মাদুরো সরকারের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার আগে রিলায়েন্স নিয়মিত ভেনেজুয়েলার ত্রুড তেল কিনত। ২০২৪ সালে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে তারা আবার তেল কেনে। আর এ বছর ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি শুরু হলে তারা ভিটলের কাছ থেকে ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল কেনে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং সম্ভবত ভেনেজুয়েলা থেকে আরও বেশি তেল কিনতে রাজি হয়েছেন। ভারতের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তির পর এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে তিনি জানান। ওই চুক্তির জেরে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত ২৫ শতাংশ শুল্কও প্রত্যাহার করেছে আমেরিকা। ভেনেজুয়েলার তেলের গ্রেড, বিশেষত ওরিঙ্কো বেল্ট অঞ্চল থেকে উৎপাদিত তেল, মূলত ভারী ও অতিভারী প্রকৃতির। রিলায়েন্সের জামনগর রিফাইনারিগুলি বিশ্বের অন্যতম জটিল এবং ভারী ও উচ্চ সালফারযুক্ত ত্রুড প্রক্রিয়াকরণে দক্ষ। এই ধরনের তেল অনেক কম দামে বিক্রি হয়।

আরও পড়ুন: দেশের উন্নতির জন্য অনেক আম্বানি-আদানি প্রয়োজন; অমিতাভ কান্ত

ভেনেজুয়েলার তেল কিনলে রিলায়েন্স তাদের রিফাইনিং মার্জিন আরও বাড়াতে পারবে। কারণ এই তেল থেকে ডিজেল, কেরোসিন ও এলপিজির মতো উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরি করা যায়। এবং এই পণ্যগুলির চাহিদা ভারত ও রফতানির বাজারে যথেষ্ট বেশি। রিলায়েন্সের ব্যবসায়িক মডেল রিফাইনিং পেট্রোকেমিক্যালের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে। তুলনামূলক সস্তায় ভেনেজুয়েলার ভারী তেল পাওয়া গেলে তা থেকে প্রচুর পলিমার উৎপাদন করা যাবে। তাছাড়া, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের মার্জিনও আরও বাড়বে। ফলে, এই ইন্দো-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির ফলে লাভের গুড়ের অনেকটাই যাবে আম্বানিদের ঝুলিতে।

আরও পড়ুন: আম্বানি, বাফেটকে টপকে বিশ্বের পঞ্চম ধনকুবের আদানি

প্রতিবেদক

কিবরিয়া আনসারি

Kibria obtained a master's degree in journalism from Aliah University. He has been in journalism since 2018, gaining work experience in multiple organizations. Focused and sincere about his work, Kibria is currently employed at the desk of Purber Kalom.
সর্বধিক পাঠিত

ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল কেনার ছাড়পত্র আম্বানিকে!

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল কেনার ছাড়পত্র আম্বানিকে!

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, শুক্রবার

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তিতে শেষ পর্যন্ত লাভবান হলেন মুকেশ আম্বানিই। কীভাবে? রাশিয়া থেকে তেল কিনলে ভারতের উপর বাড়তি শুল্ক চাপানো হবে বলে ভয় দেখিয়েছেন ট্রাম্প। এ দিকে, মাদুরোকে নাটকীয় কায়দায় ‘হাইজ্যাক’ করে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলের ভাণ্ডারের দখল নিয়েছে ওয়াশিংটন। সেই তেল বিক্রির জন্য বাজার দরকার আমেরিকার এবং ভারতের চেয়ে বড় ও অনুগত বাজার বিশ্বে আর কোথায়? ট্রাম্পের পুরনো বন্ধু মোদি এগিয়ে যে আসবেন তা বলাইবাহুল্য। আর মোদি কি তাঁর ঘনিষ্ঠ সঙ্গে আম্বানির স্বার্থ না দেখে পারেন? ফলত, ধনকুবের মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য লাইসেন্স দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি রিফাইনারি সংস্থাটি আবারও অনেক ছাড়ে ভালো মানের অপরিশোধিত তেল আমদানি শুরু করতে পারবে। গুজরাতের জামনগরে রিলায়েন্সের বিশাল রিফাইনারি সংস্থা রয়েছে। ফলে তাদের পরিশোধনের পরিমাণ অনেক গুণ বৃদ্ধি পাবে। বন্ধু আম্বানিকে বরাত পাইয়ে দিতে মোদি জরুরি ভূমিকা পালন করবেন, এটা স্বাভাবিক। যদিও অনেকে বলছেন, এভাবে একজন প্রেসিডেন্টকে অপহরণ করে তাঁর দেশের তৈল ভাণ্ডার দখল করা আমেরিকার ‘ফাঁদে’ হয়ত ভারতের মতো বৃহত্তর গণতন্ত্রের দেশ পা দেবে না বলে মনে করা হয়েছিল, কিন্তু তা হল না, উল্টে মোদি ঘনিষ্ঠ শিল্পপতি আম্বানিকে সেখান থেকে তেল কেনার বন্দোবস্ত করে দেওয়া হল।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গুজরাতের জামনগরে বিশ্বের বৃহত্তম একক-সাইট রিফাইনিং কমপ্লেক্স রয়েছে রিলায়েন্সের। একাধিক সূত্রের দাবি, জানুয়ারির শেষদিকে আন্তর্জাতিক আরও কয়েকটি সংস্থার সঙ্গে রিলায়েন্সও মার্কিন সরকারের কাছ থেকে সরাসরি ভেনেজুয়েলার তেল কেনার সাধারণ লাইসেন্স পেয়েছে। রিলায়েন্স এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

আরও পড়ুন: দশ ধনীর তালিকায় প্রথম আদানি, দ্বিতীয় আম্বানি, ষষ্ঠ সাবিত্রী জিন্দাল, নয়া মুখ ফাল্গুনী নাইয়ার

এতদিন মার্কিন সরকার ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু নতুন সাধারণ লাইসেন্স চালু করার ফলে এখন সরাসরি সেই সংস্থার কাছ থেকে তেল কেনা যাবে যারা ভূগর্ভ থেকে তেল উত্তোলন করেছে বা যার দখলে তেল রয়েছে। ২০১৯-২০ সালে মাদুরো সরকারের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার আগে রিলায়েন্স নিয়মিত ভেনেজুয়েলার ত্রুড তেল কিনত। ২০২৪ সালে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে তারা আবার তেল কেনে। আর এ বছর ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি শুরু হলে তারা ভিটলের কাছ থেকে ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল কেনে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং সম্ভবত ভেনেজুয়েলা থেকে আরও বেশি তেল কিনতে রাজি হয়েছেন। ভারতের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তির পর এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে তিনি জানান। ওই চুক্তির জেরে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত ২৫ শতাংশ শুল্কও প্রত্যাহার করেছে আমেরিকা। ভেনেজুয়েলার তেলের গ্রেড, বিশেষত ওরিঙ্কো বেল্ট অঞ্চল থেকে উৎপাদিত তেল, মূলত ভারী ও অতিভারী প্রকৃতির। রিলায়েন্সের জামনগর রিফাইনারিগুলি বিশ্বের অন্যতম জটিল এবং ভারী ও উচ্চ সালফারযুক্ত ত্রুড প্রক্রিয়াকরণে দক্ষ। এই ধরনের তেল অনেক কম দামে বিক্রি হয়।

আরও পড়ুন: দেশের উন্নতির জন্য অনেক আম্বানি-আদানি প্রয়োজন; অমিতাভ কান্ত

ভেনেজুয়েলার তেল কিনলে রিলায়েন্স তাদের রিফাইনিং মার্জিন আরও বাড়াতে পারবে। কারণ এই তেল থেকে ডিজেল, কেরোসিন ও এলপিজির মতো উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরি করা যায়। এবং এই পণ্যগুলির চাহিদা ভারত ও রফতানির বাজারে যথেষ্ট বেশি। রিলায়েন্সের ব্যবসায়িক মডেল রিফাইনিং পেট্রোকেমিক্যালের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে। তুলনামূলক সস্তায় ভেনেজুয়েলার ভারী তেল পাওয়া গেলে তা থেকে প্রচুর পলিমার উৎপাদন করা যাবে। তাছাড়া, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের মার্জিনও আরও বাড়বে। ফলে, এই ইন্দো-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির ফলে লাভের গুড়ের অনেকটাই যাবে আম্বানিদের ঝুলিতে।

আরও পড়ুন: আম্বানি, বাফেটকে টপকে বিশ্বের পঞ্চম ধনকুবের আদানি