১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, শুক্রবার, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মদ খেয়ে ইন্তেকাল করলে জানাজায় শামিল না হওয়ার নির্দেশ অসম মসজিদ কর্তৃপক্ষের   

পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ মদ খাওয়া ও  নেশা দ্রব্য পাচারকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিল অসমের মসজিদ ও কবরস্থান কমিটি। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ও ড্রাগস পাচারের মতো  ঘৃণ্য কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন এমন কোনও ব্যক্তি ইন্তেকাল করলে তার জানাযায় শামিল না হওয়ার নির্দেশ দিল রাজ্যের নগাঁও জেলার মসজিদ ও কবরস্থান কমিটির কর্তৃপক্ষ। মাদকসেবন ও পাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে  জুড়িয়া উদমারী বালুগুটিয়া জুম্মা মসজিদ ও জুড়িয়া কলোনী জালাহ আঞ্চলিক কবরস্থান কমিটি যৌথভাবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জুড়িয়া কলোনী জালাহ আঞ্চলিক কবরস্থান কমিটির প্রেসিডেন্ট ইমরান হুসেন জানিয়েছেন, তাদের এলাকায় বেশ কয়েকজন অবৈধ মাদক ব্যবসায় জড়িত আছে। এবং তাদের জন্য অনেক শিশু মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে।

 

আরও পড়ুন: কংগ্রেস জমানায় ৭ জেলায় অনুপ্রবেশকারী ৬৪ লাখ! অসমের জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন নিয়ে দাবি শাহের

ইমরান এদিন আরও জানান, এলাকার যে সকল যুবক-যুবতী অবৈধ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছে, তাদের এই সকল কাজ ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও তারা কোনও কথা শুনতে রাজি হয়নি। মাদকাসক্ত এবং মাদকের অবৈধ পাচারের জন্য পুলিশ তাদের গ্রেফতার করলেও, কয়েক মাস পর তারা জামিনে বেরিয়ে আসে।

আরও পড়ুন: গোরু চোর সন্দেহে গণপিটুনি অসমে: অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু একজনের, গুরুতর আহত ৪

 

আরও পড়ুন: এক সন্তানেই থামবেন না, ২-৩টি করে সন্তান নিন: হিন্দুদের আহ্বান অসমের মুখ্যমন্ত্রীর

সমস্ত ঘটনা পর্যবেক্ষণ করার পর আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, শরিয়া বিরোধী কাজে নিযুক্ত কোনও ব্যক্তি ইন্তেকাল করলে তার জানাজা এবং দাফনকার্যে আমরা শামিল হব না। এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে  সমাজকে একটাই বার্তা দিতে চাই, আমরা নেশামুক্ত অসম চাই। একই ভাবে জুড়ীয়া উদমারী বালুগুটিয়া মসজিদ নির্বাহী কমিটিও একই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে।

 

কমিটির সদস্য ফজলুল হক মোড়ল বলেন, “তরুণ প্রজন্মকে মাদকের হাত থেকে বাঁচাতে কমিটির পক্ষ থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, মাদক সেবনের কারণে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের পরিবারকেও  কোনো সাহায্য  করা হবে না বলেও জানান তিনি। তরুণ প্রজন্মের ভালো জীবনের  স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমনকি স্থানিয়রাও এই  সিদ্ধান্তের  প্রশংসা  করেছেন।  তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সরকারের সঙ্গে হাত মেলানো প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য।

 

প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে বর্তমান আসাম সরকার   মাদক পাচার ও সেবনের বিরুদ্ধে  জোরাল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।  ২০২১ সালের মে থেকে রাজ্যে ৯০০ কোটি  টাকারও বেশি মূল্যের মাদক আটক করা হয়েছে বলেই খবর।নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্স (এনডিপিএস) আইনের অধীনে ৩০০০-এরও বেশি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এবং ৫০০০-এরও বেশি মাদক  ব্যবসায়ী/পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখনও পর্যন্তও  ১০০ কেজির বেশি ড্রাগস, ২.৭ লাখ বোতল কাশির সিরাপ, ৩৯ লাখেরও বেশি নিষিদ্ধ ট্যাবলেট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছ।

প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.
সর্বধিক পাঠিত

তারেক রহমানের সঙ্গে ফোনালাপে উচ্ছ্বসিত নরেন্দ্র মোদি, বাংলাদেশের মানুষের আশাপূরণে পাশে থাকার বার্তা

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

মদ খেয়ে ইন্তেকাল করলে জানাজায় শামিল না হওয়ার নির্দেশ অসম মসজিদ কর্তৃপক্ষের   

আপডেট : ১ ডিসেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার

পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ মদ খাওয়া ও  নেশা দ্রব্য পাচারকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিল অসমের মসজিদ ও কবরস্থান কমিটি। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ও ড্রাগস পাচারের মতো  ঘৃণ্য কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন এমন কোনও ব্যক্তি ইন্তেকাল করলে তার জানাযায় শামিল না হওয়ার নির্দেশ দিল রাজ্যের নগাঁও জেলার মসজিদ ও কবরস্থান কমিটির কর্তৃপক্ষ। মাদকসেবন ও পাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে  জুড়িয়া উদমারী বালুগুটিয়া জুম্মা মসজিদ ও জুড়িয়া কলোনী জালাহ আঞ্চলিক কবরস্থান কমিটি যৌথভাবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জুড়িয়া কলোনী জালাহ আঞ্চলিক কবরস্থান কমিটির প্রেসিডেন্ট ইমরান হুসেন জানিয়েছেন, তাদের এলাকায় বেশ কয়েকজন অবৈধ মাদক ব্যবসায় জড়িত আছে। এবং তাদের জন্য অনেক শিশু মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে।

 

আরও পড়ুন: কংগ্রেস জমানায় ৭ জেলায় অনুপ্রবেশকারী ৬৪ লাখ! অসমের জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন নিয়ে দাবি শাহের

ইমরান এদিন আরও জানান, এলাকার যে সকল যুবক-যুবতী অবৈধ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছে, তাদের এই সকল কাজ ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও তারা কোনও কথা শুনতে রাজি হয়নি। মাদকাসক্ত এবং মাদকের অবৈধ পাচারের জন্য পুলিশ তাদের গ্রেফতার করলেও, কয়েক মাস পর তারা জামিনে বেরিয়ে আসে।

আরও পড়ুন: গোরু চোর সন্দেহে গণপিটুনি অসমে: অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু একজনের, গুরুতর আহত ৪

 

আরও পড়ুন: এক সন্তানেই থামবেন না, ২-৩টি করে সন্তান নিন: হিন্দুদের আহ্বান অসমের মুখ্যমন্ত্রীর

সমস্ত ঘটনা পর্যবেক্ষণ করার পর আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, শরিয়া বিরোধী কাজে নিযুক্ত কোনও ব্যক্তি ইন্তেকাল করলে তার জানাজা এবং দাফনকার্যে আমরা শামিল হব না। এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে  সমাজকে একটাই বার্তা দিতে চাই, আমরা নেশামুক্ত অসম চাই। একই ভাবে জুড়ীয়া উদমারী বালুগুটিয়া মসজিদ নির্বাহী কমিটিও একই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে।

 

কমিটির সদস্য ফজলুল হক মোড়ল বলেন, “তরুণ প্রজন্মকে মাদকের হাত থেকে বাঁচাতে কমিটির পক্ষ থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, মাদক সেবনের কারণে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের পরিবারকেও  কোনো সাহায্য  করা হবে না বলেও জানান তিনি। তরুণ প্রজন্মের ভালো জীবনের  স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমনকি স্থানিয়রাও এই  সিদ্ধান্তের  প্রশংসা  করেছেন।  তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সরকারের সঙ্গে হাত মেলানো প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য।

 

প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে বর্তমান আসাম সরকার   মাদক পাচার ও সেবনের বিরুদ্ধে  জোরাল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।  ২০২১ সালের মে থেকে রাজ্যে ৯০০ কোটি  টাকারও বেশি মূল্যের মাদক আটক করা হয়েছে বলেই খবর।নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্স (এনডিপিএস) আইনের অধীনে ৩০০০-এরও বেশি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এবং ৫০০০-এরও বেশি মাদক  ব্যবসায়ী/পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখনও পর্যন্তও  ১০০ কেজির বেশি ড্রাগস, ২.৭ লাখ বোতল কাশির সিরাপ, ৩৯ লাখেরও বেশি নিষিদ্ধ ট্যাবলেট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছ।