১৫ জানুয়ারী ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অসমে জন্মগ্রহণকারী বাঙালি হিন্দুদের ‘বাংলাদেশি’ অপবাদ নিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে: গগৈ

পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: সিএএ করা হয়েছিল অসমে জন্মগ্রহণকারী বাঙালি হিন্দুদের স্বার্থে যাদের নাম  এনআরসির তালিকায় ছিল না। এনআরসি-তে নাম না ওঠার জন্য এই হিন্দুরা অসমের বিজেপি সরকারের  উপর ক্ষুব্ধ। সেই ক্ষোভ দূর করে তাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার লক্ষ্যে অসমে জন্মগ্রহণকারী এই বাঙালি হিন্দুদের দিয়ে মিথ্যা বলাতে চাইছে রাজ্য সরকার।  এইসব এনআরসি ছুট্ অসমে জন্মগ্রহণকারী বাঙালি হিন্দুদের এখন সিএএ-র অধীনে ভারতীয় নাগরিকত্ব  দেওয়ার জন্য রাজ্যের বিজেপি সরকার তাদের অসত্য তথ্য দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এই মিথ্যা বলার জন্য যে, তারা বাংলাদেশ থেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে উদ্বাস্তু হয়ে এখানে এসেছে। এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন রাজ্যের কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ।

গৌরব গগৈ বলেন, অসমের বাঙালি হিন্দুদের সিএএ-র  আওতায় নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য তাদের ‘উৎস’ (আদি বাসস্থান) সম্পর্কে অসত্য বলার জন্য চাপ দিচ্ছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। একইসঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, বিজেপি এখানে ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ (ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত করে শাসন) নীতি অবলম্বন করতে চাইলে  মণিপুরের মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে।

এক সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গগৈ সিএএ ইস্যুতে কেন্দ্রের সমালোচনা করে বলেন, অসমে এনআরসি থেকে বাদ পড়া লোকদের এই সিএএ-র অধীনে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য তাদের অসত্য তথ্য দিতে চাপ দিচ্ছে। তাঁর দাবি, সিএএ মূলত করা হয়েছে অসমে জন্মগ্রহণ করা বাঙালি হিন্দুদের  স্বার্থে, যাদের নাম কোন্য কারমে নেআরসি থেকে বাদ পড়েছে। আর এখন অসমে জন্মগ্রহণকারী বাংলাভাষীদের সরকারের তরফে বলা হচ্ছে, নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য তারা যেন নিজেদের বাংলাদেশ থেকে আগত উদ্বাস্তু হিসেবে উল্লেখ করে। অসমে জন্মগ্রহণকারী বাঙালি হিন্দুদের যেভাবে অসম সরকার  চাপ দিচ্ছে নিজেদের বাংলাদেশ থেকে আগত উদ্বাস্তু হিসেবে স্বাকারোক্তি দেওয়ার জন্য তা অত্যন্ত লজ্জার। এটা তাদের আত্মমর্যাদাকে আঘাত করবে। জন্মসূত্রে অসমের প্রকৃত বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও তাদের যেভাবে  ‘বাংলাদেশি শরণার্থী’র তকমা গায়ে মেখে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে তা নিন্দনীয় ও অমর্যাদাকর।  তিনি অভিযোগ করেন যে, সরকার বাংলাভাষী জনগণকে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এখন অসমে বাংলা ও অসমিয়াভাষী মানুষের মধ্যে ফাটল সৃষ্টি করতে চাইছে। এরপরই গগৈ স্মরণ করিয়ে দেন, কীভাবে বিজেপি দু’টি মণিপুর (কুকিদের মণিপুর ও মেইতেইদের মণিপুর) তৈরি করেছিল এবং এই একই ধরনের বিভাজন অসমে বাংলাভাষী ও অসমিয়াভাষীদের মধ্যে করতে চাইছে তারা। সেক্ষেত্রে অসমের পরিস্থিতিও মণিপুরের মতো হয়ে উঠবে।

চূড়ান্ত এনআরসি ৩১ আগস্ট, ২০১৯ এ প্রকাশিত হয়েছিল এবং ১৯ লাখেরও বেশি লোককে বাদ দেওয়া হয়েছিল। গগৈ-এর কথায়, ‘আমি মনে করি সরকার মূলত এই লোকদের তাদের উত্স এবং ঐতিহ্য সম্পর্কে মিথ্যা বলতে বাধ্য করছে, যা তাদের এবং তাদের প্রতিবেশীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করবে। বিজেপি সরকার সমাজে তাদের (বাংলাভাষী হিন্দুদের) খ্যাতিকে কুলষিত করার চেষ্টা করছে। আমি মনে করি এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আমরা একটি সত্যিকারের এবং ত্রুটিমুক্ত এনআরসি চেয়েছিলাম। সকল বাংলাভাষী যারা প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক তাদের তালিকায় থাকা উচিত ছিল।’ তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ছাত্র সংগঠন এবং রাজনৈতিক দলগুলি যারা শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সিএএ বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে চায় তাদের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

 

ট্যাগ :
প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.
সর্বধিক পাঠিত

নিউ আলিপুর-সহ পাঁচ জায়গায় ভোর থেকে সিবিআইয়ের তল্লাশি, মোতায়েন বাড়তি বাহিনী

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

অসমে জন্মগ্রহণকারী বাঙালি হিন্দুদের ‘বাংলাদেশি’ অপবাদ নিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে: গগৈ

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২৪, রবিবার

পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: সিএএ করা হয়েছিল অসমে জন্মগ্রহণকারী বাঙালি হিন্দুদের স্বার্থে যাদের নাম  এনআরসির তালিকায় ছিল না। এনআরসি-তে নাম না ওঠার জন্য এই হিন্দুরা অসমের বিজেপি সরকারের  উপর ক্ষুব্ধ। সেই ক্ষোভ দূর করে তাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার লক্ষ্যে অসমে জন্মগ্রহণকারী এই বাঙালি হিন্দুদের দিয়ে মিথ্যা বলাতে চাইছে রাজ্য সরকার।  এইসব এনআরসি ছুট্ অসমে জন্মগ্রহণকারী বাঙালি হিন্দুদের এখন সিএএ-র অধীনে ভারতীয় নাগরিকত্ব  দেওয়ার জন্য রাজ্যের বিজেপি সরকার তাদের অসত্য তথ্য দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এই মিথ্যা বলার জন্য যে, তারা বাংলাদেশ থেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে উদ্বাস্তু হয়ে এখানে এসেছে। এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন রাজ্যের কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ।

গৌরব গগৈ বলেন, অসমের বাঙালি হিন্দুদের সিএএ-র  আওতায় নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য তাদের ‘উৎস’ (আদি বাসস্থান) সম্পর্কে অসত্য বলার জন্য চাপ দিচ্ছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। একইসঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, বিজেপি এখানে ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ (ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত করে শাসন) নীতি অবলম্বন করতে চাইলে  মণিপুরের মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে।

এক সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গগৈ সিএএ ইস্যুতে কেন্দ্রের সমালোচনা করে বলেন, অসমে এনআরসি থেকে বাদ পড়া লোকদের এই সিএএ-র অধীনে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য তাদের অসত্য তথ্য দিতে চাপ দিচ্ছে। তাঁর দাবি, সিএএ মূলত করা হয়েছে অসমে জন্মগ্রহণ করা বাঙালি হিন্দুদের  স্বার্থে, যাদের নাম কোন্য কারমে নেআরসি থেকে বাদ পড়েছে। আর এখন অসমে জন্মগ্রহণকারী বাংলাভাষীদের সরকারের তরফে বলা হচ্ছে, নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য তারা যেন নিজেদের বাংলাদেশ থেকে আগত উদ্বাস্তু হিসেবে উল্লেখ করে। অসমে জন্মগ্রহণকারী বাঙালি হিন্দুদের যেভাবে অসম সরকার  চাপ দিচ্ছে নিজেদের বাংলাদেশ থেকে আগত উদ্বাস্তু হিসেবে স্বাকারোক্তি দেওয়ার জন্য তা অত্যন্ত লজ্জার। এটা তাদের আত্মমর্যাদাকে আঘাত করবে। জন্মসূত্রে অসমের প্রকৃত বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও তাদের যেভাবে  ‘বাংলাদেশি শরণার্থী’র তকমা গায়ে মেখে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে তা নিন্দনীয় ও অমর্যাদাকর।  তিনি অভিযোগ করেন যে, সরকার বাংলাভাষী জনগণকে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এখন অসমে বাংলা ও অসমিয়াভাষী মানুষের মধ্যে ফাটল সৃষ্টি করতে চাইছে। এরপরই গগৈ স্মরণ করিয়ে দেন, কীভাবে বিজেপি দু’টি মণিপুর (কুকিদের মণিপুর ও মেইতেইদের মণিপুর) তৈরি করেছিল এবং এই একই ধরনের বিভাজন অসমে বাংলাভাষী ও অসমিয়াভাষীদের মধ্যে করতে চাইছে তারা। সেক্ষেত্রে অসমের পরিস্থিতিও মণিপুরের মতো হয়ে উঠবে।

চূড়ান্ত এনআরসি ৩১ আগস্ট, ২০১৯ এ প্রকাশিত হয়েছিল এবং ১৯ লাখেরও বেশি লোককে বাদ দেওয়া হয়েছিল। গগৈ-এর কথায়, ‘আমি মনে করি সরকার মূলত এই লোকদের তাদের উত্স এবং ঐতিহ্য সম্পর্কে মিথ্যা বলতে বাধ্য করছে, যা তাদের এবং তাদের প্রতিবেশীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করবে। বিজেপি সরকার সমাজে তাদের (বাংলাভাষী হিন্দুদের) খ্যাতিকে কুলষিত করার চেষ্টা করছে। আমি মনে করি এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আমরা একটি সত্যিকারের এবং ত্রুটিমুক্ত এনআরসি চেয়েছিলাম। সকল বাংলাভাষী যারা প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক তাদের তালিকায় থাকা উচিত ছিল।’ তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ছাত্র সংগঠন এবং রাজনৈতিক দলগুলি যারা শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সিএএ বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে চায় তাদের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।