১৩ জানুয়ারী ২০২৬, মঙ্গলবার, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বেহাল রাস্তা নিয়ে উত্তপ্ত বিধানসভা, ড্রপ বক্স রাখার পরামর্শ অধ্যক্ষের

পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: রাজ্যের একাধিক জায়গায় বেহাল রাস্তার  হাল  বুধবার বিধানসভায় শুরু হল উত্তপ্ত আলোচনা। প্রশ্নোত্তর পর্বে পরপর একাধিক বিধায়ক যখন নিজেদের এলাকার রাস্তার অবস্থার কথা তুলে ধরছেন, তখন দৃশ্যত বিরক্ত ও উষ্মা প্রকাশ করলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কটাক্ষ, “বর্ষায় রাস্তার অবস্থা যে খুব খারাপ হয়েছে, তা তো হাত তুলে তুলেই প্রমাণ দিচ্ছেন সদস্যরা!”

রাজ্যের পূর্ত দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী পুলক রায় এদিন প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন যথাসাধ্য। কিন্তু এক বিধায়কের প্রশ্নের উত্তর শেষ হওয়ার আগেই অন্য বিধায়কেরা হাত তুলে দাঁড়াতে থাকেন—প্রত্যেকেই রাস্তার দুরবস্থা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে অধ্যক্ষ সরাসরি বলেন, “আপনি (মন্ত্রী পুলক রায়) আগে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের জন্য বিধানসভায় একটা ড্রপ বক্স রেখেছিলেন। এবার রাস্তার জন্যও একখানা ড্রপ বক্স রাখুন। যে সমস্ত বিধায়কের অভিযোগ আছে, তারা সেই বক্সে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে দিন। দুই দিনের মধ্যে সবাইকে বলুন অভিযোগ দিতে।”

আরও পড়ুন: ঘৃণাভাষণে রাশ টানল কর্নাটক সরকার, বিজেপির আপত্তি উড়িয়ে বিধানসভায় পাশ বিদ্বেষ ভাষণ প্রতিরোধ আইন

অধ্যক্ষের পরামর্শ শুনেই সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দেন মন্ত্রী। জানান, “আজই ড্রপ বক্স রাখার ব্যবস্থা করব। যে সমস্ত অভিযোগ আসবে, আমরা দফতরের তরফ থেকে তা খতিয়ে দেখব।” তবে এখানেই শেষ নয়। মন্ত্রী জানান, “সব রাস্তা পূর্ত দফতরের আওতায় পড়ে না। অনেক ক্ষেত্রে পঞ্চায়েত দফতর বা শহরে নগরোন্নয়ন দফতরের অধীনে পড়ে। তাই সব অভিযোগের দায় পূর্ত দফতরের উপরে চাপানোও ঠিক নয়।”

আরও পড়ুন: বিধানসভাতে বিধায়কদের নিরাপত্তারক্ষী আসা নিয়ে প্রশ্ন হাই কোর্টের

তবে এই যুক্তি তুলে ধরলেও বিধায়কদের ক্ষোভ কিন্তু মেটেনি। অনেকেই মনে করছেন, বর্ষার মুখে এই সমস্যা আরও প্রকট হয়ে উঠবে, তাই এখনই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একাধিক এলাকায় খোঁড়াখুঁড়ি শেষ হলেও ঠিকমতো রাস্তা সারানো হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুন: জোড়া ইস্যুতে তপ্ত বিধানসভা! ওয়াকআউট বিজেপির

রাজনীতির ময়দানে এই প্রসঙ্গও তুঙ্গে। বিরোধীদের একাংশ বলছে, “সরকারি প্রচার যতই হোক না কেন, বাস্তবে রাস্তাঘাটের যা হাল, তাতে মানুষের ভোগান্তি কমার নয়।” এখন দেখার, ড্রপ বক্সে জমা পড়া অভিযোগের পর পূর্ত দফতরের তরফে কোনও বাস্তব পরিবর্তন দেখা যায় কি না। আপাতত অধিবেশনের ভেতরে ও বাইরে, আলোচনার কেন্দ্রে সেই ‘ড্রপ বক্স’।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

সীমান্তে পাক ড্রোন, ‘দুর্বলতা খুঁজতে এসেছিল’ কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন জেনারেল দ্বিবেদী

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

বেহাল রাস্তা নিয়ে উত্তপ্ত বিধানসভা, ড্রপ বক্স রাখার পরামর্শ অধ্যক্ষের

আপডেট : ১১ জুন ২০২৫, বুধবার

পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: রাজ্যের একাধিক জায়গায় বেহাল রাস্তার  হাল  বুধবার বিধানসভায় শুরু হল উত্তপ্ত আলোচনা। প্রশ্নোত্তর পর্বে পরপর একাধিক বিধায়ক যখন নিজেদের এলাকার রাস্তার অবস্থার কথা তুলে ধরছেন, তখন দৃশ্যত বিরক্ত ও উষ্মা প্রকাশ করলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কটাক্ষ, “বর্ষায় রাস্তার অবস্থা যে খুব খারাপ হয়েছে, তা তো হাত তুলে তুলেই প্রমাণ দিচ্ছেন সদস্যরা!”

রাজ্যের পূর্ত দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী পুলক রায় এদিন প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন যথাসাধ্য। কিন্তু এক বিধায়কের প্রশ্নের উত্তর শেষ হওয়ার আগেই অন্য বিধায়কেরা হাত তুলে দাঁড়াতে থাকেন—প্রত্যেকেই রাস্তার দুরবস্থা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে অধ্যক্ষ সরাসরি বলেন, “আপনি (মন্ত্রী পুলক রায়) আগে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের জন্য বিধানসভায় একটা ড্রপ বক্স রেখেছিলেন। এবার রাস্তার জন্যও একখানা ড্রপ বক্স রাখুন। যে সমস্ত বিধায়কের অভিযোগ আছে, তারা সেই বক্সে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে দিন। দুই দিনের মধ্যে সবাইকে বলুন অভিযোগ দিতে।”

আরও পড়ুন: ঘৃণাভাষণে রাশ টানল কর্নাটক সরকার, বিজেপির আপত্তি উড়িয়ে বিধানসভায় পাশ বিদ্বেষ ভাষণ প্রতিরোধ আইন

অধ্যক্ষের পরামর্শ শুনেই সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দেন মন্ত্রী। জানান, “আজই ড্রপ বক্স রাখার ব্যবস্থা করব। যে সমস্ত অভিযোগ আসবে, আমরা দফতরের তরফ থেকে তা খতিয়ে দেখব।” তবে এখানেই শেষ নয়। মন্ত্রী জানান, “সব রাস্তা পূর্ত দফতরের আওতায় পড়ে না। অনেক ক্ষেত্রে পঞ্চায়েত দফতর বা শহরে নগরোন্নয়ন দফতরের অধীনে পড়ে। তাই সব অভিযোগের দায় পূর্ত দফতরের উপরে চাপানোও ঠিক নয়।”

আরও পড়ুন: বিধানসভাতে বিধায়কদের নিরাপত্তারক্ষী আসা নিয়ে প্রশ্ন হাই কোর্টের

তবে এই যুক্তি তুলে ধরলেও বিধায়কদের ক্ষোভ কিন্তু মেটেনি। অনেকেই মনে করছেন, বর্ষার মুখে এই সমস্যা আরও প্রকট হয়ে উঠবে, তাই এখনই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একাধিক এলাকায় খোঁড়াখুঁড়ি শেষ হলেও ঠিকমতো রাস্তা সারানো হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুন: জোড়া ইস্যুতে তপ্ত বিধানসভা! ওয়াকআউট বিজেপির

রাজনীতির ময়দানে এই প্রসঙ্গও তুঙ্গে। বিরোধীদের একাংশ বলছে, “সরকারি প্রচার যতই হোক না কেন, বাস্তবে রাস্তাঘাটের যা হাল, তাতে মানুষের ভোগান্তি কমার নয়।” এখন দেখার, ড্রপ বক্সে জমা পড়া অভিযোগের পর পূর্ত দফতরের তরফে কোনও বাস্তব পরিবর্তন দেখা যায় কি না। আপাতত অধিবেশনের ভেতরে ও বাইরে, আলোচনার কেন্দ্রে সেই ‘ড্রপ বক্স’।