০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, মঙ্গলবার, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলায় ভূমিকম্প! ঘর থেকে বেরিয়ে এলো মানুষ

Seismograph with paper in action and earthquake - 3D Rendering

আচমকা কম্পনে কেঁপে উঠল পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু এলাকা। সেকেন্ডের জন্য হলেও ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি অনুভূত হতেই আতঙ্কে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন বহু মানুষ। হঠাৎ দুলে ওঠা বাড়ি, জানালা–দরজার কাঁপুনিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয় ভয় ও চাঞ্চল্য।

সেক্টর ফাইভে কর্মরত ইব্রাহিম মন্ডল বলেন, হঠাৎ কাঁপতে লাগলাম। অন্যকর্মীরাও ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন।

কলকাতা,সঙ্গে কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ, নদিয়া থেকে মুর্শিদাবাদ,প্রায় গোটা বাংলাই অনুভব করল ভূমিকম্পের দোল। আমেরিকার জিওলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৫। ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল বাংলাদেশের নরসিংদী থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে, ভূমি থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। এতটাই অগভীর উৎসস্থল হওয়ায় কম্পন আছড়ে পড়েছে তীব্র অনুভূতির সঙ্গে।

সকাল ১০টা ৮ মিনিট নাগাদ হঠাৎই ভবন, ঘর-বাড়ি, অফিসে দুলতে শুরু করে পাখা, টেবিল, চেয়ার। কোথাও কোথাও দেওয়ালে টানানো ছবি দুলে ওঠে। শীতের আবহে ঘরে অধিকাংশের সিলিং ফ্যান বন্ধ থাকায় কম্পনের তীব্রতা আরও পরিষ্কারভাবে বোঝা গেছে। কয়েক সেকেন্ড ধরে স্থায়ী এই কাঁপুনিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে শহরের সর্বত্র। বহু মানুষই দৌড়ে রাস্তায় নেমে আসেন।

বাংলাদেশেও একই সময়ে তীব্র কম্পন টের পাওয়া যায়। ঢাকায় বহু মানুষ ভবন থেকে নেমে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন। বরিশাল-সহ একাধিক অঞ্চলে কম্পনের আতঙ্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়ায়। বাংলাদেশের সময় অনুযায়ী কম্পন অনুভূত হয়েছে সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে।

কলকাতা সাধারণত ভূমিকম্পপ্রবণ নয়। মাঝেমধ্যে বাংলাদেশে ভূমিকম্প হলে তার প্রভাব মৃদুভাবে অনুভূত হয় শহরে। কিন্তু শুক্রবারের কম্পন ছিল তুলনামূলক অনেক বেশি জোরালো। কারণ, ভূমিকম্পের উৎস ছিল অগভীর এবং এ অঞ্চলের খুব কাছে—এমনটাই মত ভূমিকম্পবিদদের একাংশের।

এখনও পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই। তবে বহু ভবনে হালকা দুলুনি অনুভূত হওয়ায় আতঙ্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে এবং নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

সুপ্রিম কোর্টে পিছোল I-PAC শুনানি, পরবর্তী দিনক্ষণ ১০ ফেব্রুয়ারি

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

বাংলায় ভূমিকম্প! ঘর থেকে বেরিয়ে এলো মানুষ

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২৫, শুক্রবার

আচমকা কম্পনে কেঁপে উঠল পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু এলাকা। সেকেন্ডের জন্য হলেও ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি অনুভূত হতেই আতঙ্কে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন বহু মানুষ। হঠাৎ দুলে ওঠা বাড়ি, জানালা–দরজার কাঁপুনিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয় ভয় ও চাঞ্চল্য।

সেক্টর ফাইভে কর্মরত ইব্রাহিম মন্ডল বলেন, হঠাৎ কাঁপতে লাগলাম। অন্যকর্মীরাও ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন।

কলকাতা,সঙ্গে কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ, নদিয়া থেকে মুর্শিদাবাদ,প্রায় গোটা বাংলাই অনুভব করল ভূমিকম্পের দোল। আমেরিকার জিওলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৫। ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল বাংলাদেশের নরসিংদী থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে, ভূমি থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। এতটাই অগভীর উৎসস্থল হওয়ায় কম্পন আছড়ে পড়েছে তীব্র অনুভূতির সঙ্গে।

সকাল ১০টা ৮ মিনিট নাগাদ হঠাৎই ভবন, ঘর-বাড়ি, অফিসে দুলতে শুরু করে পাখা, টেবিল, চেয়ার। কোথাও কোথাও দেওয়ালে টানানো ছবি দুলে ওঠে। শীতের আবহে ঘরে অধিকাংশের সিলিং ফ্যান বন্ধ থাকায় কম্পনের তীব্রতা আরও পরিষ্কারভাবে বোঝা গেছে। কয়েক সেকেন্ড ধরে স্থায়ী এই কাঁপুনিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে শহরের সর্বত্র। বহু মানুষই দৌড়ে রাস্তায় নেমে আসেন।

বাংলাদেশেও একই সময়ে তীব্র কম্পন টের পাওয়া যায়। ঢাকায় বহু মানুষ ভবন থেকে নেমে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন। বরিশাল-সহ একাধিক অঞ্চলে কম্পনের আতঙ্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়ায়। বাংলাদেশের সময় অনুযায়ী কম্পন অনুভূত হয়েছে সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে।

কলকাতা সাধারণত ভূমিকম্পপ্রবণ নয়। মাঝেমধ্যে বাংলাদেশে ভূমিকম্প হলে তার প্রভাব মৃদুভাবে অনুভূত হয় শহরে। কিন্তু শুক্রবারের কম্পন ছিল তুলনামূলক অনেক বেশি জোরালো। কারণ, ভূমিকম্পের উৎস ছিল অগভীর এবং এ অঞ্চলের খুব কাছে—এমনটাই মত ভূমিকম্পবিদদের একাংশের।

এখনও পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই। তবে বহু ভবনে হালকা দুলুনি অনুভূত হওয়ায় আতঙ্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে এবং নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।