১৪ জানুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভারতের চিকিৎসক প্রাণ বাঁচালেন এক পাকিস্তানি কিশোরীর, জেনে নিন কি ভাবে

পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ পাকিস্তানি নাবালিকা আফসিন গুল একটি বিরল রোগে ভুগছিলেন।যা তার ঘাড়কে ৯০ ডিগ্রি এঙ্গেলে বাঁকিয়ে রেখেছিল।১৩ বছর বয়সি এই নাবালিকা জীবনে কখনও স্কুলে যায়নি।স্কুলে যাবে ।বন্ধু বানাবে,তাদের সঙ্গে খেলা করবে এই সব কথা গুলো তার কাছে স্বপ্নের মতন।দশ মাস বয়সে তার দিদির কোল থেকে পড়ে গিয়ে ঘটে যায় দুর্ঘটনা।তারপর থেকেই গিয়ে আফসিনের ঘাড় প্রায় ৯০ ডিগ্রি বেঁকে যায়।

সঙ্গে সঙ্গে তার বাবা-মা তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলও মেলেনি ফল। তার ব্যথা ক্রমশ বাড়তেই থাকে। পরে অভাবের কারণে তার বাবা-মা আর চিকিৎসা করাতে পারেননি। আফসিনের সেরিব্রাল পলসির মতো জটিল রোগও রয়েছে।

আরও পড়ুন: আরজি কর: চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের মামলা কলকাতা হাইকোর্টে স্থানান্তর করল সুপ্রিম কোর্ট

বছর ১২ বাদে আফসিনের জীবনে আসে বড় পরিবর্তন। বিনা খরচে পাকিস্তানি এই নাবালিকার চিকিৎসা করেন ভারতের ডাক্তার রাজাগোপালন কৃষ্ণান। তিনি দিল্লির এক বেসরকারি হাসপাতালে আপসিনের ঘাড়ের সফল অস্ত্রোপচার করেন।

আরও পড়ুন: ইতিহাস তৈরি করে ভারতের মেয়েদের বিশ্ব জয়

যদিও অস্ত্রোপচারের আগে ডাক্তার বলে দিয়েছিল এই অপারেশনের পর তার মৃত্যুও হতে পারে।তারপরেও ঝুঁকি নিয়েছিল আফসিনের পরিবার।
উল্লেখ্য,এক ব্রিটিশ সাংবাদিক আলেকজান্দ্রিয়া থোমাস পাকিস্তানি নাবালিকা আফসিনকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন লেখেন। আর সম্ভবত সেই সাংবাদিকই চিকিৎসক রাজাগোপালনের সঙ্গে আফসিনের পরিচয় করান। চিকিৎসকের মতে, এই ধরনের অস্ত্রোপচার সারা বিশ্বে প্রথম বলেই খবর।

আরও পড়ুন: ওয়াশিংটনে আত্মঘাতী ভারতীয় উদ্যোগপতি, স্ত্রী-পুত্রকে খুন করে আত্মহত্যা অনুমান গোয়েন্দাদের

আফসিনের মোট চার বার অস্ত্রপচার করা হয়। শেষ অস্ত্রোপচারটি করা হয় ফেব্রুয়ারি মাসে। এখন আফসিন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে দেশে ফিরেছে। চিকিৎসক রাজাগোপালন নিয়মিত স্কাইপে রোগীর খোঁজখবর নেন।

অস্ত্রোপচারটির পর ডাক্তার রাজাগোপালন কৃষ্ণান বলেন, এই চিকিৎসা না করালে ওই তরুণী আর বেশি দিন বাঁচত না।

ট্যাগ :
প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.
সর্বধিক পাঠিত

জুনিয়র মিস ইন্ডিয়ায় বাঙালি কিশোরীর মাথায় মুকুট, চ্যাম্পিয়ন মালদহের প্রিন্সিপ্রিয়া

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

ভারতের চিকিৎসক প্রাণ বাঁচালেন এক পাকিস্তানি কিশোরীর, জেনে নিন কি ভাবে

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২২, সোমবার

পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ পাকিস্তানি নাবালিকা আফসিন গুল একটি বিরল রোগে ভুগছিলেন।যা তার ঘাড়কে ৯০ ডিগ্রি এঙ্গেলে বাঁকিয়ে রেখেছিল।১৩ বছর বয়সি এই নাবালিকা জীবনে কখনও স্কুলে যায়নি।স্কুলে যাবে ।বন্ধু বানাবে,তাদের সঙ্গে খেলা করবে এই সব কথা গুলো তার কাছে স্বপ্নের মতন।দশ মাস বয়সে তার দিদির কোল থেকে পড়ে গিয়ে ঘটে যায় দুর্ঘটনা।তারপর থেকেই গিয়ে আফসিনের ঘাড় প্রায় ৯০ ডিগ্রি বেঁকে যায়।

সঙ্গে সঙ্গে তার বাবা-মা তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলও মেলেনি ফল। তার ব্যথা ক্রমশ বাড়তেই থাকে। পরে অভাবের কারণে তার বাবা-মা আর চিকিৎসা করাতে পারেননি। আফসিনের সেরিব্রাল পলসির মতো জটিল রোগও রয়েছে।

আরও পড়ুন: আরজি কর: চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের মামলা কলকাতা হাইকোর্টে স্থানান্তর করল সুপ্রিম কোর্ট

বছর ১২ বাদে আফসিনের জীবনে আসে বড় পরিবর্তন। বিনা খরচে পাকিস্তানি এই নাবালিকার চিকিৎসা করেন ভারতের ডাক্তার রাজাগোপালন কৃষ্ণান। তিনি দিল্লির এক বেসরকারি হাসপাতালে আপসিনের ঘাড়ের সফল অস্ত্রোপচার করেন।

আরও পড়ুন: ইতিহাস তৈরি করে ভারতের মেয়েদের বিশ্ব জয়

যদিও অস্ত্রোপচারের আগে ডাক্তার বলে দিয়েছিল এই অপারেশনের পর তার মৃত্যুও হতে পারে।তারপরেও ঝুঁকি নিয়েছিল আফসিনের পরিবার।
উল্লেখ্য,এক ব্রিটিশ সাংবাদিক আলেকজান্দ্রিয়া থোমাস পাকিস্তানি নাবালিকা আফসিনকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন লেখেন। আর সম্ভবত সেই সাংবাদিকই চিকিৎসক রাজাগোপালনের সঙ্গে আফসিনের পরিচয় করান। চিকিৎসকের মতে, এই ধরনের অস্ত্রোপচার সারা বিশ্বে প্রথম বলেই খবর।

আরও পড়ুন: ওয়াশিংটনে আত্মঘাতী ভারতীয় উদ্যোগপতি, স্ত্রী-পুত্রকে খুন করে আত্মহত্যা অনুমান গোয়েন্দাদের

আফসিনের মোট চার বার অস্ত্রপচার করা হয়। শেষ অস্ত্রোপচারটি করা হয় ফেব্রুয়ারি মাসে। এখন আফসিন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে দেশে ফিরেছে। চিকিৎসক রাজাগোপালন নিয়মিত স্কাইপে রোগীর খোঁজখবর নেন।

অস্ত্রোপচারটির পর ডাক্তার রাজাগোপালন কৃষ্ণান বলেন, এই চিকিৎসা না করালে ওই তরুণী আর বেশি দিন বাঁচত না।