১৩ জানুয়ারী ২০২৬, মঙ্গলবার, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
‘ধর্মনিরপেক্ষ’ রাজনৈতিক দলগুলি কি জবাব চাইবে, ৬ জন নামাযিকে কে হত্যা করল?

মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলার খালাসের রায়ে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির তীব্র সমালোচনা

পুবের কলম, হায়দরাবাদ: মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলার রায় নিয়ে দেশে শোরগোল পড়ে গেছে। যে এনআইএ কয়েক মাস আগেই সাধ্বী প্রজ্ঞা, কর্নেল পুরোহিতসহ বিস্ফোরণের মাস্টারমাইন্ডদের ফাঁসি চেয়েছিল, তাদের হঠাৎ কী হল যে আদালতের কাছে কোনও প্রমাণই পেশ করতে পারল না অপরাধীদের বিরুদ্ধে! তারা বেকসুর  খালাস পেয়ে গেল এনআইয়ের আদালতে।

 

আরও পড়ুন: Malegaon blast: পেয়েছিলেন ‘জঙ্গি’ তকমা,  অভিযোগ থেকে মুক্তির পর কর্নেল পদে প্রমোশন পেলেন প্রসাদ পুরোহিত

এই ঘটনায় অভিযুক্তদের খালাস পাওয়ার পর অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমীনের প্রধান তথা  হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়াইসি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বিচার ব্যবস্থার এই রায়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছেন, ৬ জন নামাযিকে কে হত্যা করল তাহলে? তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, ২০০৮ সালে সংঘটিত এই বোমা বিস্ফোরণে যারা মারা গিয়েছিলেন, তারা সবাই নামায পড়তে গিয়েছিলেন। ওই ঘটনায় আরও শতাধিক মানুষ আহত হন।

আরও পড়ুন: সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ‘নির্বাচিত’ পদক্ষেপ, উত্তরপ্রদেশ পুলিসের সমালোচনা আসাদউদ্দিন ওয়াইসির

 

আরও পড়ুন: মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলার খালাসের রায়ে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির তীব্র সমালোচনা

দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলা এই মামলার পর আদালত যখন সব অভিযুক্তকে নির্দোষ ঘোষণা করল, তখন এই রায়ের ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিস্ফোরণের ১৭ বছর পর প্রমাণের অভাবে আদালত সব অভিযুক্তকে খালাস করে দিল! মুম্বই ট্রেন বিস্ফোরণের মামলায় আসামিদের খালাসের পরেই যেভাবে রায়ে স্থগিতাদেশ চেয়েছিল মোদি ও ফড়নবিশ সরকার, এই রায়ের রায়ের বিরুদ্ধেও কি তেমন আপিল করা হবে? মহারাষ্ট্রের ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ রাজনৈতিক দলগুলি কী জবাব চাইবে, ৬ জন মানুষকে কে হত্যা করল? এভাবেই ক্ষোভ উগরে দেন আসাদউদ্দিন।

ওয়াইসি আরও বলেছেন, এই রায় কেবল বিচারের ব্যর্থতা নয়, বরং মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি অবিচার। এই ধরনের রায় দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের, বিশেষ করে মুসলিমদের বিশ্বাস ও আস্থা নষ্ট করে দেবে। তার অভিযোগ, এই মামলার তদন্তে পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে এবং প্রকৃত দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে। তিনি শাসক দল বিজেপিকে সরাসরি নিশানা করে বলেন, যদি এই অভিযুক্তরা নির্দোষ হন, তাহলে আসল অপরাধীরা কারা? কেন তাদের খুঁজে বের করা হল না? তার মতে, এই মামলাটির দীর্ঘসূত্রিতা এবং শেষ পর্যন্ত অভিযুক্তদের খালাস সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রবণতারই প্রমাণ।

ওয়াইসির এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলার রায়টি রাজনৈতিক এবং সামাজিক দিক থেকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এই রায়ের ফলে বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ওয়াইসি এই রায়কে বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি দুঃখজনক দিন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মালেগাঁও বিস্ফোরণের মতো একটি গুরুতর ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অপরাধীরা এখনও ধরা পড়েনি, যা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং বিচার ব্যবস্থার ব্যর্থতাকেই চিহ্নিত করে।

প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.
সর্বধিক পাঠিত

অঙ্কিতা ভাণ্ডারি হত্যাকাণ্ড: রাজ্যজুড়ে “উত্তরাখণ্ড বন্ধ”-এর ডাক রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

‘ধর্মনিরপেক্ষ’ রাজনৈতিক দলগুলি কি জবাব চাইবে, ৬ জন নামাযিকে কে হত্যা করল?

মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলার খালাসের রায়ে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির তীব্র সমালোচনা

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৫, বৃহস্পতিবার

পুবের কলম, হায়দরাবাদ: মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলার রায় নিয়ে দেশে শোরগোল পড়ে গেছে। যে এনআইএ কয়েক মাস আগেই সাধ্বী প্রজ্ঞা, কর্নেল পুরোহিতসহ বিস্ফোরণের মাস্টারমাইন্ডদের ফাঁসি চেয়েছিল, তাদের হঠাৎ কী হল যে আদালতের কাছে কোনও প্রমাণই পেশ করতে পারল না অপরাধীদের বিরুদ্ধে! তারা বেকসুর  খালাস পেয়ে গেল এনআইয়ের আদালতে।

 

আরও পড়ুন: Malegaon blast: পেয়েছিলেন ‘জঙ্গি’ তকমা,  অভিযোগ থেকে মুক্তির পর কর্নেল পদে প্রমোশন পেলেন প্রসাদ পুরোহিত

এই ঘটনায় অভিযুক্তদের খালাস পাওয়ার পর অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমীনের প্রধান তথা  হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়াইসি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বিচার ব্যবস্থার এই রায়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছেন, ৬ জন নামাযিকে কে হত্যা করল তাহলে? তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, ২০০৮ সালে সংঘটিত এই বোমা বিস্ফোরণে যারা মারা গিয়েছিলেন, তারা সবাই নামায পড়তে গিয়েছিলেন। ওই ঘটনায় আরও শতাধিক মানুষ আহত হন।

আরও পড়ুন: সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ‘নির্বাচিত’ পদক্ষেপ, উত্তরপ্রদেশ পুলিসের সমালোচনা আসাদউদ্দিন ওয়াইসির

 

আরও পড়ুন: মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলার খালাসের রায়ে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির তীব্র সমালোচনা

দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলা এই মামলার পর আদালত যখন সব অভিযুক্তকে নির্দোষ ঘোষণা করল, তখন এই রায়ের ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিস্ফোরণের ১৭ বছর পর প্রমাণের অভাবে আদালত সব অভিযুক্তকে খালাস করে দিল! মুম্বই ট্রেন বিস্ফোরণের মামলায় আসামিদের খালাসের পরেই যেভাবে রায়ে স্থগিতাদেশ চেয়েছিল মোদি ও ফড়নবিশ সরকার, এই রায়ের রায়ের বিরুদ্ধেও কি তেমন আপিল করা হবে? মহারাষ্ট্রের ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ রাজনৈতিক দলগুলি কী জবাব চাইবে, ৬ জন মানুষকে কে হত্যা করল? এভাবেই ক্ষোভ উগরে দেন আসাদউদ্দিন।

ওয়াইসি আরও বলেছেন, এই রায় কেবল বিচারের ব্যর্থতা নয়, বরং মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি অবিচার। এই ধরনের রায় দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের, বিশেষ করে মুসলিমদের বিশ্বাস ও আস্থা নষ্ট করে দেবে। তার অভিযোগ, এই মামলার তদন্তে পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে এবং প্রকৃত দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে। তিনি শাসক দল বিজেপিকে সরাসরি নিশানা করে বলেন, যদি এই অভিযুক্তরা নির্দোষ হন, তাহলে আসল অপরাধীরা কারা? কেন তাদের খুঁজে বের করা হল না? তার মতে, এই মামলাটির দীর্ঘসূত্রিতা এবং শেষ পর্যন্ত অভিযুক্তদের খালাস সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রবণতারই প্রমাণ।

ওয়াইসির এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলার রায়টি রাজনৈতিক এবং সামাজিক দিক থেকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এই রায়ের ফলে বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ওয়াইসি এই রায়কে বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি দুঃখজনক দিন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মালেগাঁও বিস্ফোরণের মতো একটি গুরুতর ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অপরাধীরা এখনও ধরা পড়েনি, যা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং বিচার ব্যবস্থার ব্যর্থতাকেই চিহ্নিত করে।