পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: রাষ্ট্রপতি শাসন প্রত্যাহার করে নিয়েছে কেন্দ্র। নতুন সরকারও গঠন করা হয়েছে। তারপরও মণিপুরে শান্তি ফেরার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এই আবহে এবার মণিপুরে অশান্তির ঘটনা নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের কাছে স্ট্যাটাস রিপোর্ট তলব করল সুপ্রিম কোর্ট। মণিপুরের পরিস্থিতি জানতে চেয়েই এই রিপোর্ট তলব করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। একইসঙ্গে এ দিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ অবশ্য জানিয়ে দিয়েছে, গৌহাটি হাইকোর্ট ও মণিপুর হাইকোর্ট এই মামলাগুলির বিচার পরিচালনা পর্যবেক্ষণ করতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মে মাসে মেইতেই এবং কুকি-জো-হমার গোষ্ঠীর মধ্যে জাতিগত সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে কমপক্ষে ২৬০ জন নিহত এবং ৫৯ হাজারেরও বেশি মানুষ গৃহহারা হয়েছে। সহিংসতা চলাকালীন ২০২৩ সালের ১৯ জুলাই কাংপোকপি জেলায় দুই কুকি মহিলাকে নগ্ন করে হাঁটানোর ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। কুকি-মেইতেই সংঘর্ষ শুরু হওয়ার কাংপোকপি জেলার বিফাইনোম গ্রামের কাছে এই ঘটনা ঘটে। প্রশাসন সূত্রে খবর, ভিডিয়োতে থাকা এক মহিলাকে গণধর্ষণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট মণিপুরে এই লাগাতার সহিংসতার বিষয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলাটি গ্রহণ করে। ২০২৩ সালের আগস্টে সুপ্রিম কোর্ট এই সহিংসতা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া অসমে পরিচালনার নির্দেশ দিয়ে একটি আদেশ জারি করে এবং মামলার পক্ষগুলিকে (বাদী-বিবাদী) মণিপুর থেকে ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে উপস্থিত হওয়ার অনুমতি দেয়। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানি চলাকালীন আইনজীবী বৃন্দা গ্রোভার যুক্তি দেন, সহিংসতার সময় নিহত এক মহিলার পরিবারকে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে বলে জানানো হয়নি। এমনও ঘটনা ঘটেছে যেখানে হিংসায় অভিযুক্ত এবং সিবিআই-এর আইনীজীবী শুনানিতে উপস্থিত হননি। তখন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, কেন্দ্রীয় সংস্থাকে উদ্বেগের জবাব দিতে হবে। গ্রোভার যা বলেছেন তার বিরোধিতা কেউ করতে পারে না। ভুক্তভোগীদের অধিকার লঙ্ঘিত হতে দেওয়া যায় না। সিবিআইকে গ্রোভারের পিটিশনের জবাব দিতে হবে, এখানে হোক বা হাইকোর্টে। তবে মেহতা অবশ্য এ দিন আদালতে দাবি করেন, মণিপুরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। শান্তি ফিরে এসেছে। তখন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, সিবিআই মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে একটি স্ট্যাটাস রিপোর্ট দাখিল করতে পারে। প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, আইনজীবী নিয়োগ করার মতো আর্থিক সামর্থ্য নেই এমন ভুক্তভোগী পরিবারগুলিকে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করা দরকার। মামলার বিচারকার্য সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য গৌহাটি এবং মণিপুর হাইকোর্টকে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। তখন মেহতাও সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করে বলেন, হাইকোর্ট বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করার জন্য আরও উপযুক্ত হতে পারে। মণিপুরের স্থানীয় পরিবেশ হাইকোর্টই আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারবে।
১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, শনিবার, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
BREAKING :
মণিপুর সহিংসতা, সিবিআইয়ের কাছে রিপোর্ট তলব শীর্ষকোর্টের
-
কিবরিয়া আনসারি - আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, শুক্রবার
- 13
সর্বধিক পাঠিত






























