১৪ জানুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মুসলিমরা খারাপ, ওদের মধ্যে হিন্দুরা নিরাপদ নয়, বিতর্কে যোগী আদিত্যনাথ

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: হিন্দুদের মধ্যে মুসলিমরা সুরক্ষিত  থাকেন, কিন্তু মুসলিমদের মধ্যে হিন্দুরা সুরক্ষিত নয়। এমনই বিতর্কিত মন্তব্য করলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। একইসঙ্গে সংখ্যালঘুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ রাজ্য উত্তরপ্রদেশ বলেও দাবি করেছেন যোগী। সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, “১০০টি মুসলিম পরিবারের মধ্যে ৫০টি হিন্দু পরিবার নিরাপদ বোধ করতে পারেন না।” যোগী বলেন, “একশো হিন্দু পরিবারের মধ্যে একটি মুসলিম পরিবার সবচেয়ে নিরাপদ বোধ করেন। কিন্তু মুসলিমদের মধ্যে কি ৫০ জন হিন্দু নিরাপদ থাকতে পারে? না। বাংলাদেশ তার জ্বলন্ত উদাহরণ।”

আরও পড়ুন: নবরাত্রিতে মাংসের দোকান বন্ধের দাবি বিজেপির, বিরোধিতায় ন্যাশনাল কনফারেন্স

আরও পড়ুন: ছত্রিশগড়ে পুরুলিয়ার আট বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিককে মারধর, মুসলিম হওয়ায় নিশানা বজরং দলের!

২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশে বিজেপি সরকার আসার পর থেকে কোনও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়নি বলে আজব দাবি করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “উত্তরপ্রদেশে মুসলিমরা সবচেয়ে নিরাপদ। এই রাজ্যে হিন্দুরা নিরাপদ থাকলে মুসলিমরাও নিরাপদ। ২০১৭ সালের আগে উত্তরপ্রদেশে দাঙ্গা হত। হিন্দুদের দোকান জ্বললে মুসলিমদের দোকানও জ্বলত। হিন্দুদের ঘর জ্বললে মুসলিমদের ঘরও জ্বলত। ২০১৭ সালের পর থেকে দাঙ্গা বন্ধ হয়ে গেছে।” উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক ও বিভিন্ন সংস্থার রিপোর্ট জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি হিংসার ঘটনা ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে। খুন, ধর্ষণ ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির শীর্ষে রয়েছে যোগী রাজ্য। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক সাম্প্রদায়িক হিংসা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে।

আরও পড়ুন: আরএসএস কোনও আধা-সামরিক সংগঠন নয়, বিজেপিকে দেখে সংঘের বিচার করলে ভুল হবে: মোহন ভাগবত

গত বছর সম্ভলে শাহি জামা মসজিদের জরিপ ঘিরে হিংসা ছড়ায়। সেই ঘটনায় পাঁচজন নিহত হন। সম্ভল প্রসঙ্গে যোগী বলেন, “সম্ভলে যতগুলি মন্দির রয়েছে, সবগুলি পুনরুজ্জীবিত করা হবে। সম্ভলে ৬৪টি তীর্থস্থান রয়েছে। আমরা ৫৪টি খুঁজে পেয়েছি। আমরা সব খুঁজে বের করব। সম্ভলে কী ঘটেছে তা আমরা বিশ্বের সামনে তুলে ধরব।” গত বছর আগস্টে বাংলাদেশে শেখ হাসিনাকে গদিচ্যুত করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এরপর থেকে সেখানে সংখ্যালঘুদের ওপর নেমে আসে আক্রমণ। কয়েকজন পুরোহিতকে গ্রেফতার করা হয়। সংখ্যালঘুদের বাড়ি-ঘর লুট করা হয়। ১৫০টিরও বেশি মন্দিরে ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। বর্তমানে পড়শি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা ভালো নেই বলে দাবি করেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে হিন্দুরা সুরক্ষিত নয়।”

আরও পড়ুন: অনুদানের ৮২ শতাংশই বিজেপির ঘরে, বিতর্কে ইলেক্টোরাল ট্রাস্ট

প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.
সর্বধিক পাঠিত

দুর্নীতি দমন আইন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিভক্ত মত; মামলা যাবে বৃহত্তর বেঞ্চে

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

মুসলিমরা খারাপ, ওদের মধ্যে হিন্দুরা নিরাপদ নয়, বিতর্কে যোগী আদিত্যনাথ

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২৫, বুধবার

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: হিন্দুদের মধ্যে মুসলিমরা সুরক্ষিত  থাকেন, কিন্তু মুসলিমদের মধ্যে হিন্দুরা সুরক্ষিত নয়। এমনই বিতর্কিত মন্তব্য করলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। একইসঙ্গে সংখ্যালঘুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ রাজ্য উত্তরপ্রদেশ বলেও দাবি করেছেন যোগী। সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, “১০০টি মুসলিম পরিবারের মধ্যে ৫০টি হিন্দু পরিবার নিরাপদ বোধ করতে পারেন না।” যোগী বলেন, “একশো হিন্দু পরিবারের মধ্যে একটি মুসলিম পরিবার সবচেয়ে নিরাপদ বোধ করেন। কিন্তু মুসলিমদের মধ্যে কি ৫০ জন হিন্দু নিরাপদ থাকতে পারে? না। বাংলাদেশ তার জ্বলন্ত উদাহরণ।”

আরও পড়ুন: নবরাত্রিতে মাংসের দোকান বন্ধের দাবি বিজেপির, বিরোধিতায় ন্যাশনাল কনফারেন্স

আরও পড়ুন: ছত্রিশগড়ে পুরুলিয়ার আট বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিককে মারধর, মুসলিম হওয়ায় নিশানা বজরং দলের!

২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশে বিজেপি সরকার আসার পর থেকে কোনও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়নি বলে আজব দাবি করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “উত্তরপ্রদেশে মুসলিমরা সবচেয়ে নিরাপদ। এই রাজ্যে হিন্দুরা নিরাপদ থাকলে মুসলিমরাও নিরাপদ। ২০১৭ সালের আগে উত্তরপ্রদেশে দাঙ্গা হত। হিন্দুদের দোকান জ্বললে মুসলিমদের দোকানও জ্বলত। হিন্দুদের ঘর জ্বললে মুসলিমদের ঘরও জ্বলত। ২০১৭ সালের পর থেকে দাঙ্গা বন্ধ হয়ে গেছে।” উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক ও বিভিন্ন সংস্থার রিপোর্ট জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি হিংসার ঘটনা ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে। খুন, ধর্ষণ ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির শীর্ষে রয়েছে যোগী রাজ্য। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক সাম্প্রদায়িক হিংসা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে।

আরও পড়ুন: আরএসএস কোনও আধা-সামরিক সংগঠন নয়, বিজেপিকে দেখে সংঘের বিচার করলে ভুল হবে: মোহন ভাগবত

গত বছর সম্ভলে শাহি জামা মসজিদের জরিপ ঘিরে হিংসা ছড়ায়। সেই ঘটনায় পাঁচজন নিহত হন। সম্ভল প্রসঙ্গে যোগী বলেন, “সম্ভলে যতগুলি মন্দির রয়েছে, সবগুলি পুনরুজ্জীবিত করা হবে। সম্ভলে ৬৪টি তীর্থস্থান রয়েছে। আমরা ৫৪টি খুঁজে পেয়েছি। আমরা সব খুঁজে বের করব। সম্ভলে কী ঘটেছে তা আমরা বিশ্বের সামনে তুলে ধরব।” গত বছর আগস্টে বাংলাদেশে শেখ হাসিনাকে গদিচ্যুত করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এরপর থেকে সেখানে সংখ্যালঘুদের ওপর নেমে আসে আক্রমণ। কয়েকজন পুরোহিতকে গ্রেফতার করা হয়। সংখ্যালঘুদের বাড়ি-ঘর লুট করা হয়। ১৫০টিরও বেশি মন্দিরে ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। বর্তমানে পড়শি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা ভালো নেই বলে দাবি করেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে হিন্দুরা সুরক্ষিত নয়।”

আরও পড়ুন: অনুদানের ৮২ শতাংশই বিজেপির ঘরে, বিতর্কে ইলেক্টোরাল ট্রাস্ট