পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: নেপালের পূর্বাঞ্চলে গত শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণে ব্যাপক ভূমিধস ও বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সোমবার রাত পর্যন্ত কমপক্ষে ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
আর্মড পুলিশ ফোর্সের মুখপাত্র কালিদাস ধাউবাজি জানিয়েছেন, কোশি প্রদেশে সর্বাধিক ক্ষতি হয়েছে, যেখানে একাই ইলাম জেলায় ৩৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ইলামের দেউমাই ও মাইজোগমাই পৌরসভায় আটজন করে, ইলাম পৌরসভা ও স্যান্ডাকপুর গ্রামীণ পৌরসভায় ছয়জন করে, সূর্যোদয় পৌরসভায় পাঁচজন, মাংসেবুংয়ে তিনজন এবং ফকফোকথুম গ্রামে একজন মারা গেছেন।
এছাড়াও, উদয়পুরে দুজন ও পঞ্চথরে একজন বন্যা এবং ভূমিধসের শিকার হয়েছেন। রাউটাহাটে বজ্রাঘাতে তিনজন এবং খোটাংয়ে দু’জন মারা গেছেন। অন্যদিকে, পঞ্চথর জেলায় রাস্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
ল্যাংটাং সংরক্ষণ এলাকা এবং রাসুয়া জেলায় নদীর জলে ভেসে গিয়ে চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। ইলাম, বারা এবং কাঠমান্ডু জেলা থেকে আরও একজন করে ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ল্যাংটাং এলাকায় ট্রেকিংয়ে যাওয়া ১৬ জন পর্যটকের মধ্যে চারজনের খোঁজ এখনও মেলেনি।
নেপাল সেনা, নেপাল পুলিশ এবং আর্মড পুলিশ ফোর্সের কর্মীরা বর্তমানে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। ইলাম থেকে হেলিকপ্টারে চারজনকে উদ্ধার করে ধরান পৌরসভার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যার মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা মহিলা রয়েছেন।
নেপালের মোট সাতটি প্রদেশের মধ্যে কোশি, মধেস, বাগমতী, গণ্ডকী এবং লুম্বিনী;এই পাঁচটি প্রদেশে এখনও মৌসুমী বৃষ্টি সক্রিয় রয়েছে। কাঠমান্ডু উপত্যকায় বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও, ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (টিআইএ) থেকে অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছে। কাঠমান্ডু, ভারতপুর, জনকপুর, ভদ্রপুর, পোখরা এবং টুমলিংটারের মতো অভ্যন্তরীণ গন্তব্যের উড়ানগুলি বন্ধ আছে। ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তাগুলিতে রাতের বেলা গাড়ি চলাচল এখনও সীমিত রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেপালে এই প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই কঠিন সময়ে ভারত নেপালের জনগণ ও সরকারের পাশে আছে এবং প্রয়োজন অনুসারে সবরকম সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত।
এই বিপর্যয় নেপালের পূর্বাঞ্চলের দুর্যোগ মোকাবিলার সীমাবদ্ধতা এবং সাধারণ মানুষের জীবনের ঝুঁকিকে পুনরায় সামনে এনেছে। নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা নতুন কোনো বিপর্যয়ের আশঙ্কায় উদ্বিগ্নভাবে বাগমতী নদীর জলস্তর পর্যবেক্ষণ করছেন।

































