ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এখন চরমে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে সামরিক হামলা চালাতে পারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—এমন আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কড়া হুঁশিয়ারির পর দুই দেশের সম্পর্ক কার্যত যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।
এই প্রেক্ষাপটে ইরানের সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া হবে। বুধবার রয়টার্স ও আল জাজিরাসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, যেকোনো আগ্রাসন মোকাবিলায় ইরান ‘সর্বোচ্চ প্রস্তুতি’ নিয়েছে।
সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযানের জেরে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর ট্রাম্প ঘোষণা করেন, বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব শক্তিশালী পদক্ষেপ’ নেবে। সম্প্রতি এক তরুণ বিক্ষোভকারীকে দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় ওয়াশিংটনের ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
ইউরোপীয় কূটনীতিকদের মতে, এবার সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন আগের চেয়ে অনেক বেশি দৃঢ়। পেন্টাগন ইতিমধ্যে ইরানের পরমাণু স্থাপনা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও সাইবার অবকাঠামো লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা হোয়াইট হাউসে পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে এবং কয়েকটি ঘাঁটি থেকে সেনা সরিয়েও নেওয়া হয়েছে।
এদিকে কূটনৈতিক পথও কার্যত বন্ধ। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের নির্ধারিত বৈঠক বাতিল হয়েছে। ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ জানিয়েছেন, বিদেশি হামলার সামনে দেশ একচুলও পিছু হটবে না।
এই উত্তেজনা নিয়ে রাশিয়া ও চীন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ নয়, বরং সীমিত ড্রোন বা বিমান হামলার পথেই হাঁটতে পারেন ট্রাম্প—তবু তার অভিঘাত হবে































