এস জে আব্বাস, শক্তিগড়: ইসলাম ধর্মে নামায একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। হাজারও ব্যস্ততার মাঝেও নামাযে ছাড় নেই। অনেক সময় পথে-ঘাটে, অফিস-কাছারি, প্ল্যাটফর্ম বা ট্রেনে এমনকী খেলার মাঠেও নামায পড়তে দেখা যায় একনিষ্ঠ ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সুবিধার্থে অভিনব উদ্যোগ এক পেট্রোল পাম্প মালিকের। বর্ধমানের ২ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে বুদবুদ বাজার পার হয়ে মানকরের কাছে একটি পেট্রোল পাম্পের মধ্যেই তিনি ব্যবস্থা করেছেন ‘ইবাদত ঘর’ বা নামায ঘরের। পাম্পে তেল ভরতে আসা বহু গাড়িচালক, যাত্রীকে নিত্যদিন এই ‘ইবাদত ঘর’-এ নামায আদায় করতে দেখা যায়। সময় সূচি অনুযায়ী চলে জামাত করে নামাযও। ফলে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযিদের নামায আদায়ে যেমন সুবিধা হয় তেমনি পাম্প মালির এ হেন উদ্যোগে আপ্লুত মুসলমান সমাজও।
আল্লাহ’র ইবাদতে ব্যাকুল হওয়ায় পেট্রোল পাম্পের মালিক বরকত হোসেন জানাচ্ছেন, ‘কয়েক বছর আগে হজ পালন করতে সউদি আরবে গিয়েছিলাম। মক্কা শরীফ থেকে মদিনা শরীফ যাওয়ার পথে দেখলাম— পেট্রোল পাম্পের মধ্যেই নামায আদায়ের জন্য মসজিদ। মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম তা দেখে। ফিরে এসে পেট্রোল পাম্পের সামনে ব্যবসায়ীক কাজের জন্যে বানানো একটি ঘরের দোতলায় মুশাফিরদের জন্য ইবাদাত ঘর বানিয়ে দিই। উপরে ওঠার জন্য বানাই লোহার সিড়ি।’ তিনি আরও জানান, ‘একজন ইমাম প্রতি ওয়াক্তে নামায পড়িয়ে দেন। ইবাদতের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা যাত্রী, চালকদের মেলে সাময়িক বিশ্রামও।’
বরকত হোসেনকে নিয়ে বর্ধমানের এক সমাজসেবী মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বরকত সাহেব একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ। নিজের উদ্যোগে বহু মূল্যের জমিদান করে রাস্তার পাশে বানিয়েছেন ঈদগাহ। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থেকে পিছিয়ে পড়া জাতির সেবায় নিয়োজিত রেখেছেন নিজেকে।’ ‘বরকত সাহেবের অভিনব ‘ইবাদত ঘর’ বা নামায ঘর অনেককেই অনুপ্রাণিত করবে’ মত মনোয়ার হোসেনের। এদিকে, জেলা ইমাম সামসের আলম বলেন, ‘এই ধরনের উদ্যোগ খুবই প্রশংসনীয়। অনেক মানুষের ইচ্ছা সত্ত্বেও বাইরে বেরিয়ে সঠিক জায়গার অভাবে নামায পড়তে পারেন না। এমন অভিনব ভাবনা আরও প্রসারিত হোক।’






































