০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, মঙ্গলবার, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘বিদ্যুতের গতিতে এই রাজ্যে কাজ হয় না’, ঔরঙ্গাবাদ, ওসামাবাদের নাম পরিবর্তন প্রসঙ্গে জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে মন্তব্য বম্বে হাই কোর্টের

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক : মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদ ও ওসামাবাদ শহরের নাম পরিবর্তন প্রসঙ্গে রাজ্যের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বম্বে হাইকোর্টে জরুরি শুনানির আবেদনে দুটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। সোমবার সেই মামলা খারিজ করে দিল বম্বে হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, এই মামলায় জরুরি শুনানির কোনও প্রয়োজন নেই। এই রাজ্যে বিদ্যুতের গতিতে কোনও কাজ হয় না।

বিচারপতি প্রসন্ন ভারালে এবং বিচারপতি কিশোর সান্তের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, দুটি জনস্বার্থ মামলার এখনই জরুরি শুনানির কোনও প্রয়োজন নেই। ২৩ আগস্ট শুনানি হবে। বিচারপতি ভারালে বলেন, এই মাসে অনেক ছুটি আছে। আবেদনকারীদের বিচারপতি জিজ্ঞাসা করেন, আপনাদের কি মনে হয় সরকার ছুটির দিন কাজ করবে? যেখানে কাজের দিনেই সরকার কাজ করে না। এখানে সরকারের দ্বারা বিদ্যুতের গতিতে কোনও কাজ হয় না।

আরও পড়ুন: যুবভারতী স্টেডিয়ামে অশান্তি, কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা

গত সপ্তাহে মহারাষ্ট্র সরকারের শহরের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রথম জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেন ঔরঙ্গাবাদের বাসিন্দা মুহাম্মদ মুস্তাক, আন্নাসাহেব খান্ডারে ও রাজেশ মোরে। দ্বিতীয় জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেন ওসমানাবাদের এক বাসিন্দা।

আরও পড়ুন: রাজনৈতিক দলগুলিকে অনুদান নিয়ে জনস্বার্থ মামলা, কেন্দ্রকে নোটিশ শীর্ষ আদালতের

উভয় পিটিশনই সরকারের সিদ্ধান্তকে ‘রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিহিত করে, যুক্তি দেয় এই ধরনের নাম পরিবর্তন ‘ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ’ সৃষ্টি করবে। আবেদনকারী ওসমানাবাদের নাম পরিবর্তনের বিরোধিতাকারী পিটিশনে বলেছেন ১৯৯৮ সালে তৎকালীন মহারাষ্ট্র সরকার ধারাশিব নাম করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ব্যর্থ হয়।
আবেদনকারীরা তাদের দেওয়া পিটিশনে উল্লেখ করেছেন, শিন্ডে সরকার রাজ্যের মানুষের অনুভূতি আর সংবিধানকে গুরুত্ব না দিয়েই শহরের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আরও পড়ুন: ভারতের জেলে আটক প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা সংখ্যালঘুদের মুক্তির দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা

উল্লেখ্য, উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন পূর্ববর্তী মহা বিকাশ আঘাদি (এমভিএ) সরকার গত ২৯ জুন অনুষ্ঠিত তার শেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঔরঙ্গাবাদ এবং ওসমানাবাদ উভয়ের নাম পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। গত ১৬ জুলাই মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দুটি শহরের নাম পরিবর্তনের একটি নতুন প্রস্তাব পাস করেছে।

শিবসেনা সভাপতি উদ্ধব ঠাকরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করার পর ৩০ জুন বিজেপির সমর্থন নিয়ে মহারাষ্ট্রের নয়া মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছিলেন একনাথ শিন্ডে। সরকারে দায়িত্বভার কাঁধে তুলে নেওয়ার পর উদ্ধব ঠাকরে সরকারের নেওয়া বেশ কিছু সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছিল মহারাষ্ট্র সরকার। অন্যদিকে একনাথ নেতৃত্বধীন মহারাষ্ট্র মন্ত্রিসভা ১৬ জুলাই ক্যাবিনেট বৈঠকে ঔরঙ্গাবাদ এবং ওসমানাবাদ শহরগুলির নাম বদলের সিদ্ধান্ত নেয়।

সেই অনুযায়ী ঔরঙ্গাবাদের নতুন নাম হবে ছত্রপতি সম্ভাজিনগর এবং ওসমানাবাদের নতুন নাম হবে ধারাশিব।
মহারাষ্ট্র মন্ত্রিসভার নেওয়া এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ঔরঙ্গাবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে শিবসেনার উদ্ধব শিবিরের কর্মী সমর্থকরা। তাদের দাবি ঔরঙ্গাবাদ ও ওসমানাবাদের নাম পরিবর্তন নিয়ে মহা বিকাশ আগাড়ি সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানায় বিক্ষোভকারীরা।

সর্বধিক পাঠিত

কফ সিরাপে মৃত্যু ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত বিধানসভা, ‘কো-মর্বিডিটিই দায়ী’ জানাল রাজস্থান সরকার

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

‘বিদ্যুতের গতিতে এই রাজ্যে কাজ হয় না’, ঔরঙ্গাবাদ, ওসামাবাদের নাম পরিবর্তন প্রসঙ্গে জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে মন্তব্য বম্বে হাই কোর্টের

আপডেট : ১ অগাস্ট ২০২২, সোমবার

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক : মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদ ও ওসামাবাদ শহরের নাম পরিবর্তন প্রসঙ্গে রাজ্যের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বম্বে হাইকোর্টে জরুরি শুনানির আবেদনে দুটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। সোমবার সেই মামলা খারিজ করে দিল বম্বে হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, এই মামলায় জরুরি শুনানির কোনও প্রয়োজন নেই। এই রাজ্যে বিদ্যুতের গতিতে কোনও কাজ হয় না।

বিচারপতি প্রসন্ন ভারালে এবং বিচারপতি কিশোর সান্তের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, দুটি জনস্বার্থ মামলার এখনই জরুরি শুনানির কোনও প্রয়োজন নেই। ২৩ আগস্ট শুনানি হবে। বিচারপতি ভারালে বলেন, এই মাসে অনেক ছুটি আছে। আবেদনকারীদের বিচারপতি জিজ্ঞাসা করেন, আপনাদের কি মনে হয় সরকার ছুটির দিন কাজ করবে? যেখানে কাজের দিনেই সরকার কাজ করে না। এখানে সরকারের দ্বারা বিদ্যুতের গতিতে কোনও কাজ হয় না।

আরও পড়ুন: যুবভারতী স্টেডিয়ামে অশান্তি, কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা

গত সপ্তাহে মহারাষ্ট্র সরকারের শহরের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রথম জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেন ঔরঙ্গাবাদের বাসিন্দা মুহাম্মদ মুস্তাক, আন্নাসাহেব খান্ডারে ও রাজেশ মোরে। দ্বিতীয় জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেন ওসমানাবাদের এক বাসিন্দা।

আরও পড়ুন: রাজনৈতিক দলগুলিকে অনুদান নিয়ে জনস্বার্থ মামলা, কেন্দ্রকে নোটিশ শীর্ষ আদালতের

উভয় পিটিশনই সরকারের সিদ্ধান্তকে ‘রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিহিত করে, যুক্তি দেয় এই ধরনের নাম পরিবর্তন ‘ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ’ সৃষ্টি করবে। আবেদনকারী ওসমানাবাদের নাম পরিবর্তনের বিরোধিতাকারী পিটিশনে বলেছেন ১৯৯৮ সালে তৎকালীন মহারাষ্ট্র সরকার ধারাশিব নাম করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ব্যর্থ হয়।
আবেদনকারীরা তাদের দেওয়া পিটিশনে উল্লেখ করেছেন, শিন্ডে সরকার রাজ্যের মানুষের অনুভূতি আর সংবিধানকে গুরুত্ব না দিয়েই শহরের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আরও পড়ুন: ভারতের জেলে আটক প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা সংখ্যালঘুদের মুক্তির দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা

উল্লেখ্য, উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন পূর্ববর্তী মহা বিকাশ আঘাদি (এমভিএ) সরকার গত ২৯ জুন অনুষ্ঠিত তার শেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঔরঙ্গাবাদ এবং ওসমানাবাদ উভয়ের নাম পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। গত ১৬ জুলাই মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দুটি শহরের নাম পরিবর্তনের একটি নতুন প্রস্তাব পাস করেছে।

শিবসেনা সভাপতি উদ্ধব ঠাকরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করার পর ৩০ জুন বিজেপির সমর্থন নিয়ে মহারাষ্ট্রের নয়া মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছিলেন একনাথ শিন্ডে। সরকারে দায়িত্বভার কাঁধে তুলে নেওয়ার পর উদ্ধব ঠাকরে সরকারের নেওয়া বেশ কিছু সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছিল মহারাষ্ট্র সরকার। অন্যদিকে একনাথ নেতৃত্বধীন মহারাষ্ট্র মন্ত্রিসভা ১৬ জুলাই ক্যাবিনেট বৈঠকে ঔরঙ্গাবাদ এবং ওসমানাবাদ শহরগুলির নাম বদলের সিদ্ধান্ত নেয়।

সেই অনুযায়ী ঔরঙ্গাবাদের নতুন নাম হবে ছত্রপতি সম্ভাজিনগর এবং ওসমানাবাদের নতুন নাম হবে ধারাশিব।
মহারাষ্ট্র মন্ত্রিসভার নেওয়া এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ঔরঙ্গাবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে শিবসেনার উদ্ধব শিবিরের কর্মী সমর্থকরা। তাদের দাবি ঔরঙ্গাবাদ ও ওসমানাবাদের নাম পরিবর্তন নিয়ে মহা বিকাশ আগাড়ি সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানায় বিক্ষোভকারীরা।