১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, মঙ্গলবার, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অধিনায়কত্বের ভুল, বোলিং ব্যর্থতা ডোবাল ভারতকে

পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: আশা জাগিয়েও শেষরক্ষা হল না। সেমিফাইনালে ওঠার আগে পর্যন্ত যে ভারতীয় দলের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হওয়া নিয়ে এত আলোচনা, সেমিতে ইংল্যান্ডের কাছে সব ধূলিসাৎ হয়ে গেল।

 

আরও পড়ুন: রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে ভারত: বিনিয়োগ চুক্তি নিয়ে মার্কিন প্রেস সেক্রেটারি

অ্যাডিলেডে ১০ উইকেটে ভারতকে হারিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠে গেল ইংল্যান্ড। কিন্তু গোটা প্রতিযোগিতায় এত ভালো ক্রিকেট খেলে আসার পর সেমিফাইনালে কী এমন হল, যার জেরে ভারতকে এমনভাবে হারতে হল? প্রথমেই তাকানো যাক ভারতের ওপেনিং জুটির দিকে।

আরও পড়ুন: রাজস্থানে প্যালেস্তাইনের সমর্থনে স্টিকার লাগানোর অভিযোগ, ব্রিটিশ যুগলকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ

 

আরও পড়ুন: ইউরোপের সঙ্গে ঐতিহাসিক বাণিজ্যচুক্তির পথে ভারত, উচ্ছ্বাসে মোদী

ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে বড় রান তুলতে গেলে ওপেনিং জুটিকে অনেকটা সময় খেলার প্রয়োজন। কিন্তু অ্যাডিলেডে তা হল না। মাত্র পাঁচ রানে ফিরে গেলেন কে এল রাহুল। ফর্মে ছিলেন না। কিন্তু বিশ্বকাপে দু’টো ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন। সেমিতে সেই রাহুল ডাঁহা ব্যর্থ। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে যদি তাঁর কাছ থেকে রান না পাওয়া যায়, তাহলে দলে তাঁর কি প্রয়োজন?

 

 

গোটা প্রতিযোগিতায় রোহিত একটি মাত্র হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। এ দিন তিনি রানে ফেরার চেষ্টা করেও ব্যর্থ। বড় রানের দিকে এগোতে যাওয়ার মুহূর্তেই তিনি আউট হয়ে গেলেন। ২৭ রানে শেষ হল তাঁর ইনিংস। বিরাট কোহলি হাফ সেঞ্চুরি করলেন ঠিকই, কিন্তু যেভাবে এগোলেন তা বড় রান তোলার ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। তবে তিনি চেষ্টা করেছিলেন স্ট্রাইক নিয়ে সূর্যকে বড় রান করতে সাহায্য করা। কিন্তু সূর্য এ দিন ব্যর্থ। প্রতি বলে নতুন শটের বৈচিত্র্য দেখাতে গিয়ে ডোবালেন দলকে।

 

হার্দিক বড় রান করলেন। কিন্তু ১৬৮ রান লক্ষ্যমাত্রা ইংল্যান্ডের মতো দলকে দেওয়া যথেষ্ট নয়। সূর্যের রান না পাওয়াটাও একটা ফ্যাক্টর হয়ে গেল।

 

আর সর্বোপরি ভারতের বোলিং ব্যর্থতা। ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা পাওয়ার হিটার। তাদের বিরুদ্ধে ২০০ রান যখন হয়নি, তখন ভারতীয় বোলারদের উচিত ছিল বোলিংটা ভালো করার। কিন্তু ভুবনেশ্বরের প্রথম দুটো ওভারটাই সব হিসেব ওলোট-পালট করে দিল। এত রান খেলেন যে ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা আত্মবিশ্বাস অনেকটা পেয়ে গিয়েছিল।

 

পাশাপাশি রোহিতের ক্যাপ্টেনসিও প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড়াবে। কারণ বোলিং অনুযায়ী ফিল্ড প্লেসমেন্ট যেমন হওয়া দরকার, দেখা গেল তার ধারকাছ দিয়েও গেলেন না ক্যাপ্টেন রোহিত শর্মা। পাশাপাশি আরও একটা প্রশ্ন সামনে আসছে। অ্যাডিলেডে স্পিন কাজ করে।

 

সেখানে কেন অতিরিক্ত স্পিনার হিসেবে চাহালকে খেলানো হল না? গোটা প্রতিযোগিতায় অর্শদীপ দারুণ বোলিং করেছেন। কিন্তু পাওয়ার প্লেতে এ দিন তাঁকে দিয়ে মাত্র এক ওভার দেওয়া হল। ভারতীয় বোলাররা ন্যূনতম দাগও কাটতে পারলেন না ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ে। ফল! তীরে এসেও ডুবে গেল ভারতের তরী।

প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.
সর্বধিক পাঠিত

এসআইআর শুনানিতে ডাক পেয়ে জমির সার্টিফায়েড কপির হিড়িক বাংলাজুড়ে

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

অধিনায়কত্বের ভুল, বোলিং ব্যর্থতা ডোবাল ভারতকে

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার

পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: আশা জাগিয়েও শেষরক্ষা হল না। সেমিফাইনালে ওঠার আগে পর্যন্ত যে ভারতীয় দলের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হওয়া নিয়ে এত আলোচনা, সেমিতে ইংল্যান্ডের কাছে সব ধূলিসাৎ হয়ে গেল।

 

আরও পড়ুন: রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে ভারত: বিনিয়োগ চুক্তি নিয়ে মার্কিন প্রেস সেক্রেটারি

অ্যাডিলেডে ১০ উইকেটে ভারতকে হারিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠে গেল ইংল্যান্ড। কিন্তু গোটা প্রতিযোগিতায় এত ভালো ক্রিকেট খেলে আসার পর সেমিফাইনালে কী এমন হল, যার জেরে ভারতকে এমনভাবে হারতে হল? প্রথমেই তাকানো যাক ভারতের ওপেনিং জুটির দিকে।

আরও পড়ুন: রাজস্থানে প্যালেস্তাইনের সমর্থনে স্টিকার লাগানোর অভিযোগ, ব্রিটিশ যুগলকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ

 

আরও পড়ুন: ইউরোপের সঙ্গে ঐতিহাসিক বাণিজ্যচুক্তির পথে ভারত, উচ্ছ্বাসে মোদী

ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে বড় রান তুলতে গেলে ওপেনিং জুটিকে অনেকটা সময় খেলার প্রয়োজন। কিন্তু অ্যাডিলেডে তা হল না। মাত্র পাঁচ রানে ফিরে গেলেন কে এল রাহুল। ফর্মে ছিলেন না। কিন্তু বিশ্বকাপে দু’টো ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন। সেমিতে সেই রাহুল ডাঁহা ব্যর্থ। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে যদি তাঁর কাছ থেকে রান না পাওয়া যায়, তাহলে দলে তাঁর কি প্রয়োজন?

 

 

গোটা প্রতিযোগিতায় রোহিত একটি মাত্র হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। এ দিন তিনি রানে ফেরার চেষ্টা করেও ব্যর্থ। বড় রানের দিকে এগোতে যাওয়ার মুহূর্তেই তিনি আউট হয়ে গেলেন। ২৭ রানে শেষ হল তাঁর ইনিংস। বিরাট কোহলি হাফ সেঞ্চুরি করলেন ঠিকই, কিন্তু যেভাবে এগোলেন তা বড় রান তোলার ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। তবে তিনি চেষ্টা করেছিলেন স্ট্রাইক নিয়ে সূর্যকে বড় রান করতে সাহায্য করা। কিন্তু সূর্য এ দিন ব্যর্থ। প্রতি বলে নতুন শটের বৈচিত্র্য দেখাতে গিয়ে ডোবালেন দলকে।

 

হার্দিক বড় রান করলেন। কিন্তু ১৬৮ রান লক্ষ্যমাত্রা ইংল্যান্ডের মতো দলকে দেওয়া যথেষ্ট নয়। সূর্যের রান না পাওয়াটাও একটা ফ্যাক্টর হয়ে গেল।

 

আর সর্বোপরি ভারতের বোলিং ব্যর্থতা। ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা পাওয়ার হিটার। তাদের বিরুদ্ধে ২০০ রান যখন হয়নি, তখন ভারতীয় বোলারদের উচিত ছিল বোলিংটা ভালো করার। কিন্তু ভুবনেশ্বরের প্রথম দুটো ওভারটাই সব হিসেব ওলোট-পালট করে দিল। এত রান খেলেন যে ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা আত্মবিশ্বাস অনেকটা পেয়ে গিয়েছিল।

 

পাশাপাশি রোহিতের ক্যাপ্টেনসিও প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড়াবে। কারণ বোলিং অনুযায়ী ফিল্ড প্লেসমেন্ট যেমন হওয়া দরকার, দেখা গেল তার ধারকাছ দিয়েও গেলেন না ক্যাপ্টেন রোহিত শর্মা। পাশাপাশি আরও একটা প্রশ্ন সামনে আসছে। অ্যাডিলেডে স্পিন কাজ করে।

 

সেখানে কেন অতিরিক্ত স্পিনার হিসেবে চাহালকে খেলানো হল না? গোটা প্রতিযোগিতায় অর্শদীপ দারুণ বোলিং করেছেন। কিন্তু পাওয়ার প্লেতে এ দিন তাঁকে দিয়ে মাত্র এক ওভার দেওয়া হল। ভারতীয় বোলাররা ন্যূনতম দাগও কাটতে পারলেন না ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ে। ফল! তীরে এসেও ডুবে গেল ভারতের তরী।