পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ ভোটের মুখে আবারও কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল তৃণমূল কংগ্রেস। বাঁকুড়ার একটি ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ানের হাতে প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছে বিজেপির নির্বাচনী প্রতীক, যা নিয়ে সরব হয়েছে শাসকদল।

ঘটনাটি বাঁকুড়া বিধানসভা কেন্দ্রের জগদল্লা ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের হেলনাশুশুনিয়া গ্রামে। সেখানে প্রচারে গিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা।

তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক সদস্যের হাতেই নাকি দেখা যায় দলীয় প্রতীক। সেই ছবি সামনে আসতেই শুরু হয় বিতর্ক। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, যে বাহিনী নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ রাখার দায়িত্বে, তাদের সদস্যের হাতেই যদি কোনও নির্দিষ্ট দলের প্রতীক দেখা যায়, তাহলে ভোটারদের মধ্যে ভুল বার্তা পৌঁছতে পারে। বিষয়টি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা। এই ঘটনায় তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
তাঁর কথায়, কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই ধরনের আচরণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তিনি নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

একই অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি তীর্থঙ্কর কুন্ডু। তাঁর দাবি, ভোটের আগে সাধারণ মানুষের মনে প্রভাব বিস্তার করতেই এই ধরনের কৌশল নেওয়া হচ্ছে, যা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক। অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।

দলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর মতে, একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে ইস্যু করে অযথা বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। বিজেপি প্রার্থী নীলাদ্রিশেখর দানাও অভিযোগ মানতে নারাজ। পুরো ঘটনাকে তিনি রাজনৈতিক চক্রান্ত বলেই দাবি করেছেন। এদিন এই ইস্যুতে সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূল নেতৃত্ব, সেখান থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানানো হয়।