৩০ নভেম্বর ২০২৫, রবিবার, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আল আমীন মিশনের সম্পাদক এম নুরুল ইসলামকে নিয়ে ডকুমেন্টারি ফিল্ম, স্মৃতির পাতায় কাঁদলেন অনেকে

মোক্তার হোসেন মন্ডল
  • আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৫, রবিবার
  • / 37

মোকতার হোসেন মন্ডল:

আল আমীন মিশনের সম্পাদক এম নুরুল ইসলামকে নিয়ে তৈরি ‘ডিয়ার সেক্রেটারি স্যার’ ডকুমেন্টারি ফিল্মের প্রথম শো দেখলেন শত শত মানুষ। রবিবার বিকেলে আল আমীন প্রত্যয় ফাউন্ডেশন নিউটাউনের রবীন্দ্রতীর্থ অডিটোরিয়ামে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল।
পলাশ দাস নির্মিত ‘ডিয়ার সেক্রেটারি স্যার’ দেখার পর মনে হয়েছে, এম নুরুল ইসলামের জীবনভিত্তিক ডকুমেন্টারিটি যেন সংগ্রামের অশ্রুসজল প্রতিচ্ছবি। পর্দায় ফুটে উঠেছিল তাঁর কঠিন পথচলার প্রতিটি ধাপ, যা দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে গেল। দুঃসাধ্য সেই যাত্রার গল্পে বহু মানুষের চোখের জল থেমে থাকেনি। কীভাবে শূন্য থেকে স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়া যায়, তার জীবন্ত উদাহরণ মিলল সেখানে। স্মৃতির পাতায় ফিরে ফিরে এল বহু মানুষের স্নেহ, ত্যাগ ও প্রেরণার মুহূর্তগুলো।
তাঁর নিষ্ঠা, মানবিকতা আর অসীম ধৈর্য যেন ডকুমেন্টারির প্রতিটি ফ্রেমে আলো হয়ে ফুটে উঠল। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে অদম্য ইচ্ছেশক্তির গল্পে আবেগের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ল পুরো হলে। ডকুমেন্টারির শেষ দৃশ্যে যেন এক গভীর নীরবতা, যা এক শ্রদ্ধার ভাষা। এম নুরুল ইসলামের জীবনকাহিনী তাই শুধু একটি ডকুমেন্টারি নয়, এটি এক অনুপ্রেরণার চিরন্তন দলিল।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের খান,পূবের কলম পত্রিকার সম্পাদক তথা রাজ্য সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান আহমেদ হাসান ইমরান, আলিয়া বিশ্ব বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত আমলা এনাউর রহমান,
সংখ্যালঘু দপ্তরের আধিকারিক শাকিল আহমেদ, প্রতিচির সাবির আহমেদ, আমানত ফাউন্ডেশনের শাহ আলম প্রমুখ।

পূর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এদিন বলেন,’একজন মাষ্টার মশাই শুধু একজন মানুষ তৈরি করেননি, তিনি সমাজ তৈরি করেছেন। তিনি অভিযোগ করেননি, নিজের কাঁধে দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন। এই কাজটা একদিনে হয়নি, কয়েক বছর লেগেছে। এটা একটা কাজ নয়, এটা একটা যুদ্ধ। কতবার কত জিনিস নিয়ে তিনি আমাদের কাছে দৌড়ে দৌড়ে এসেছেন, এইভাবে কত মানুষের কাছে পৌঁছে গেছেন।’
তিনি আরো বলেন,”পিছিয়ে পড়া থেকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, এই রকম একজন মানুষকে স্যালুট। আমি নুরুল ইসলামকে রোজ ফোন করি, আমার একটা ছাত্রকে ভর্তি করে দিন বলে, কেননা সবাই আল আমীন মিশনে পড়াতে চান। আমার বন্ধু নূরুল ইসলাম সাহেবকে বলব, আপনার জীবন আমাদের সবার পথ প্রদর্শক হোক।”

শিক্ষার ক্ষেত্রে যেমন নুরুল ইসলানের অনস্বীকার্য তেমনি পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম মিডিয়ার ক্ষেত্রে পুবের কলমের সম্পাদক আহমদ হাসান ইমরানের নাম ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ‘ডিয়ার সেক্রেটারি স্যার’ প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে এসে আহমদ হাসান ইমরান বলেন,” আমি নিজে দেখেছি, নুরুল ইসলাম সাহেব কখনো শিলং, কখনো কানপুর গেছেন, অর্থ সংগ্রহ করেছেন। মুসলিম সমাজে শিক্ষা বিস্তারে আল আমীন, পত্রিকায় কলম, বক্তৃতা ও ঐতিহাস লেখনীতে গোলাম আহমাদ মর্তুজা, সাহিত্যে আব্দুল আজিজ আল আমান, শিল্পে মোস্তাক হোসেন, গুনলে সংখ্যায় দশজনের কম হবে।”
রামকৃষ্ণ মিশন অনেকের কাজে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে তিনি প্রিয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিদায় হজের ভাষণ থেকে শিক্ষা নিতে সকলকে অনুরোধ করেন। তিনি আরো বলেন,’নুরুল ইসলাম সাহেবের আয়ু বাড়িয়ে দেন। আল আমীন মিশন আজকে একটা উদাহরণ। কীভাবেবাণিজ্য না করেও তাঁকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া যায়।’
তিনি ফিল্মের পরিচালককেও ধন্যবাদ দেন।

আল আমীন প্রত্যয় ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. শেখ হাম্মাদুর রহমান জানান, এম নূরুল ইসলাম স্যারের কাজের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করতেই এই প্রদর্শনী। তিনি বলেন, মিশনের খলতপুর শাখার ২০০২ সালের ছাত্রছাত্রীরা মিলে ২০০০ সালে আল আমীন প্রত্যয় ফাউন্ডেশন তৈরি করেন। ৭৭টি শাখা। ২০ হাজার ছাত্রছাত্রী। অর্ধ লক্ষ প্রাক্তনী।
সভার সঞ্চালক তথা আলিয়া ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপক ড. আয়াতুল্লাহ ফারুক বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে পূর্ব ভারতে শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে সেক্রেটারি স্যার এম নূরুল ইসলামের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি বঞ্চিত সমাজের স্বপ্নের ফেরিওয়ালা।’

ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মাবুদ মন্ডল বলেন, আজকে আল আমীন মিশনকে দেখলে মনে হয় কবিতার এক ক্যানভাস। কিন্তু কবির কল্পনার ক্যানভাস নয়। এই মিশন তৈরি করতে বহু চড়াই উতরাই পেরুতে হয়েছে। নিজের নানির দেওয়া স্বর্ণ, স্ত্রীর দেওয়া গহনা বিক্রী করে মিশনকে দিয়েছেন এম নূরুল ইসলাম।
তিনি ছাত্রছাত্রীদের বলেন,ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার আগে মানুষ হও। একশোর অধিক বাবা হারা, মাতৃ হারা এতিম, অসহায় ছেলেমেয়ে শান্তি নীড়ে পড়াশোনা করেন।

তথ্য চিত্রে দেখানো হয়েছে,’ নুরুল সাহেব ‘ভিক্ষার ঝুলি’ নিয়ে দরজায় দরজায় গেছেন, কেউ এক মুঠো চাল গম দিয়েছেন তো কেউ বা বলেছেন, ‘ খোদা হাফেজ আপনি আসতে পারেন ‘।
ফিল্মে মিশনের সম্পাদক জানান, রামকৃষ্ণ ইনিস্টিটিউট অফ কালচার থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ইসলামিক ইনিস্টিটিউট অফ কালচার তৈরি করলাম। প্রথম পুত্রের চেরাহা দেখেছেন একমাস পর। বেতনের সিংহভাগ দিয়েছেন মিশনে।

তিনি ছাত্রছাত্রীদের বলছেন, যে যত বড় স্বপ্ন দেখবে, তুমি যা ভাববে তাই হবে। মানুষের কল্যাণের জন্য যখন কেউ কাজ করে, তখন স্বয়ং স্রষ্টা তার সহায়ক হোন। আমরা যদি সত্যিই ভালো থাকতে চাই তাহলে চারিপাশের লোকদের ভালো রাখতে হবে।

দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ, সমাজ গড়ার এক মিশন আল আমীন। প্রাক্তন বিধায়ক ননীগোপাল তথ্য চিত্রে বলেন,’ওর ভিতর কমিউনিটির দরদ আছে। ও বলতো, খ্রিস্টান সমাজ যদি মিশন করতে পারে, হিন্দু সমাজ যদি পারে, মুসলিম সমাজকে হাত ধরে টেনে আনতে পারি কিনা।’
জানা গেল, মৃণাল সেন ৮৮ লক্ষ টাকা দান করেন। এদিন প্রাক্তন পড়ুয়াদের পক্ষ থেকে জানানো হল, অগণিত ছাত্রছাত্রীদের কাছে নুরুল সাহেব একজন মসিহা।

আলিয়া ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, এম নূরুল ইসলামকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। আমি তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। তিনি বলেন, নেগেটিভের মধ্যে পজেটিভ খোঁজ। হতাশ হলে হবে না, ধর্য্য ধরে থাকতে হবে, নিজের কাজ করে যেতে হবে, নেগেটিভ একদিন পজেটিভ হয়ে যাবে। তিনি সমালোচনার জবাব দেন না, তিনি শুধু নিজের কাজ করে যান।

‘ডিয়ার সেক্রেটারি স্যার’ ফিল্মের ডাইরেক্টর পলাশ দাস নিজের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে বলেন,’এটা আমার কাছে জীবনের একটা সেরা পাওনা হয়ে থাকলো। এমন উদাহরণ তো আজকাল খুব পওয়া যায়না।’
অনুষ্ঠানের একেবারে শেষে এম নুরুল ইসলাম বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ‘এক ছাত্র জিজ্ঞেস করেছিল, এক কথায় বলুন, আল আমীন মিশনের সাফল্যের রহস্য কী? সেদিন চটজলদি জবাব দিয়েছিলাম, ‘ভালোবাসা।’

কিন্তু কেমন লাগলো ‘ডিয়ার সেক্রেটারি স্যার’?
এক দর্শকের জবাব, ‘ এক কথায় অসামান্য।’

Tag :

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

আল আমীন মিশনের সম্পাদক এম নুরুল ইসলামকে নিয়ে ডকুমেন্টারি ফিল্ম, স্মৃতির পাতায় কাঁদলেন অনেকে

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৫, রবিবার

মোকতার হোসেন মন্ডল:

আল আমীন মিশনের সম্পাদক এম নুরুল ইসলামকে নিয়ে তৈরি ‘ডিয়ার সেক্রেটারি স্যার’ ডকুমেন্টারি ফিল্মের প্রথম শো দেখলেন শত শত মানুষ। রবিবার বিকেলে আল আমীন প্রত্যয় ফাউন্ডেশন নিউটাউনের রবীন্দ্রতীর্থ অডিটোরিয়ামে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল।
পলাশ দাস নির্মিত ‘ডিয়ার সেক্রেটারি স্যার’ দেখার পর মনে হয়েছে, এম নুরুল ইসলামের জীবনভিত্তিক ডকুমেন্টারিটি যেন সংগ্রামের অশ্রুসজল প্রতিচ্ছবি। পর্দায় ফুটে উঠেছিল তাঁর কঠিন পথচলার প্রতিটি ধাপ, যা দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে গেল। দুঃসাধ্য সেই যাত্রার গল্পে বহু মানুষের চোখের জল থেমে থাকেনি। কীভাবে শূন্য থেকে স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়া যায়, তার জীবন্ত উদাহরণ মিলল সেখানে। স্মৃতির পাতায় ফিরে ফিরে এল বহু মানুষের স্নেহ, ত্যাগ ও প্রেরণার মুহূর্তগুলো।
তাঁর নিষ্ঠা, মানবিকতা আর অসীম ধৈর্য যেন ডকুমেন্টারির প্রতিটি ফ্রেমে আলো হয়ে ফুটে উঠল। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে অদম্য ইচ্ছেশক্তির গল্পে আবেগের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ল পুরো হলে। ডকুমেন্টারির শেষ দৃশ্যে যেন এক গভীর নীরবতা, যা এক শ্রদ্ধার ভাষা। এম নুরুল ইসলামের জীবনকাহিনী তাই শুধু একটি ডকুমেন্টারি নয়, এটি এক অনুপ্রেরণার চিরন্তন দলিল।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের খান,পূবের কলম পত্রিকার সম্পাদক তথা রাজ্য সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান আহমেদ হাসান ইমরান, আলিয়া বিশ্ব বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত আমলা এনাউর রহমান,
সংখ্যালঘু দপ্তরের আধিকারিক শাকিল আহমেদ, প্রতিচির সাবির আহমেদ, আমানত ফাউন্ডেশনের শাহ আলম প্রমুখ।

পূর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এদিন বলেন,’একজন মাষ্টার মশাই শুধু একজন মানুষ তৈরি করেননি, তিনি সমাজ তৈরি করেছেন। তিনি অভিযোগ করেননি, নিজের কাঁধে দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন। এই কাজটা একদিনে হয়নি, কয়েক বছর লেগেছে। এটা একটা কাজ নয়, এটা একটা যুদ্ধ। কতবার কত জিনিস নিয়ে তিনি আমাদের কাছে দৌড়ে দৌড়ে এসেছেন, এইভাবে কত মানুষের কাছে পৌঁছে গেছেন।’
তিনি আরো বলেন,”পিছিয়ে পড়া থেকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, এই রকম একজন মানুষকে স্যালুট। আমি নুরুল ইসলামকে রোজ ফোন করি, আমার একটা ছাত্রকে ভর্তি করে দিন বলে, কেননা সবাই আল আমীন মিশনে পড়াতে চান। আমার বন্ধু নূরুল ইসলাম সাহেবকে বলব, আপনার জীবন আমাদের সবার পথ প্রদর্শক হোক।”

শিক্ষার ক্ষেত্রে যেমন নুরুল ইসলানের অনস্বীকার্য তেমনি পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম মিডিয়ার ক্ষেত্রে পুবের কলমের সম্পাদক আহমদ হাসান ইমরানের নাম ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ‘ডিয়ার সেক্রেটারি স্যার’ প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে এসে আহমদ হাসান ইমরান বলেন,” আমি নিজে দেখেছি, নুরুল ইসলাম সাহেব কখনো শিলং, কখনো কানপুর গেছেন, অর্থ সংগ্রহ করেছেন। মুসলিম সমাজে শিক্ষা বিস্তারে আল আমীন, পত্রিকায় কলম, বক্তৃতা ও ঐতিহাস লেখনীতে গোলাম আহমাদ মর্তুজা, সাহিত্যে আব্দুল আজিজ আল আমান, শিল্পে মোস্তাক হোসেন, গুনলে সংখ্যায় দশজনের কম হবে।”
রামকৃষ্ণ মিশন অনেকের কাজে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে তিনি প্রিয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিদায় হজের ভাষণ থেকে শিক্ষা নিতে সকলকে অনুরোধ করেন। তিনি আরো বলেন,’নুরুল ইসলাম সাহেবের আয়ু বাড়িয়ে দেন। আল আমীন মিশন আজকে একটা উদাহরণ। কীভাবেবাণিজ্য না করেও তাঁকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া যায়।’
তিনি ফিল্মের পরিচালককেও ধন্যবাদ দেন।

আল আমীন প্রত্যয় ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. শেখ হাম্মাদুর রহমান জানান, এম নূরুল ইসলাম স্যারের কাজের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করতেই এই প্রদর্শনী। তিনি বলেন, মিশনের খলতপুর শাখার ২০০২ সালের ছাত্রছাত্রীরা মিলে ২০০০ সালে আল আমীন প্রত্যয় ফাউন্ডেশন তৈরি করেন। ৭৭টি শাখা। ২০ হাজার ছাত্রছাত্রী। অর্ধ লক্ষ প্রাক্তনী।
সভার সঞ্চালক তথা আলিয়া ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপক ড. আয়াতুল্লাহ ফারুক বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে পূর্ব ভারতে শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে সেক্রেটারি স্যার এম নূরুল ইসলামের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি বঞ্চিত সমাজের স্বপ্নের ফেরিওয়ালা।’

ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মাবুদ মন্ডল বলেন, আজকে আল আমীন মিশনকে দেখলে মনে হয় কবিতার এক ক্যানভাস। কিন্তু কবির কল্পনার ক্যানভাস নয়। এই মিশন তৈরি করতে বহু চড়াই উতরাই পেরুতে হয়েছে। নিজের নানির দেওয়া স্বর্ণ, স্ত্রীর দেওয়া গহনা বিক্রী করে মিশনকে দিয়েছেন এম নূরুল ইসলাম।
তিনি ছাত্রছাত্রীদের বলেন,ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার আগে মানুষ হও। একশোর অধিক বাবা হারা, মাতৃ হারা এতিম, অসহায় ছেলেমেয়ে শান্তি নীড়ে পড়াশোনা করেন।

তথ্য চিত্রে দেখানো হয়েছে,’ নুরুল সাহেব ‘ভিক্ষার ঝুলি’ নিয়ে দরজায় দরজায় গেছেন, কেউ এক মুঠো চাল গম দিয়েছেন তো কেউ বা বলেছেন, ‘ খোদা হাফেজ আপনি আসতে পারেন ‘।
ফিল্মে মিশনের সম্পাদক জানান, রামকৃষ্ণ ইনিস্টিটিউট অফ কালচার থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ইসলামিক ইনিস্টিটিউট অফ কালচার তৈরি করলাম। প্রথম পুত্রের চেরাহা দেখেছেন একমাস পর। বেতনের সিংহভাগ দিয়েছেন মিশনে।

তিনি ছাত্রছাত্রীদের বলছেন, যে যত বড় স্বপ্ন দেখবে, তুমি যা ভাববে তাই হবে। মানুষের কল্যাণের জন্য যখন কেউ কাজ করে, তখন স্বয়ং স্রষ্টা তার সহায়ক হোন। আমরা যদি সত্যিই ভালো থাকতে চাই তাহলে চারিপাশের লোকদের ভালো রাখতে হবে।

দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ, সমাজ গড়ার এক মিশন আল আমীন। প্রাক্তন বিধায়ক ননীগোপাল তথ্য চিত্রে বলেন,’ওর ভিতর কমিউনিটির দরদ আছে। ও বলতো, খ্রিস্টান সমাজ যদি মিশন করতে পারে, হিন্দু সমাজ যদি পারে, মুসলিম সমাজকে হাত ধরে টেনে আনতে পারি কিনা।’
জানা গেল, মৃণাল সেন ৮৮ লক্ষ টাকা দান করেন। এদিন প্রাক্তন পড়ুয়াদের পক্ষ থেকে জানানো হল, অগণিত ছাত্রছাত্রীদের কাছে নুরুল সাহেব একজন মসিহা।

আলিয়া ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, এম নূরুল ইসলামকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। আমি তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। তিনি বলেন, নেগেটিভের মধ্যে পজেটিভ খোঁজ। হতাশ হলে হবে না, ধর্য্য ধরে থাকতে হবে, নিজের কাজ করে যেতে হবে, নেগেটিভ একদিন পজেটিভ হয়ে যাবে। তিনি সমালোচনার জবাব দেন না, তিনি শুধু নিজের কাজ করে যান।

‘ডিয়ার সেক্রেটারি স্যার’ ফিল্মের ডাইরেক্টর পলাশ দাস নিজের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে বলেন,’এটা আমার কাছে জীবনের একটা সেরা পাওনা হয়ে থাকলো। এমন উদাহরণ তো আজকাল খুব পওয়া যায়না।’
অনুষ্ঠানের একেবারে শেষে এম নুরুল ইসলাম বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ‘এক ছাত্র জিজ্ঞেস করেছিল, এক কথায় বলুন, আল আমীন মিশনের সাফল্যের রহস্য কী? সেদিন চটজলদি জবাব দিয়েছিলাম, ‘ভালোবাসা।’

কিন্তু কেমন লাগলো ‘ডিয়ার সেক্রেটারি স্যার’?
এক দর্শকের জবাব, ‘ এক কথায় অসামান্য।’