পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ‘বিজেপি শাসিত রাজ্যে একটা লোক খুন, অপহরণ বা ধর্ষণের মতো অপরাধ করার পরেও বেল পেয়ে বাইরে চলে আসে। অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করার দায়িত্ব মহারাষ্ট্র পুলিশের, আর তারা যদি না পারে তবে কেস ট্রান্সফার করে দিক আমাদের স্টেটে; আমরা ৫০ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিয়ে দেখাব।’
মহারাষ্ট্রের পুণে জেলার কোরেগাঁও ভীমায় পুরুলিয়ার বান্দোয়ানের পরিযায়ী শ্রমিক সুকেন মাহাতোর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ঠিক এই ভাষাতেই বিজেপি শাসিত ডবল ইঞ্জিন সরকারকে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
গত পরশুদিন সুকেনের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর আসার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে বান্দোয়ান। আজ নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি ওই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে একের পর এক তোপ দাগেন তিনি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন এবং রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক ও মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তাঁরা মহারাষ্ট্রের প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রাখেন। মৃত সুকেন মাহাতো ২০০৯ সাল থেকে তাঁর আরও দুই ভাইয়ের সঙ্গে কোরেগাঁও ভীমার একটি অটো পার্টস ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।
গত ১৩ই ফেব্রুয়ারি কাজে যাওয়ার পর নিখোঁজ হয়ে যান তিনি এবং পরে অত্যন্ত বর্বরোচিত অবস্থায় তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া সুকেনের দেহের ক্ষতবিক্ষত ভিডিওর প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, ‘সুকেনের যে ভিডিওটা সমাজ মাধ্যমে রয়েছে তা আপনারা দেখেছেন, যে নৃশংস বর্বরোচিত ভাবে তাকে মারা হয়েছে তার দেহের দিকেও তাকানো যাচ্ছে না।’
তদন্ত প্রক্রিয়ার শ্লথ গতি এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বিজেপি পরিচালিত তদন্তকারী সংস্থাগুলোর ১০ বছর আগের তদন্তের ট্রায়াল এখনও শুরু হয়নি। যদি অভিযুক্তদের বেল হয়, তবে বেল ক্যান্সেলেশনের জন্য যা আইনি লড়াই লড়তে হবে, দলগতভাবে আমরা সেই সাহায্য পরিবারকে করবো। হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট যেখানে যেতে হয় আমরা যাব।’
তাঁর অভিযোগ, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বাংলার শ্রমিকদের টার্গেট করার একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্ন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উড়িষ্যা, হরিয়ানা, ছত্তিশগড় বা মধ্যপ্রদেশের সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘কোথাও আমাদের ছেলেদের ‘বাংলাদেশি’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে, কোথাও বিনা কারণে টর্চার করা হচ্ছে। এ এক ভয়ঙ্কর প্রবণতা।’
বিজেপির ‘বাংলা বিরোধী’ মানসিকতার নিন্দা করে অভিষেক স্থানীয় সাংসদ জ্যোতির্ময় মাহাতোকেও একহাত নেন। তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, তবাংলার মানুষের টাকা বন্ধ করার সময় তো বিজেপির সাংসদ দিল্লিতে গিয়ে তদ্বির করেন, এখন কি নিজের জেলার এক তরতাজা যুবকের খুনের বিচারের জন্য মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিসকে ফোন করার সাহস দেখাবেন? তিনি আরও যোগ করেন যে, মানুষ যখন প্রাণে মারা যায়, তখন রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে বিচার চাওয়া উচিত।
নিহত সুকেনের দুই ভাই, যারা প্রত্যক্ষদর্শী এবং সহকর্মী ছিলেন, তাঁরা আতঙ্কে আর মহারাষ্ট্রে ফিরে যেতে রাজি নন। তাঁদের এই অসহায়তার কথা শুনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, ‘আমি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন রাখবো যাতে তাঁদের দুই ভাইয়ের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা মানবিক রাজ্য সরকার এই পুরুলিয়ার মাটিতেই করে দেয়, যাতে তাঁদের আর প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে বাইরে না যেতে হয়।’ দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এবং বিচার প্রক্রিয়ায় গতি আনতে আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যে তৃণমূলের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল মহারাষ্ট্র যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও তিনি জানান। দলগত কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে আগামীকাল জেলার প্রতিটি ব্লকে ও শহরে ধিক্কার মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে।


































