গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহে হাসপাতালে রক্ত সংকট হতে পারে, আশঙ্কা প্রকাশ স্বাস্থ্য আধিকারিকের

- আপডেট : ৯ এপ্রিল ২০২৩, রবিবার
- / 24
পুবের কলম প্রতিবেদক বসিরহাট : ইতিমধ্যে রাজ্যে গ্রীষ্ম তার রূপ দেখাতে শুরু করেছে। দিনে দিনে যত তাপমাত্রা বাড়ছে, গরমের ঝাপটা মানুষকে ভীতসন্ত্রস্ত করে তুলছে। তার উপর হাওয়া অফিস জানাচ্ছে চলতি সপ্তাহ থেকেই কার্যত তাপপ্রবাহ শুরু হয়ে যাবে গোটা দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে। যত গরম বাড়বে মানুষের রোগে আক্রান্তের সংখ্যা তার সাথে দিনে দিনে বাড়বে। আর তার আগেই শুরু হয়েছে হাসপাতালগুলিতে রক্ত সংকট।
একাধিক মুমূর্ষু তথা গুরুতর রোগে আক্রান্ত মানুষের রক্তের চাহিদা এই গ্রীষ্মকালেই সবথেকে বেশি দেখা যায়। কিন্তু চাহিদা থাকলেও এই দাবদাহের মধ্যে রক্তের যোগান পাওয়া বেশ কঠিন। যার জেরে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বসিরহাটের সীমান্ত থেকে শুরু করে সুন্দরবনের ১০টি ব্লক ও তিন পৌরসভার প্রায় ৩৫ লক্ষ মানুষ। কারণ এই সমস্ত প্রান্তিক জায়গা গুলিতে তারা যদি কোন রকম রোগে আক্রান্ত হয় এবং সে ক্ষেত্রে রক্তের যদি তাদের প্রয়োজন হয় তাহলে বেশ সমস্যার মধ্যে পড়তে হবে তাদের এই রক্তের অভাবের কথা একপ্রকার স্বীকার করেই নিলেন বসিরহাট স্বাস্থ্য জেলার ব্লাড ব্যাংক ইনচার্জ বিজয়া ভট্টাচার্য্য।
তিনি বলেন,একে গ্রীষ্মের প্রচন্ড তাপপ্রবাহ, তার মধ্যে রমজান ও চৈত্র মাস হওয়ার ফলে এমনিতেই রক্তদানের মাত্রা অন্য মাসের তুলনায় কম। যার জেরে কিছুটা হলেও রক্তের অভাব দেখা দিয়েছে। আমরা সমস্ত শ্রেণীর মানুষকে আহ্বান জানাবো যাতে সবাই রক্তদান সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হয়। পাশাপাশি আবেদন জানাচ্ছি হাসপাতালে এসে স্বেচ্ছায় যেন রক্ত দান করে।
তাহলে দ্রুত এই সমস্যা সমাধান হবে। যদিও গ্রীষ্মকালীন এই রক্ত সংকট মেটাতে উদ্যোগী হয়েছেন বসিরহাটের সমাজকর্মী ছন্দক বাইন ও ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্র অর্কজ্যোতি হাজরা। তারা হাসপাতালে আগত রোগীর আত্মীয় থেকে শুরু করে পথ চলতি মানুষকে রক্তদান সম্পর্কে সচেতন করেছেন। যাতে মানুষ আরো বেশি করে রক্ত দিতে উদ্যোগী হয়। পাশাপাশি তাদের আবেদন রক্ত নিয়ে কোন অসাধু চক্র হাসপাতালে ব্যবসা না করতে পারে সেদিকটাও নজর রাখতে হবে। কারণ এক শ্রেণির দালাল ডোনার এনে তাকে টাকা দিয়ে হাসপাতালে রক্ত দিলে তবেই হাসপাতাল থেকে রোগীর জন্য রক্ত মিলছে বলে অভিযোগ। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে মুখ খুলতে চায় নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।