পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য দুই মাসের সময়সীমা বেঁধে দিতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গঠিত তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদ—এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, হামাস অস্ত্র সমর্পণ না করা পর্যন্ত গাজায় যুদ্ধ থামার কোনও প্রশ্নই নেই। তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, সোমবার ইসরায়েলের স্থানীয় দৈনিক ‘মাকর রিশোন’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্মোট্রিচ বলেন, ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদ হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের জন্য দুই মাসের আলটিমেটাম দিতে যাচ্ছে। তাঁর মতে, গাজা যুদ্ধের মূল লক্ষ্যই হলো হামাসের অস্তিত্ব সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলা। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজার অর্ধেকের বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে এবং সামগ্রিক পরিস্থিতির উপর তাদের পূর্ণ কর্তৃত্ব রয়েছে।
স্মোট্রিচের ভাষায়, “গাজায় হামাসের কোনও অস্তিত্ব থাকবে না—তা সামরিক, বেসামরিক কিংবা সরকারি কাঠামোর মধ্যেই হোক না কেন। আমরা এই লক্ষ্যে অঙ্গীকারবদ্ধ।” তিনি আরও বলেন, যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ হওয়া উচিত হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, যা তাঁর মতে, তিন মাস আগেই শুরু করা দরকার ছিল। তবে এই দাবি নিয়ে ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, এই পর্ষদের সভাপতিত্ব করছেন স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত নির্বাহী পর্ষদে কূটনীতি, উন্নয়ন, অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক কৌশলে অভিজ্ঞ একাধিক সদস্য রয়েছেন।
চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি গাজা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তার আগে, গত বছরের ১০ অক্টোবর ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা পরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়। যদিও শান্তি পর্ষদের সনদে সরাসরি গাজার নাম উল্লেখ নেই, তবুও এর কার্যক্রমের বড় প্রভাব পড়ছে গাজা পরিস্থিতির উপর। বর্তমানে গাজা উপত্যকায় প্রায় ২৪ লক্ষ মানুষ ভয়াবহ মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। এর মধ্যে অন্তত ১৫ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত। লাগাতার ইসরায়েলি হামলায় অবকাঠামো বিপর্যস্ত, খাদ্য ও চিকিৎসা সংকট চরমে পৌঁছেছে।
শান্তি পর্ষদের সনদে এটিকে একটি ‘আন্তর্জাতিক সংস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করা হলেও, ট্রাম্পকে দেওয়া ব্যাপক ক্ষমতা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। ভেটো প্রয়োগ থেকে শুরু করে সদস্য নিয়োগ—সবকিছুর উপরই তাঁর নিয়ন্ত্রণ। সমালোচকদের মতে, এই কাঠামো কার্যত জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে এককভাবে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের প্রয়াস।
হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের আলটিমেটাম এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা বাড়ছে। শান্তির নামে গঠিত এই পর্ষদ আদৌ সংঘাত কমাতে পারবে, না কি মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর করবে—সেই প্রশ্নই এখন আন্তর্জাতিক মহলে সবচেয়ে বেশি আলোচিত।




























