০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নাইটক্লাবে নিষিদ্ধ আতশবাজি, দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে কড়া গোয়া সরকার

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: আতশবাজি থেকে দাউদাউ আগুন নাইটক্লাবে। বেঘোরেই প্রাণ হারিয়েছেন ২৫ জন। এরপরই বিরাট পদক্ষেপ করল গোয়া সরকার। উত্তর গোয়ার সমস্ত নাইটক্লাবে নিষিদ্ধ করা হল আতশবাজি। বুধবার সন্ধ্যায় উত্তর গোয়া জেলা প্রশাসনের তরফে এমনই এক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে উত্তর গোয়ার নাইটক্লাব বা পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে যে কোনও ধরনের বাজির ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিয়ম না মানলে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে নাইটক্লাবের পরিচালনা কমিটিকে।

জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা ২০২৩-এর ১৬৩ ধারা অনুযায়ী এই নির্দেশকা জারি করা হয়েছে। এই ধারার ভিত্তিতেই উত্তর গোয়ার পর্যটন কেন্দ্রগুলির ভিতরে আতশবাজি, ফায়ারওয়ার্কস, পাইরোটেকনিক, ফ্লেম থ্রোয়ার বা ধোঁয়া তৈরির সরঞ্জামের ব্যবহার, জ্বালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গোয়া প্রশাসন জানিয়েছে, এবার থেকে নাইটক্লাব, রেস্তোরাঁ, পাবে আর আতশবাজি, বৈদ্যুতিক আতশবাজি পোড়ানো যাবে না। নিষিদ্ধ করা হয়েছে স্মোক জেনারেটরও। শুধুমাত্র নাইটক্লাব নয়, যেকোনও হোটেল, রেস্তোরাঁ, হল, ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের জমায়েতেও আতশবাজি পোড়ানো যাবে না। কয়েকটি বিশেষ ক্ষেত্রে আতশবাজি পোড়ানোয় ছাড় দেওয়া যেতে পারে। তবে তার আগে অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। আগামী দু’মাসের জন্য এই নিয়ম বহাল থাকবে। নির্দেশ অমান্য করলেই জরিমানা করা হবে। অর্থাৎ বড়দিন থেকে বর্ষশেষের উদযাপনে গোয়ায় আলোর রোশনাইয়ের সাক্ষী থাকতে পারবেন না পর্যটকরা।

আরও পড়ুন: ধর্মতলায় উদ্ধার ৬০০ কেজি নিষিদ্ধ বাজি, গ্রেফতার ৩

উল্লেখ্য, গত শনিবার গোয়ায় নৈশক্লাবে পার্টি চলাকালীন গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। তারপরই বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয় ২৫ জনের। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন পর্যটক। ঘটনায় আহত হয় কমপক্ষে ৫০ জন। জানা গিয়েছে, মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে উত্তর গোয়ার বাগা এলাকার বার্চ বাই রোমিও লেনে জনপ্রিয় নাইট ক্লাবে। উইকেন্ড হওয়ায় এ দিন অন্যান্য দিনের থেকে বেশি ভিড় ছিল ওই নাইটক্লাবে। আচমকা সেখানে আগুন লেগে যায়। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে গোটা ক্লাবে। দাউ দাউ জ্বলতে থাকা আগুনে আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করে দেন সকলে। মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত জানিয়েছিলেন, নিহতদের মধ্যে সিংহভাগই রান্নাঘরের কর্মী। এ ছাড়া তিনজন মহিলার দেহও শনাক্ত হয়েছে বলে খবর। যে ২৩ জনের মধ্যে তিনজন পুড়ে মারা গিয়েছেন এবং বাকিরা শ্বাসরোধে মারা গিয়েছেন।

প্রতিবেদক

কিবরিয়া আনসারি

Kibria obtained a master's degree in journalism from Aliah University. He has been in journalism since 2018, gaining work experience in multiple organizations. Focused and sincere about his work, Kibria is currently employed at the desk of Purber Kalom.
সর্বধিক পাঠিত

দেরাদুনে বাস খাদে, ৩ জনের মৃত্যু

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

নাইটক্লাবে নিষিদ্ধ আতশবাজি, দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে কড়া গোয়া সরকার

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, বৃহস্পতিবার

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: আতশবাজি থেকে দাউদাউ আগুন নাইটক্লাবে। বেঘোরেই প্রাণ হারিয়েছেন ২৫ জন। এরপরই বিরাট পদক্ষেপ করল গোয়া সরকার। উত্তর গোয়ার সমস্ত নাইটক্লাবে নিষিদ্ধ করা হল আতশবাজি। বুধবার সন্ধ্যায় উত্তর গোয়া জেলা প্রশাসনের তরফে এমনই এক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে উত্তর গোয়ার নাইটক্লাব বা পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে যে কোনও ধরনের বাজির ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিয়ম না মানলে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে নাইটক্লাবের পরিচালনা কমিটিকে।

জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা ২০২৩-এর ১৬৩ ধারা অনুযায়ী এই নির্দেশকা জারি করা হয়েছে। এই ধারার ভিত্তিতেই উত্তর গোয়ার পর্যটন কেন্দ্রগুলির ভিতরে আতশবাজি, ফায়ারওয়ার্কস, পাইরোটেকনিক, ফ্লেম থ্রোয়ার বা ধোঁয়া তৈরির সরঞ্জামের ব্যবহার, জ্বালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গোয়া প্রশাসন জানিয়েছে, এবার থেকে নাইটক্লাব, রেস্তোরাঁ, পাবে আর আতশবাজি, বৈদ্যুতিক আতশবাজি পোড়ানো যাবে না। নিষিদ্ধ করা হয়েছে স্মোক জেনারেটরও। শুধুমাত্র নাইটক্লাব নয়, যেকোনও হোটেল, রেস্তোরাঁ, হল, ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের জমায়েতেও আতশবাজি পোড়ানো যাবে না। কয়েকটি বিশেষ ক্ষেত্রে আতশবাজি পোড়ানোয় ছাড় দেওয়া যেতে পারে। তবে তার আগে অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। আগামী দু’মাসের জন্য এই নিয়ম বহাল থাকবে। নির্দেশ অমান্য করলেই জরিমানা করা হবে। অর্থাৎ বড়দিন থেকে বর্ষশেষের উদযাপনে গোয়ায় আলোর রোশনাইয়ের সাক্ষী থাকতে পারবেন না পর্যটকরা।

আরও পড়ুন: ধর্মতলায় উদ্ধার ৬০০ কেজি নিষিদ্ধ বাজি, গ্রেফতার ৩

উল্লেখ্য, গত শনিবার গোয়ায় নৈশক্লাবে পার্টি চলাকালীন গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। তারপরই বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয় ২৫ জনের। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন পর্যটক। ঘটনায় আহত হয় কমপক্ষে ৫০ জন। জানা গিয়েছে, মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে উত্তর গোয়ার বাগা এলাকার বার্চ বাই রোমিও লেনে জনপ্রিয় নাইট ক্লাবে। উইকেন্ড হওয়ায় এ দিন অন্যান্য দিনের থেকে বেশি ভিড় ছিল ওই নাইটক্লাবে। আচমকা সেখানে আগুন লেগে যায়। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে গোটা ক্লাবে। দাউ দাউ জ্বলতে থাকা আগুনে আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করে দেন সকলে। মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত জানিয়েছিলেন, নিহতদের মধ্যে সিংহভাগই রান্নাঘরের কর্মী। এ ছাড়া তিনজন মহিলার দেহও শনাক্ত হয়েছে বলে খবর। যে ২৩ জনের মধ্যে তিনজন পুড়ে মারা গিয়েছেন এবং বাকিরা শ্বাসরোধে মারা গিয়েছেন।