তুঘলকি ফরমান নির্বাচন কমিশনের
বিহারের ২০ শতাংশ ভোটারকে ছাঁটাই করতে চলেছে কমিশন, অভিযোগ কংগ্রেসের

- আপডেট : ৩ জুলাই ২০২৫, বৃহস্পতিবার
- / 140
পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: স্পেশাল সামারি রিভিশনের (এসএসআর) আড়ালে বিহারের প্রায় ২০ শতাংশ ভোটারকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে নির্বাচন কমিশন। এমনই অভিযোগ তুলল কংগ্রেস। বিহার কংগ্রেসের সভাপতি রাজেশ রাম, যিনি নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করেন। রাম বলেছেন, কমিশন ভোটার তালিকা থেকে ভোটারদের বাদ দেওয়ার পরিকল্পনায় ‘আক্রমণাত্মক ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’ বলে মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে, ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার মনস্থির করে ফেলেছে নির্বাচন কমিশন। কংগ্রেসের সদর দফতর ইন্দিরা ভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাম প্রশ্ন তোলেন, “মাত্র এক মাসের মধ্যে এত বড় বিশেষ নিবিড় সংশোধন করার সিদ্ধান্ত কে নিয়েছে?” উদ্বেগ প্রকাশ করে কংগ্রেস সভাপতির বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছতা এবং ব্যবহারিকতা উভয়েরই অভাব রয়েছে এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে তাড়াহুড়ো করছে।
কংগ্রেস নেতা কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন, বুথ-স্তরের অফিসারদের (বিএলও) হাজার হাজার ভোটারকে যাচাই করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের পর্যাপ্ত কর্মী, সংস্থান ও সহায়তা দেওয়া হয়নি। বিহারের সরকারি দফতরে ৪ লক্ষ পদ শূন্য রয়েছে। গত ২০ বছরে উল্লেখযোগ্য কোনো নিয়োগ হয়নি। এই বিশাল কাজ কে করবে? রাজ্যে এ ধরনের রিভিশন করার মতো প্রশিক্ষিত অফিসার ও পর্যাপ্ত জনবলের অভাব রয়েছে। বিহারের এক অংশ বন্যাপ্রবণ এবং অন্যটি খরা প্রভাবিত। বন্যাকবলিত এলাকায় বিএলওগুলি কীভাবে কাজ করবে? প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর কথায়, এই সময়কালে বিহার থেকে লক্ষ লক্ষ মরশুমি শ্রমিক পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় চলে যান। তারা আরও চার মাস দেশে ফিরবে না। বিএলওদের বাড়িতে না পেলে কি তাদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। বিজেপি কি সরকারি কর্মীদের পরিবর্তে এই কাজ চালাবে? প্রশ্ন তুলেছেন রাজেশ রাম। বিহারের প্রায় ৮ কোটি ভোটারকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার এই প্রক্রিয়াকে ‘সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
বিহার কংগ্রেসের ইনচার্জ কৃষ্ণ আল্লাভারু নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপের নিন্দা করে এটিকে “তুঘলকি ফরমান” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “ইতিহাস আপনাকে কখনও ক্ষমা করবে না, মিস্টার মোদি। ভারতীয় গণতন্ত্রে এর আগে কখনও ৮ কোটি মানুষকে – যারা এক বছর আগে ভোট দিয়েছিলেন – তাদের পরিচয়পত্রের নথি পুনরায় জমা দিতে বলা হয়নি। গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর নজিরবিহীন আক্রমণের জন্য ভারতের জনগণ মোদি সরকারকে ক্ষমা করবে না।”