পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: স্কুলের পাঠ্য বই থেকে ইতিহাস মুছে ফেলল রাজস্থানের বিজেপি সরকার। দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যক্রম থেকে ‘আজাদি কে বাদ দেওয়া স্বর্ণিম ভারত পার্ট ১ এবং ২’ বাদ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন রাজস্থানের শিক্ষামন্ত্রী মদন দিলাওয়ার। তিনি দাবি করেছেন, পূর্ববর্তী কংগ্রেস সরকারের আমলে চালু করা বইগুলি জরুরি অবস্থার জন্য দায়ী কংগ্রেস নেতাদের “অন্যায়ভাবে গৌরবান্বিত” করা হয়েছে। কংগ্রেস নেতাদের গৌরবান্বিত করতে গিয়ে জাতীয় ব্যক্তিত্বদের উপেক্ষা করা হয়েছে। সর্দার প্যাটেল, লাল বাহাদুর শাস্ত্রী, ডঃ বি আর আম্বেদকর এবং ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো নেতাদের বাদ পড়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলাওয়ার বলেন, “এই বইগুলিতে তাদের প্রশংসা করা হয়েছে যারা সংবিধানকে স্থগিত করেছে এবং গণতন্ত্রকে খাটো করেছে।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভৈরোঁ সিং শেখাওয়াত এবং বসুন্ধরা রাজের কোনও নাম নেই কেন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন রাজস্থানের শিক্ষামন্ত্রী।
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য, বইগুলিতে কোনও যথাযথ বিষয় নেই এবং তা পরীক্ষার জন্য অপ্রোজনীয়। এইভাবে কেবল শিক্ষার্থীদের উপর অযথা বোঝা চাপানো হয়। দেরিতে হলেও তা প্রত্যাহারের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, “এই বইগুলি ছাপতে অর্থ ব্যয় করা হয়েছে ঠিকি। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে আমরা আমাদের বাচ্চাদের বিষ খাওয়াব। ভুল তথ্য থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে আমরা সেই ক্ষতি সহ্য করতে প্রস্তুত।”
রাজস্থান রাজ্য পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ইতিমধ্যে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য ৪.৯০ লক্ষ কপি বই ছাপিয়েছে, যার ৮০% ১৯,৭০০ স্কুলে বিতরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধীরা। তারা বলেছে, আর্থিক অপচয় এবং একাডেমিক ধারাবাহিকতা ব্যাহত করার জন্যই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এবিষয়ে রাজস্থান কংগ্রেসের সভাপতি গোবিন্দ সিং দোতাসরা এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করে বলেছেন, এটি রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার উপর সংকীর্ণ মানসিকতা এবং আরএসএস পরিচালিত আদর্শগত আক্রমণ। কংগ্রেসের সভাপতির আরও বক্তব্য, “এটা নিছক পাঠ্যক্রম পরিবর্তন নয়, শিক্ষা ব্যবস্থায় আদর্শিক বিকাশের অভিমুখ পরিবর্তনের চেষ্টা। আসলে শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশ্য হল এই বইগুলির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উপর আরএসএসের মতাদর্শ এবং বিজেপির রাজনৈতিক এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়া।”
কংগ্রেসের অভিযোগ, জওহরলাল নেহরু, ইন্দিরা গান্ধি, রাজীব গান্ধি, মনমোহন সিংয়ের মতো প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, আইআইটি, ইসরো ও এইমসের মতো প্রতিষ্ঠান, যুগান্তকারী সামাজিক কর্মসূচি, টেলিকম ও কম্পিউটার বিপ্লব এবং জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সাহসী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আধুনিক ভারতকে রূপ দেওয়া নেতাদের ইতিহাস ইচ্ছাকৃতভাবে মুছে ফেলছে। হাত শিবিরের প্রশ্ন, “বিজেপি সরকার কি পাঠ্যক্রম থেকে সরিয়ে দিয়ে ইতিহাস ও সত্যকে আড়াল করে দেশের মহান নেতাদের এই অদম্য অবদানকে ছাত্রদের কাছ থেকে আড়াল করতে চায়?”




























