পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ দীর্ঘ ২১ বছর পর রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ায় এবারের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে গুরুত্ব। নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম ওঠার পর বহু মানুষের মধ্যেই তৈরি হয়েছে এক ধরনের আশঙ্কা, এইবার ভোট না দিলে ভবিষ্যতে তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ে যেতে পারে। সেই কারণেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকরা দলে দলে বাংলায় ফিরতে শুরু করেছেন ভোট দিতে।

এই হঠাৎ চাপের জেরে ট্রেনে টিকিট পাওয়া এখন কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কেরল থেকে বাংলার রুটে পরিস্থিতি আরও কঠিন। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই বিকল্প হিসেবে বেসরকারি বাস পরিষেবার দিকে ঝুঁকছেন।

জানা যাচ্ছে, তিরুঅনন্তপুরম থেকে বাংলার উদ্দেশে কোনও ট্রেনেই আর আসন খালি নেই। যাঁরা আগে থেকেই টিকিট কেটেছিলেন, তাঁরাই কেবল ট্রেনে উঠতে পারছেন। এই রুটে নিয়মিত ছয়টি ট্রেন চলাচল করে শালিমার সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস, ডিব্রুগড় বিবেক এক্সপ্রেস,  টিভিসি এসসিএল এক্সপ্রেস,  গুরুদেব সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস,  সিবিই এসসিএল সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস এবং অরোনাই এক্সপ্রেস। কিন্তু চাহিদার তুলনায় আসন অপ্রতুল হওয়ায় অধিকাংশ শ্রমিকই টিকিট পাননি।

প্রথমে অনেকেই ভেবেছিলেন, এবারের ভোটে অংশ নেবেন না। তবে নির্বাচনের গুরুত্ব বুঝে শেষমেশ বাসে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।

ইতিমধ্যেই কেরলের এর্নাকুলাম জেলার পেরুম্বাভুর, কোথামঙ্গলম এবং মুভাট্টুপুঝা এলাকা থেকে একাধিক বাস বাংলার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভোট মিটিয়ে আবার সেই বাসেই কেরলে ফিরবেন শ্রমিকরা। এই দীর্ঘ যাত্রার জন্য শ্রমিকদের পকেট থেকে গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। নন-এসি বাসের ভাড়া প্রায় ৪ হাজার টাকা, এসি বাসে ৫ হাজার এবং শোয়ার সুবিধাযুক্ত বাসে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি বাসে নিরাপত্তার জন্য থাকছেন দু’জন করে চালক।

এক বাস মালিক জানিয়েছেন, সাধারণত ঈদ ও দুর্গাপুজোর সময় তিনি কোচবিহার, মুর্শিদাবাদ, মালদা ও শিলিগুড়ি রুটে বাস চালান।

কিন্তু এবারে শ্রমিকদের অনুরোধে ভোটের জন্যই শতাধিক বাস চালাতে হয়েছে। যদিও এই পরিষেবা চালাতে গিয়ে একাধিক সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। অভিযোগ উঠেছে, বাংলা-ওড়িশা সীমান্ত পেরোতে প্রতি যাত্রায় প্রায় ৫ হাজার টাকা করে ঘুষ দিতে হচ্ছে, ফলে লাভ কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের ফেরত আনতে বাংলায় প্রায় ১০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে বাসগুলিকে। এদিকে বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিপুল সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিক বাংলায় ফিরছেন ভোট দিতে। এর ফলে এবারের নির্বাচনে ভোটদানের হার বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।