পুবের কলম প্রতিবেদক: গত ৬ আগস্ট সোনারপুর থানার পুলিশ কর্তৃক নির্যাতনের শিকার হন আর এক পুলিশকর্মী তথা জাতীয় ফুটবলার সুরাফ হোসেন ও তাঁর পরিবার। দোষীদের শাস্তি না দিয়ে উলটে তাঁকেই সাসপেন্ড করা হয়। এ নিয়ে প্রতিবাদে সোচ্চার হন মানবাধিকার কর্মীরা। অবশেষে সুরাফ হোসেনের সাসপেনশন তুলে নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই কাজে যোগ দিয়েছেন তিনি। তবে দোষীদের কঠিন শাস্তির দাবিতে এখনও অনড় আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবি– ঘটনার প্রকৃত তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও রজু হয়েছে।
প্রসঙ্গত– পাঁচজন পুলিশ আর প্রায় পনেরোজন সিভিক ভলান্টিয়ার মিলে একজন ব্যক্তিকে উলঙ্গ করে ফুটবল খেলার মাঠজুড়ে প্রায় চল্লিশ মিনিট ধরে পেটাচ্ছে।
পুলিশ শুধু সুরাফ হোসেনের উপর বর্বোরচিত নির্যাতন করেই থেমে থাকেনি। সুরাফ হোসেনের স্ত্রী তানিয়া পারভিনের উপরেও চড়াও হয়। অভিযোগ– পুলিশের মারের ফলে তানিয়ার গর্ভস্থ সন্তান মারা যায়। পুলিশ সুরাফ হোসেন– তানিয়া পারভিন-সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠায়। দীর্ঘ ছ'দিন জেলে থাকার জন্য সুরাফ হোসেনকে চাকরি থেকে সাসপেন্ড হতে হয়। এ নিয়ে 'পুবের কলম'-এর প্রথম পাতায় বিশেষভাবে সেই খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
হাড়হিম করা সেই পুলিশি তাণ্ডবের বিরুদ্ধে বিশিষ্ট আইনজীবী এবং মানবাধিকার কর্মী আনিসুর রহমান-এর নেতৃত্বে মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর– সেভ ডেমোক্রেসি– অধিকার– পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া– একুশের ডাক– আইসা– বন্দিমুক্তি কমিটি– এসিজেপি– জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ-সহ প্রায় ১৭টি মানবাধিকার সংগঠন ও গণসংগঠন দু'মাস ধরে লাগাতার আন্দোলন করেছে।
আরও পড়ুন:
আইনজীবী আনিসুর রহমান বলেন– দোষী পুলিশ ও সিভিকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মহামান্য কলকাতা হাইকোর্টে তানিয়া পারভিন মামলা করেছেন। পুজার ছুটির পর চূড়ান্ত শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
আরও পড়ুন:
ঘটনার পেছনে পুলিশ এবং স্থানীয় সমাজবিরোধীদের যোগসাজশ রয়েছে। একটি সংখ্যালঘু পুলিশ পরিবারের উপর সোনারপুর থানার এসআই সোমনাথ দাস ও প্রিয়া সেন তাণ্ডব চালিয়েছিল এবং জাতিগতভাবে কটূক্তি করা হয় বলেও অভিযোগ। এ নিয়ে আনিসুর রহমানরা সোনারপুর থানা– বারুইপুর জেলা পুলিশের সদর দফতরে ডেপুটেশন দেন। সোনারপুরের কালিকাপুর– কলকাতার হাজরা মোড়ে প্রতিবাদ সভা হয়। হাজরার সভা থেকে আলিপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসকের কাছে ডেপুটেশন দেওয়ার কথা ছিল। তখন ভবানীপুরের ভোটের সময় আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার করে লালবাজারে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
সুরাফ হোসেনের সাসপেনশন প্রত্যাহার ও কাজে যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে আইনজীবী আনিসুর রহমান বলেন– এটা সুরাফ হোসেন ও তাঁর পরিবারের ন্যায়বিচারের পথে কিছুটা সাফল্য বটে– তবে দোষী পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ার এবং সমাজবিরোধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই জারি থাকবে। অভিযোগ– স্থানীয় কিছু সমাজবিরোধী সুরাফ হোসেন ও তাঁর পরিবারকে এখনও বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে।
আরও পড়ুন:
তিনি আরও বলেন– পুবের কলম যেভাবে সুরাফ হোসেনের উপর অত্যাচারের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে এবং কিছু পোর্টাল লাগাতার সুরাফ হোসেনের ইনসাফের জন্য সচেষ্ট ছিল– তাতেই পুলিশ প্রশাসন সুরাফকে চাকরিতে বহাল করতে বাধ্য হয়েছে।
আরও পড়ুন:
ঘটনার মর্মান্তিক কথা প্রতিবেদকের কাছে নিজেও বর্ণনা করেছেন সুরাফ হোসেন। তাঁর গোপনাঙ্গে আঘাত ও রক্তপাত হওয়া– স্ত্রীর গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যু এবং সর্বোপরি জেলে যাওয়া নিয়ে সুরাফ হোসেন ট্রমার মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
এ দিকে পুলিশ নাকি দাবি করেছে– সুরাফ হোসেন আসামী হোসেন আলি মণ্ডলকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনতাই করছিলেন। বর্তমানে সুরাফ হোসেনের নামে একটি মেয়েকে দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে বলে খবর। সূত্রের দাবি– অভিযোগকারী মহিলার পরিবার সুরাফ হোসেনের নামে মামলার বক্তব্যকে মিথ্যা ও সাজানো বলে জানিয়েছে।
আরও পড়ুন:
আরও খবর পড়ুনঃ