পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: সারা দেশে ওয়াক্ফ সম্পত্তির রক্ষার্থে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের ডাকে জোরদার আন্দোলন শুরু হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে আজ পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলায় বোর্ডের “ওয়াক্ফ রক্ষা কমিটি”-র পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর উদ্দেশ্যে একটি স্মারকলিপি জেলা শাসকদের মাধ্যমে পেশ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
রাজ্যের প্রতিটি জেলা প্রশাসকের দপ্তরে প্রতিনিধি দল গিয়ে এই স্মারকলিপি জমা দেয়। এর পাশাপাশি, কমিটির আহ্বায়ক হযরত মাওলানা আবু তালিব রহমানি সাহেবের নির্দেশে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল রাজভবনে গিয়ে মহামান্য রাজ্যপালের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির উদ্দেশ্যে স্মারকলিপি তুলে দেন।
আরও পড়ুন:
এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন সহ-আহ্বায়ক পীরজাদা উজাইর সিদ্দিকী, বোর্ড সদস্য আলহাজ মাহমুদ আলম সাহেব, জামাআতে ইসলামী হিন্দ (পশ্চিমবঙ্গ)-এর সম্পাদক শাদাব মাসূম, ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা সাওবান সিদ্দিকী, হিউম্যান কেয়ার ট্রাস্টের উমর ওয়াইস, এসআর ফাউন্ডেশনের আতহার ফিরদৌসী ও নওশাদ আলী সাহেব।
আরও পড়ুন:
স্মারকলিপিতে সম্প্রতি ওয়াক্ফ অ্যাক্ট ১৯৯৫-এ আনা সংশোধনীগুলির বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানানো হয়েছে। এসব সংশোধনীর মাধ্যমে মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার খর্ব করা হয়েছে বলে অভিযোগ জানানো হয়েছে। সংশোধনীগুলিকে সংবিধানবিরোধী, বৈষম্যমূলক এবং মুসলিম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনার স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে দাবি করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে যেসব মূল আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে:
সংশোধনীগুলি সংবিধানের ১৪, ২৫, ২৬ ও ২৯ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী;আরও পড়ুন:
প্র্যাকটিসিং মুসলিম না হলে ওয়াক্ফ করার অধিকার না থাকা;
আরও পড়ুন:
লিমিটেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী ছাড় প্রত্যাহার;
আরও পড়ুন:
রাজ্য ও কেন্দ্রীয় ওয়াক্ফ বোর্ডে নির্বাচন বাতিল করে মনোনয়ন প্রথা চালু;
আরও পড়ুন:
বোর্ডে অ-মুসলিম সদস্য রাখার সুযোগ;
আরও পড়ুন:
ইউজার ওয়াক্ফ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক;
আরও পড়ুন:
বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষমতা এক মনোনীত অফিসারের হাতে কেন্দ্রীভূত করা ইত্যাদি।
আরও পড়ুন:
কমিটির পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে যে, এই সংশোধনীগুলি অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
পরবর্তী কর্মসূচি:
১৩ই জুন, ২০২৫ তারিখে সারা রাজ্যজুড়ে এক শান্তিপূর্ণ মানব শৃঙ্খল গঠনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এই কর্মসূচিকে সফল করতে সমস্ত মসজিদ কমিটি, ইমাম, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনসমূহকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। ঈদুল আযহা ও শুক্রবারের খুতবায় এই বিষয়ে জনগণকে সচেতন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।আরও পড়ুন:
এই আন্দোলনের মাধ্যমে মুসলিম সমাজ তাদের ধর্মীয় ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছে।