পুবের কলম, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শুক্রবার মায়ানমারে জোরালো ভূমিকম্পে তছনছ হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। মৃতের সংখ্যা প্রায় ১০০০ ছাড়িয়ে গেছে। একটি সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, মায়ানমারে ভূমিকম্পের জন্য মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৬৯৪ জনের। আহতের সংখ্যা ১৬৭০। পরে মায়ানমারের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানায়, মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১০০২। আহত হয়েছেন ২,৩৭৬ জন। এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ ৩০ জন। উদ্ধার কাজ চলছে।
ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারত থেকে প্রায় ১৫ টন ত্রাণসামগ্রী মায়ানমারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল ভূমিকম্পের পর থেকে প্রায় ১৫ বার কেঁপে উঠেছে মায়ানমার। কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.৭। তারপরের ১০ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৪টি 'আফটারশক' অনুভূত হয়েছে। ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের কয়েক মিনিটের মধ্যেই সবচেয়ে শক্তিশালী আফটারশকটি হয়। কম্পনের মাত্রা ছিল ৬.৭। আফটারশকের জন্য উদ্ধার কাজ আরও কঠিন হয়ে যায়।আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন: বাবাসাহেব আম্বেদকরের জন্মদিনে জাতীয় ছুটির ঘোষণা কেন্দ্রের
মায়ানমারের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পড়শি দেশ তাইল্যান্ডও। রাজধানী শহর ব্যাঙ্ককে নির্মীয়মাণ ৩০ তলা ভবন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল। সেই ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে অনেকের মৃত্যু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শুক্রবারই মায়ানমার এবং তাইল্যান্ডের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি এক্স হ্যান্ডলে জানিয়েছিলেন, "সাধ্যমতো সাহায্য করতে প্রস্তুত ভারত।বিদেশ মন্ত্রককে প্রয়োজনীয় নির্দেশও দিয়েছিলেন তিনি।" সেই মতো শনিবার ভোরে উত্তরপ্রদেশের হিন্ডন বায়ুসেনা স্টেশন থেকে ভারীতায় বায়ুসেনার বিমান মায়ানমারের উদ্দেশে হওয়া দিয়েছে। ১৫ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে।
খাবার, কম্বল, তাঁবু, ঘুমানোর সামগ্রী (স্লিপিং ব্যাগ), সোলার ল্যাম্প, জল পরিশোধক এবং প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ভূমিকম্প বিধ্বস্ত মায়ানমারে পাঠানো হয়েছে।আরও পড়ুন:
ভূমিকম্পে মায়ানমারে দু’টি সেতু ভেঙে গিয়েছে বলে খবর। মান্দালয় শহর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাতে জুন্টা প্রধান মিন আং লাইং মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘‘অনেক এলাকায় এখনও বাড়ি ভেঙে পড়ে রয়েছে। উদ্ধারকাজ চলছে। আমরা সাধ্যমতো উদ্ধারকাজ চালাচ্ছি। কিন্তু আন্তর্জাতিক সাহায্যের জন্যও আবেদন জানাচ্ছি।’’ দেশের অন্তত ছ’টি প্রদেশে শুক্রবার জরুরি অবস্থা জারি করেছে জুন্টা সরকার।
আরও পড়ুন: