পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ১৯৮৪ সালের শিখ বিরোধী দাঙ্গার সময় দিল্লির জনকপুরী ও বিকাশপুরী এলাকায় হিংসায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগ থেকে প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ সজ্জন কুমারকে বেকসুর খালাস দিল দিল্লির এক আদালত। বৃহস্পতিবার বিশেষ বিচারক দিগ বিনয় সিং সজ্জন কুমারকে নির্দোষ ঘোষণা করে এই আদেশ দেন। পূর্ণাঙ্গ রায়টি এখনও জনসমক্ষে আসেনি।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে আদালত সজ্জন কুমারের বিরুদ্ধে দাঙ্গা এবং শত্রুতা ছড়ানোর অভিযোগে চার্জ গঠন করলেও, খুনের মামলা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দিয়েছিল।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) দাঙ্গার সময় জনকপুরী ও বিকাশপুরী এলাকায় ঘটে যাওয়া হিংসার ওপর ভিত্তি করে সজ্জন কুমারের বিরুদ্ধে দুটি এফআইআর (FIR) দায়ের করেছিল।

প্রথম এফআইআর-টি ছিল ১৯৮৪ সালের ১ নভেম্বর জনকপুরীতে সোহান সিং এবং তাঁর জামাতা অবতার সিংয়ের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়।

আদালতের এই সিদ্ধান্তে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রবীণ আইনজীবী এইচ.এস ফুলকা। তিনি বলেন, "দুর্ভাগ্যজনক যে মানুষ বছরের পর বছর ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন। এই মামলায় গুরচরণ সিং নামে এক কিশোরকে তাঁর বাবার ট্রাকে ছুঁড়ে ফেলা হয়েছিল এবং ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। দগ্ধ শরীর নিয়ে ২৪ বছর শয্যাশায়ী থাকার পর ২০০৮ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

গুরচরণ সিবিআই-এর কাছে বয়ান দিয়েছিলেন যে তিনি সজ্জন কুমারকে উত্তেজিত জনতার নেতৃত্ব দিতে দেখেছেন। কিন্তু সিবিআই তখন অন্য একটি মামলার তদন্ত করায় তাঁর বয়ান গ্রাহ্য করেনি।" তিনি আরও অভিযোগ করেন, কংগ্রেস সবসময় এই মামলাগুলিকে দীর্ঘায়িত করার ষড়যন্ত্র করেছে যাতে সাক্ষী ও প্রমাণের অভাবে অভিযুক্তরা রক্ষা পেয়ে যান। তিনি জানান, পাঁচজন সাক্ষী সজ্জন কুমারের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বয়ান দিলেও শেষ পর্যন্ত আদালত তাঁকে খালাস করল। এই রায়ের বিরুদ্ধে শীঘ্রই উচ্চ আদালতে আবেদন জানানো হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।