পুবের কলম,দ্বীন দুনিয়া ডেস্ক: সাহিত্য- তা কোনও সাহিত্যিক রচনা করুক বা নবীর মুখে উচ্চারিত হোক অথবা তা কোনও ঐশ্বরিক গ্রন্থের বর্ণনা হোক - শর্ত হল তা এমনভাবে বলতে হবে যেন তা হৃদয়ে রেখাপাত করে। লেখক অনুপম সাহিত্য রচনা করে তৃপ্ত হবে এবং পাঠক তা পাঠ করে আনন্দ পাবে ও তা গ্রহণ করে নেবে। কিন্তু বর্তমান যুগের প্রবণতা হলো যতক্ষণ মানুষ প্রগতির কথা না বলবে, আগের সমাজ- সংস্কৃতি নিয়ে উপহাস না করবে, ধর্ম ও ধর্মীয় গ্রন্থের প্রতি অপবাদ না দেবে ততক্ষণ পর্যন্ত তা সাহিত্য বলে গণ্য হয় না।
আরও পড়ুন:
মানুষ সাহিত্যের ধারণাই পেয়েছে ঐশ্বরিক ধর্মগ্রন্থ থেকে। আল্লাহ্ যখন দ্বীন প্রচারের জন্য নবী পাঠালেন, তাঁদের উন্নত ও মার্জিত ভাষা দিলেন, অর্থবোধকতায় পরিপূর্ণ কিতাব দিলেন, তখন মানুষ উৎকর্ষ ভাষা তথা সাহিত্যের ধারণা পেল। অবশেষে পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ করার মাধ্যমে ভাষা-সাহিত্যের সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হল।
পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘জিবরাঈল এটি নিয়ে অবতরণ করেছে তোমার হৃদয়ে, যাতে তুমি সতর্ককারী হতে পারো। অবতীর্ণ করা হয়েছে সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।’ (সূরা আশ শুরা, আয়াত : ১৯৩-১৯৫)আরও পড়ুন:
উর্দু ভাষার সব সাহিত্য আন্দোলন ও সাহিত্য-জীবনে আলেমরা এগিয়ে এসেছেন এবং মূল ভূমিকা পালন করেছেন। বলা হয়, উর্দু সাহিত্যের রাজমহলের চার স্তম্ভ হলেন মৌলভি হুসাইন আজাদ দেহলভি, খাজা আলতাফ হুসাইন হালি, ডেপুটি নাজির আহমদ ও মাওলানা শিবলি নোমানি। চার সাহিত্যিকই নৈতিক শিক্ষায় মনোযোগী ছিলেন, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ছিলেন এবং আলেমদের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
আরও পড়ুন:
মাওলানা শিবলি নোমানি ও ডেপুটি নাজির আহমদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল।
তাঁদের একজন ছিলেন পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যাকার এবং অন্যজন সিরাত গবেষক। একইভাবে খাজা আলতাফ হুসাইন হালি পুরোপুরি ধার্মিক মানুষ ছিলেন। সাহিত্য মানবপ্রকৃতির অনুকূল হয় না, যদি না তাতে বিশ্বাসের দীপ্তি ও মানুষের জন্য ভালোবাসা থাকে। জালালুদ্দিন রুমি, শেখ সাদি, কুদসি এবং মির, ওয়ার্দ, মির্জা মাজহার জানে জানা ও জিগার মুরাদাবাদির সাহিত্য থেকে চোখ ফেরানো যায় না।আরও পড়ুন:
এঁদের সবাই বিশ্বাসী ও ধার্মিক ছিলেন। কবি ইকবাল বলেছেন, ‘হে অনুসন্ধানী!
তোমার অনুসন্ধিৎসা খুবই চমৎকার। তবে যে বস্তুর প্রকৃতিই দেখতে পেল না তার অনুসন্ধানের মূল্য কী? মানুষের বিচক্ষণতার উদ্দেশ্য চিরস্থায়ী জীবনের বোধ লাভ।’ সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য ও শক্তি হল তা রচনা মানুষের প্রবণতা, মনোভাব, চিন্তা, চেতনা ও কাজে বৈপ্লবিক জাগরণ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে তা যেমন উপকারী, তেমনি ক্ষতিকরও হতে পারে। তার যেমন নির্মাণের শক্তি রয়েছে, তেমনি সামর্থ্য আছে বিনাশের।আরও পড়ুন:
ফলে মুসলিম উম্মাহ ভাষা ও সাহিত্যচর্চায় অমনোযোগী হতে পারে না। ভাষা ও সাহিত্য জনজীবন পাল্টে দিতে পারে, জীবনের নতুন ধারা সৃষ্টি করতে পারে, রাষ্ট্রকে সুপথে পরিচালিত করতে পারে আবার বিপথগামীও করতে পারে। সুতরাং ভাষা ও সাহিত্যচর্চায় মহৎ লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে, যেন তা ধ্বংস, চিন্তার অস্থিরতা, পাশবিক সুখ ও প্রবৃত্তি পুজোর মাধ্যম না হয়ে নির্মাণ, সংস্কার, কল্যাণকামিতা, আল্লাহ্ভীতি, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সুপথপ্রাপ্তির মাধ্যম হয়।