পুবের কলম, ওয়েব ডেস্ক: ভোট বড় বালাই বলেই মঙ্গলবার দুপুর ২.৩০ এ পাহাড়গঞ্জ থানায় যেতে হল কেজরির মন্ত্রী গৌতমকে। পুলিশ তাঁকে ডেকে পাঠিয়েছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। অভিযোগ? তিনি হিন্দু ধর্মের দেব-দেবীদের অপমান করেছেন।
আরও পড়ুন:
গৌতমকে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ প্রসঙ্গে দিল্লির ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ শ্বেতা চৌহান জানিয়েছেন, আম্বেদকর ভবনের অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যেই গৌতমকে তলব করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে গৌতম বলছেন, অরবিন্দ কেজরিওয়াল তাঁর পদত্যাগ সম্পর্কে কিছুই জানেন না। দলের পক্ষ থেকে তাঁকে কোনো চাপ দেওয়া হয়নি। প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম আগেও জানিয়েছিলেন, তিনি নিজে ধর্মে বিশ্বাসী, তাই তিনি কোনো ধর্মকেই অপমান করতে পারেন না। তাছাড়া প্রতিবছরই ওই অনুষ্ঠানে আম্বেদকরের ২২ টি শপথবাক্য পাঠ করা হয়। এর আগেও গৌতম ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন, কিন্তু কোনোদিন কোনো সমস্যা হয়নি।
আরও পড়ুন:
ঠিক গুজরাট বিধানসভার আগেই ওই ২২টি শপথ বাক্যে হিন্দু দেব-দেবীদের অপমান করা হয়েছে বলে ধরে নিল বিজেপি।
গৌতমও নিজে থেকেই পদত্যাগ করলেন। আবার পুলিশও তাঁকে জবাবদিহির জন্য ডেকে পাঠালো। গৌতম, তাঁর দল ও অরবিন্দ কেজরিওয়াল দেখাতে চাইছেন সবটাই যেন কাকতালীয়। কিন্তু রাজনৈতিক মহল বলছে অন্য কথা। অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও তাঁর মন্ত্রী মুখে কিছু না বললেও সামনেই গুজরাটের বিধানসভা। কেজরিওয়াল নিজের গায়ে অ্যান্টি হিন্দু তকমা সরাতে মরিয়া। সূত্রের খবর, গৌতমের ধর্মান্তরণের ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পর মন্ত্রীর উপর বেজায় ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন কেজরিওয়াল। গৌতম হিন্দু দেব-দেবীদের অপমান করেননি জেনেও শেষ পর্যন্ত আম্বেদকরের আদর্শ আর গুজরাটের বিধানসভা ভোটের টসে গুজরাটকেই বেছে নিলেন আরবিন্দ কেজরিওয়াল। এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের।আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, রাজেন্দ্র পাল গৌতম কেজরির মন্ত্রী সভার সমাজকল্যান মন্ত্রী ছিলেন। এই দলিত নেতা অনেক আগে থেকেই আম্বেদকর পন্থী। বৌদ্ধদের জন্য কাজ করছেন অনেক আগে থেকেই। তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘মিশন জয় ভিম' দলিতদের উন্নয়নের জন্য কাজ করে চলেছে। দলিতদের উন্নয়ন ও অধিকারের লড়াইয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকার কারণে ২০১৭ সালে পেয়েছেন ড. আম্বেদকর অ্যাওয়ার্ড।