পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: Mathura & Kashi আন্দোলনে সমর্থন দেবে না Rashtriya Swayamsewak Sangh (rss)। এক অনুষ্ঠানে এমনটাই মন্তব্য করলেন মোহন ভাগবত। এক শতাব্দী ধরে ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে গভীর প্রভাব বিস্তারকারী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ এবার এক নতুন এবং অপ্রত্যাশিত পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
অযোধ্যায় রাম মন্দির আন্দোলনের ঐতিহাসিক সাফল্যের পর, আরএসএস (Rashtriya Swayamsewak Sangh ) প্রধান মোহন ভাগবত ঘোষণা করেছেন যে, তার সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে কাশী ও মথুরার (Mathura & Kashi ) বিতর্কিত মন্দির-মসজিদ ইস্যু নিয়ে কোনও আন্দোলনে সমর্থন দেবে না। এ যেন ভূতের মুখে রাম-নাম।
আরও পড়ুন:
আরএসএসের (rss) শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ বক্তৃতামালায় ভাগবত বলেন, আরএসএস কোনও আন্দোলনের অংশ হবে না।
এই মন্তব্য বহু পর্যবেক্ষককে অবাক করেছে, কারণ সাড়ে চারশো বছরের বেশি পুরনো বাবরি মসজিদ গুঁড়িয়ে দিয়ে রাম মন্দির নির্মাণের পেছনে সংঘের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে তিনি একইসঙ্গে একটি সূক্ষ্ম বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, যদিও আরএসএস সামগ্রিকভাবে কোনও আন্দোলনকে সমর্থন দেবে না। তবে ব্যক্তিগত স্তরে কোনো স্বয়ংসেবক যদি সেই আন্দোলনে যুক্ত হন, তাহলে তাদের উপর কোনও নিষেধাজ্ঞা থাকবে না। এই দ্বৈত অবস্থান সংঘের কৌশলগত বিচক্ষণতারই প্রতিফলন।আরও পড়ুন:
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পদে উন্নীত Vipul Pancholi, Alok Aradhe
আরও পড়ুন:
মোহন ভাগবত তার বক্তৃতায় দেশের দুই প্রধান সম্প্রদায়ের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের এক নতুন অধ্যায়ের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, হিন্দুদের সব জায়গায় মন্দিরের খোঁজ করা উচিত নয়। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলোকে একটি সংযত বার্তা দিয়েছেন। তবে, তার কথায় একটি শর্তও ছিল। তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, ভ্রাতৃত্বের স্বার্থে এবং বিতর্ক নিরসনের লক্ষ্যে অযোধ্যা, কাশী ও মথুরার মতো তিনটি নির্দিষ্ট স্থান ছেড়ে দিতে! তিনি এই পদক্ষেপকে ‘ভ্রাতৃত্বের এক বিশাল পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেন।আরও পড়ুন:
এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন অযোধ্যার রাম মন্দির তার পূর্ণতা লাভ করেছে।
তাই, আরএসএসের এই নতুন অবস্থানকে কেবল একটি বিবৃতি হিসেবে না দেখে, বরং ভবিষ্যতের কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, সংঘ সম্ভবত এখন আর আন্দোলন-ভিত্তিক রাজনীতির পরিবর্তে সমাজ গঠন ও সমন্বয়ের ওপর বেশি মনোযোগ দিতে চাইছে। তাদের কাজ তো এ'ন আম হিন্দু নাগরিকরাই করে দিচ্ছে। সবার মনে মুসলিম বিদ্বেষ ঢুকিয়ে দিতে সমর্থ হয়েছে তারা। তাই তাদের আর সেই কাজ করতে হবে না। কাশী-মথুরার মসজিদ অন্যরাই কেড়ে নেবে হয়তো জোর করে।