দীর্ঘদিনের ভ্যাপসা অস্বস্তিকর গরমের মাঝে অবশেষে স্বস্তির ইঙ্গিত দিল আবহাওয়া দপ্তর। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঝড়-বৃষ্টির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। ফলে তাপমাত্রা কিছুটা কমার পাশাপাশি কমতে পারে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিও।
আরও পড়ুন:
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই জোরালো ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। পূর্ব মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া এবং পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে বুধবার থেকেই ভালো বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
শনিবার প্রকাশিত দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আগামী তিন থেকে চার দিন দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রার তেমন পরিবর্তন হবে না। তবে এরপর ধীরে ধীরে তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি পর্যন্ত কমতে পারে।
গত কয়েকদিন ধরে দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী ও সংলগ্ন এলাকায় ভ্যাপসা গরম চরম আকার নিয়েছে। পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যভাগে ‘গরম ও আর্দ্র’ আবহাওয়া জনজীবনকে কার্যত অতিষ্ঠ করে তুলেছে। কলকাতায় আপেক্ষিক আর্দ্রতা সর্বনিম্ন ৬৫-৬৬ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশেরও বেশি থাকায় অস্বস্তি আরও বেড়েছে।
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, ঘূর্ণাবর্ত ও নিম্নচাপ অক্ষরেখার প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করছে। সেই জলীয় বাষ্প উত্তরবঙ্গের পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে শক্তিশালী বজ্রমেঘ তৈরি করছে, যার জেরে সেখানে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে।
শনিবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ির বিভিন্ন এলাকায় ৫৮ থেকে ১৭৬ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। ফলে উত্তরবঙ্গে তাপমাত্রাও তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে। শুক্রবার উত্তরবঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা ছিল মালদহে, ৩৪.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গে সর্বোচ্চ ৩৯.১ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ঝাড়গ্রামে।
আরও পড়ুন:
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, দক্ষিণবঙ্গে এই মুহূর্তে জলীয় বাষ্প মূলত বায়ুমণ্ডলের নিচের স্তরে আটকে থাকায় ‘ঘর্মাক্ত গরম’ বেশি অনুভূত হচ্ছে। শক্তিশালী বজ্রমেঘ তৈরির জন্য যে ধরনের বায়ুপ্রবাহ প্রয়োজন, তা এখনও পুরোপুরি তৈরি হয়নি। তবে আগামী সপ্তাহে পরিস্থিতির পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। তখন দক্ষিণবঙ্গজুড়ে শক্তিশালী বজ্রমেঘ তৈরি হতে পারে এবং কয়েকদিন ধরে ঝড়-বৃষ্টি চলার সম্ভাবনাও রয়েছে।
আরও পড়ুন:
এদিকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আরব সাগর, বঙ্গোপসাগর, আন্দামান সাগর ও আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে। যদিও কেরল উপকূলে বর্ষার প্রবেশ কবে হবে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানায়নি কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর। ফলে মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় আপাতত তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে। বিদর্ভ অঞ্চলে ইতিমধ্যেই তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রির গণ্ডি পেরিয়েছে।