পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক : তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সোমবার সউদি আরবের রিয়াধে অনুষ্ঠিত ওআইসির জরুরি বৈঠকে ইসরাইলকে (Israel ) রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদ  (UN General Assembly) থেকে বরখাস্ত করার আহ্বান জানান।

তিনি (Turkish Foreign Minister Hakan Fidan) বলেন, গাজায় গণহত্যা আর পশ্চিম তীরে দখলদারদের সহিংসতা বন্ধ করতে হলে মুসলিম দেশগুলিকে একসঙ্গে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে। ফিদান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য তিনটি—যুদ্ধ থামানো, ইসলামি উম্মাহর ঐক্যবদ্ধ অবস্থান, আর বিশ্বকে সক্রিয় করা।”

তিনি অভিযোগ করেন, গাজার অর্ধেক মানুষ আজ দুর্ভিক্ষের মুখে, রাষ্ট্রসংঘ পর্যন্ত এটাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দুর্ভিক্ষ’ ঘোষণা করেছে।

কাতার-ইজিপ্ট মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব হামাস মেনে নিলেও ইজরায়েল এখনও “ফিলিস্তিন মুছে ফেলার পথে” এগোচ্ছে। তাই তিনি জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ দেওয়ার পাশাপাশি ইজরায়েলের অংশগ্রহণ স্থগিত করার আহ্বান জানান।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ইউনূসের ৭ প্রস্তাব

ওআইসি-এর যৌথ বিবৃতিতেও বলা হয়েছে, ইসরাইলের সদস্যপদ আদৌ রাষ্ট্রসংঘ সনদের সাথে মানানসই কিনা, তা নতুন করে খতিয়ে দেখা উচিত। এমন পদক্ষেপের ঐতিহাসিক নজিরও রয়েছে।
১৯৭৪ সালে রাষ্ট্রসংঘ দক্ষিণ আফ্রিকার এপার্টহাইড শাসনকে বরখাস্ত করেছিল। যদিও নিরাপত্তা পরিষদে মার্কিন ভেটোর কারণে স্থায়ী বহিষ্কার হয়নি, তবে সাধারণ পরিষদ তাদের কাজকর্মে অংশগ্রহণ আটকে দেয়।

[caption id="attachment_152409" align="aligncenter" width="864"] তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান[/caption]

মানবাধিকার সংস্থাগুলি বলছে, একই রাস্তায় ইজরায়েলকেও চাপ দেওয়া সম্ভব। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে ) ২০২৪ এ জানিয়ে দেয়, ইসরাইলের দখলদারিত্ব অবৈধ এবং তা বর্ণবিদ্বেষ ও এপার্টহাইডের শামিল। অ্যামনেস্টি, হিউম্যান রাইটস ও ইসরাইলি সংস্থা বেতসেলেমও একে “এপার্টহাইড শাসন” আখ্যা দিয়েছে।ফিদানের দাবি, দেরি করলে ইতিহাস ক্ষমা করবে না—এখনই ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়ানোর সময়।