পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: উত্তরাখণ্ডের রাজধানী দেরাদুনে এক নজিরবিহীন ঘটনা সামনে এসেছে। পরীক্ষায় অসদুপায় বা টুকলি করার দায়ে এক ছাত্রকে ধরার পরের দিন, সেই ছাত্রের পুলিশ অফিসার বাবা দলবল নিয়ে সরকারি কলেজে ঢুকে শিক্ষকদের ওপর নৃশংসভাবে হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ। মারধরের এই সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতেই তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর পরেই ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে ওই পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টর বা উপ-পরিদর্শককে তড়িঘড়ি সাসপেন্ড বা সাময়িক বরখাস্ত করেছে প্রশাসন।
আরও পড়ুন:
ঘটনার সূত্রপাত গত ৪ জুন, দেরাদুনের পিঠুবালার 'গভর্নমেন্ট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট'-এ।
সেখানে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শেষ বর্ষের ছাত্র কবীর কান্দওয়ালকে পরীক্ষার নিয়ম লঙ্ঘন করে অন্য পরীক্ষার্থীদের সাথে কথা বলতে ও টুকলি করতে দেখেন পরিদর্শকরা। শিক্ষকেরা তাকে খাতা জমা দিয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বললে ওই ছাত্র শিক্ষকদের হুমকি দিয়ে বলে, তার বাবা একজন বড় পুলিশ অফিসার। অভিযোগ, এই ঘটনার পরের দিন অর্থাৎ ৫ জুন, ওই ছাত্রের বাবা তথা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর মহেশ কান্দওয়াল বেশ কয়েকজন বহিরাগতকে সাথে নিয়ে সোজা কলেজের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষে জোরপূর্বক ঢুকে পড়েন। সেখানে উপস্থিত শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীদের চরম গালিগালাজ করার পাশাপাশি কলেজের সম্পত্তি ভাঙচুর করা হয়।ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ঘরের ভেতরে শিক্ষকদের দিকে সজোরে চেয়ার ছুঁড়ে মারা হচ্ছে এবং তাঁদের ওপর শারীরিক নিগ্রহ চালানো হচ্ছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে একজন পুলিশ কর্মীর এমন গুন্ডামির ভিডিও সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। দেরাদুনের সিনিয়র সুপারিন্টেন্ডেন্ট অফ পুলিশ প্রমেন্দ্র সিং দোবাল ওই সাব-ইন্সপেক্টরকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ছাত্র এবং তার পুলিশ অফিসার বাবা—উভয়ের বিরুদ্ধেই ফৌজদারি মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই হামলার সময় রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর আরও একজন সাব-ইন্সপেক্টর সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে এসটিএফ কর্তাদের কাছে একটি বিশেষ রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।